Monday, January 17, 2022

পাঁচ বছরে ইন্টারনেট ব্যাংকিং বেড়ে দ্বিগুণ

জনপ্রিয় পোস্ট

সহজে আর্থিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের। কারণ প্রযুক্তির কল্যাণে ঘরে বসেই সেরে ফেলা যাচ্ছে প্রয়োজনীয় আর্থিক লেনদেন-সম্পর্কিত সব কাজ। ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এক হিসাবের লেনদেন দেশের যেকোনো শাখায় সম্পন্ন করা, নানা রকম বিল পরিশোধ, কম্পিউটার বা মুঠোফোনে হিসাব পরিচালনা, টাকা পাঠানো, অনলাইন কেনাকাটাসহ ব্যাংকের অনেক কাজই এখন করা যাচ্ছে যখন-তখন যেকোনো জায়গা থেকে। ফলে জীবনযাত্রাও হয়ে উঠছে অনেক সহজ।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু বাংলাদেশে নয়, ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের জনপ্রিয়তা দিনের পর দিন বাড়ছে বিশ্বব্যাপী। তবে করোনার কারণে তথ্যপ্রযুক্তি ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের কদর বেড়েছে আগের চেয়ে অনেকগুণ। এ ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকার পাশাপাশি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যাংক লেনদেন হয়েছে ২০ লাখ ৭৯ হাজার ৫২৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা ২০১৬ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। পাঁচ বছর আগে ২০১৬ সালে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যাংক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৩ লাখ ৩৬ হাজার ২৬৪ কোটি ১০ লাখ টাকা। ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মধ্যে রয়েছে চেক ক্লিয়ারিং, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, ইন্টারন্যাশনাল কার্ড এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মতো উপাদান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চেক ক্লিয়ারিংয়ের পরিমাণ মোট ১৫ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তবে পাঁচ বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ১১ লাখ ২৯ হাজার ৮৯৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২০২০ সালের প্রথম ৯ মাসে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে ৯ হাজার ৮৯৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। কিন্তু পাঁচ বছর আগে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় অর্ধেক। ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ লেনদেনের পরিমাণ ছিল চার হাজার ৮১৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ক্রেডিট কার্ডের মধ্যে রয়েছে এটিএম, সিআরএম, পিওএস ও ই-কমার্সভিত্তিক লেনদেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং উদ্বোধন করলো পদ্মা ব্যাংক

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এটিএম বুথে ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনে যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে। কারণ ২০১৬ সালে এটিএম বুথে ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছিল ৬৩ হাজার ৩১১ কোটি টাকা। তবে সদ্য সমাপ্ত বছরের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) এই লেনদেন বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার ৭৬৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

এদিকে ২০২০ সালে ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে এক লাখ ২৪ হাজার ৩৭৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা। পাঁচ বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ৬৮ হাজার ৮৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল কার্ডের মাধ্যমে হওয়া লেনদেনের পরিমাণ এসে পৌঁছেছে এক হাজার ১০০ কোটি টাকায়, পাঁচ বছর আগে যার পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৯৮৬ কোটি ৪০ লাখ।

আলোচ্য সময়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে তিন লাখ ৯৭ হাজার ৯৮১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। কিন্তু পাঁচ বছর আগে এই লেনদেনের পরিমাণ ছিল অর্ধেকেরও কম। ২০১৬ সালের প্রথম ৯ মাসে এক লাখ ২৭ হাজার ১৭৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা লেনদেন হয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রমকেই ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা অনলাইন ব্যাংকিং বলে। এক্ষেত্রে ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে ব্যাংকের নির্দিষ্ট সুরক্ষিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একজন গ্রাহক তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে। অ্যাকাউন্টে প্রবেশের জন্য ব্যাংক গ্রাহককে প্রয়োজনীয় তথ্য (সাধারণত একটি আইডি ও পাসওয়াার্ড) সরবরাহ করে। গত শতাব্দীর আশির দশকের শুরুতে কাগুজে মুদ্রার অনলাইন ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়।

ইন্টারনেট ব্যাংকিং, কার্ড সেবা ও মোবাইল ব্যাংকিং এ তিন মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুতই। ফলে যেকোনো ব্যাংকে টাকা পাঠানো, পরিষেবা মাশুল, টিকিট কেনা, স্কুল বেতন, প্রতি মাসের কিস্তির টাকা দেয়াসহ সব ধরনের ব্যক্তিগত লেনদেন করা যাচ্ছে। আর কার্ড ও মোবাইল ব্যাংকিং তো রয়েছেই যেকোনো সময়ের নগদ টাকার চাহিদা মেটাতে। এসব সেবার নিরাপত্তা বাড়াতে দিন দিন যুক্ত হয়েছে আঙুল ও চোখের মাধ্যমে গ্রাহক যাচাই, কিউআর কোড, ব্লক চেইনসহ নানা প্রযুক্তি।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ পোস্ট

ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার নিয়োগ দেবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, বেতন ৫০ হাজার

ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড (Dutch Bangla Bank Limited) একটি স্বনামধন্য এবং শীর্ষস্থানীয় বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংক। ব্যাংকটিতে “ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার” পদে...

এ সম্পর্কিত আরও