নিজেই বাড়িয়ে নিতে পারেন কম্পিউটারে কার্যক্ষমতা

0

দীর্ঘদিনের ব্যবহারে আপনার পুরোনো পিসিকে আর সময়ের সাথে উপযোগী মনে হচ্ছে না। এদিকে নতুন একটি পিসি কেনার মতো অবস্থাতেও আপনি নেই। সেক্ষেত্রে সেই পুরোনাে ধীর গতির পিসির উপর ভরসা করেই চলতে হবে আপনাকে। এই পুরােনাে পিসিতে খানিকটা গতির সঞ্চার করার কিছু টিপস তুলে ধরা হলাে আমাদের আজকের এই পোস্টে।

দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তি বিশ্বের প্রেক্ষাপটে যেকোনো প্রযুক্তি পণ্যই খুব দ্রুত পুরােনাে হয়ে যায়। ব্যক্তিগত কম্পিটারের ক্ষেত্রে একই কথা প্রযােজ্য। বলতে গেলে প্রতি বছরই হাজি হচ্ছে নতুন ধরনের প্রসেসর এবং অন্যান্য যন্ত্রাংশ। নতুন এসব হার্ডওয়্যারের সমন্বয়ে তৈরি নতুন পিসির কাছে এক বছর আগে কেনা পিসিটিও ব্যাকডেটেড মনে হতে পারে। কিন্তু বছর বছর তাে আর নিজের পিসিকে বদলে নেওয়া সম্ভব নয়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে ছােটখাট কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনার পুরােনাে পিসিতে সংযােজন করতে পারেন বাড়তি গতি। বেশ সহজ এই পদ্ধতিগুলাে বাস্তবায়ন করতে খুব বেশি জটিলতাও পােহাতে হবে না।

স্টার্টআপের ভার কমান:

কম্পিউটার চালুর সময়েই এক গাদা প্রােগ্রাম রান করা শুরু করে। ফলে পিসি শুরু হতে না হতেই গতির দিক থেকে পিছিয়ে পড়ে। তাই স্টার্টআপে যত কম প্রােগ্রাম রান করানাে যায়, ততই ভালাে।

হার্ডওয়্যারের জন্য প্রয়ােজনীয় সিস্টেম প্রােগ্রাম বা প্রসেস, অ্যান্টিভাইরাস প্রভৃতি প্রােগ্রাম অবশ্য পিসি চালু হওয়ার শুরু থেকেই রান করা দরকার। কিন্তু এর বাইরেও নানা ধরনের প্রােগ্রাম চালু হয়ে যায় পিসিতে শুরু থেকেই, যেগুলােকে সাধারণত পিসিতে নিয়মিত ব্যবহারও করা হয় না। এই ধরনের প্রােগ্রামগুলােকে নিষ্ক্রিয় করে রাখতে হবে স্টার্টআপ থেকে। এর জন্য উইন্ডােজের রান কমান্ডে গিয়ে লিখতে হবে ‘msconfig’। সেখানকার উইন্ডােতে চলে আসবে স্টার্টআপে চালু হওয়া প্রােগ্রামের তালিকা। সেই তালিকা থেকে বেছে বেছে শুরুতেই দরকার এমন প্রােগ্রামগুলাে বাদ দিয়ে বাকিগুলােকে নিষ্ক্রিয় করে রাখুন। তাতে পিসিতে শুরু থেকেই ভালাে একটি গতি লাভ করতে পারবেন।

অপ্রয়ােজনীয় সফটওয়্যার দূর করুন:

পিসিতে অপারেটিং সিস্টেম বা পিসি নির্মাতার পক্ষ থেকেই বেশ কিছু প্রােগ্রাম বা সফটওয়্যার ইন্সটল করা থাকে কিংবা পিসি যে দোকান থেকে কিনবেন, সেখান থেকেও অনেক সফটওয়্যার ইন্সটল করে দেওয়া থাকে, যার অনেকগুলােই আপনার প্রয়ােজন নাও হতে পারে। এই ধরনের অপ্রয়ােজনীয় সফটওয়্যার বা প্রােগ্রাম আপনার পিসিকে কেবল ভারিই করে দেবে, কোনাে কাজে দেবে না। এই কারণে এই ধরনের প্রােগ্রামগুলােকে পিসি থেকে বিদায় করে দেওয়াই ভালাে।

সিসি ক্লিনার, পিসি ডিক্র্যাপিফায়ার, ড্রপইট প্রভৃতি সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই কাজগুলাে সহজেই করে ফেলতে পারবেন। এছাড়া পিসিতে ইন্সটল করা অপ্রয়ােজনীয় সফটওয়্যারগুলােকেও আনইন্সটল করে ফেলুন।

যেসব সফটওয়্যার ব্যবহার করেন না, সেগুলাে ইন্সটল করা থাকলে কেবল আপনার পিসির স্টোরেজ আর মেমােরিতে নেতিবাচক প্রভাবই ফেলবে।

ডিফ্র্যাগমেন্ট করুন হার্ডডিস্ক:

হার্ডডিস্কে তাে প্রতিনিয়তই একের পর এক তথ্য জমা হতে থাকে। হার্ডডিস্ক থেকে কোনাে তথ্য ডিলিট করে দিলেও আসলে সেসব তথ্য হার্ডডিস্কে থেকেই যায়। নতুন কিছু হার্ডডিস্কে সংরক্ষণ করলে সে শুরু ওভাররাইটের কাজটি করে থাকে। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে হার্ডডিস্কে তথ্য সংরক্ষণের ক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়। এজন্য নিয়মিত বিরতিতে হার্ডডিস্ককে ডিফ্র্যাগমেন্ট করা দরকার। উইন্ডােজের বিল্ট-ইন ডিফ্র্যাগমেন্টার ছাড়াও থার্ড পার্টি সফটওয়্যার রয়েছে এই কাজের জন্য। এতে হার্ডডিস্কের কর্মক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে যায়।

হার্ডওয়্যারকেও পরিচ্ছন্ন রাখুন:

পিসি থেকে অপ্রয়ােজনীয় সফটওয়্যারের জঞ্জাল দূর করাটা যেমন প্রয়ােজনীয়, তেমনি পিসির হার্ডওয়্যারে ধুলাে-ময়লা জমলে সেগুলােকেও দূর করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় পিসির কেনার পর কয়েক বছর পার হয়ে গেলেও পিসির কেসিংটি খােলা হয় না। এতে করে অনেক সময়ই কেসিংয়ের মধ্যে থাকা হার্ডওয়্যারগুলােতে ময়লার পুরু স্তর জমে যায়। ফলে প্রসেসর, RAM, গ্রাফিক্স কার্ড প্রভৃতি হার্ডওয়্যার পরিচালনার সময় অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন হতে পারে যা পিসির জন্য ক্ষতির। নিয়মিত পিসির হার্ডওয়্যারকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে তা হার্ডওয়্যারগুলােকে সঠিকভাবে চলতে সহায়তা করে।

নতুন উইন্ডােজ ইন্সটল করুন:

উইন্ডােজ অপারেটিং সিস্টেম নিজেই সময়ের সাথে ধীরগতির হয়ে যায়। তাই সফটওয়্যার বিষয়ক টিপসগুলাে অনুসরণ করার পরও সন্তোষজনক ফলাফল না পেলে আপনার উইন্ডােজ অপারেটিং সিস্টেমটিকেই নতুন করে ইন্সটল করে নিন। এর আগে আপনার প্রয়ােজনীয় সিস্টেম ডাটা বা হিস্টোরি সংরক্ষণ করতে ভুলবেন না। আর খুব ভালাে হয় যদি গােটা হার্ডডিস্কের সকল ডাটার ব্যাকআপ অন্য কোথাও রেখে গােটা হার্ডডিস্ককে ফরম্যাট করে নতুন পাটিশন দিয়ে উইন্ডােজ ইন্সটল করে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে পিসির গতিতে নিজেই চমকে যাবেন আশা করা যায়।

এসএসডি ব্যবহার করুন:

হার্ডডিস্কের তুলনায় সলিড স্টেট ড্রাইভ (এসএসডি) অনেক বেশি দ্রুততার সাথে কাজ করে থাকে। তাই হার্ডডিস্কের বদলে এসএসডি ব্যবহার করতে পারলে তথ্য স্থানান্তরসহ পিসির বিভিন্ন কাজেই বাড়তি গতি পাবেন। এসএসডির দাম অবশ্য তুলনামূলকভাবে একটু বেশি। তবে হার্ডডিস্কের তুলনায় এর স্থায়িত্বও বেশি। তাই গতির সাথে সাথে তথ্যের সুরক্ষাতেও এসএসডি স্টোরেজ আপনার সহায় হয়ে উঠতে পারে।

নতুন গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করুন:

পিসিতে সাধারণ কাজগুলাে ঠিকঠাক মতাে করতে পারলেও হয়তাে দেখা যাচ্ছে এইচডি ভিডিও দেখতে গিয়ে বা গেম খেলতে গিয়ে বিরক্তির চূড়ান্তে পৌঁছে যেতে হচ্ছে। গােটা পিসির বদলে একটি আপগ্রেডেড গ্রাফিক্স কার্ডই এক্ষেত্রে সমাধান হয়ে আসতে পারে। আসলে হাই-এন্ড সব গেম কিংবা এইচডি ভিডিওগুলাের জন্য গ্রাফিক্স কার্ডের ব্যাকআপ গুরুত্বপূর্ণ। ডুয়াল কোর বা কোর টু ডুয়াে প্রসেসরের সাথে ভালাে একটি গ্রাফিক্স কার্ড পিসির পারফর্ম্যান্সকে অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে।

আশা করছি উপরের টিপসগুলো যথাযথভাবে অনুসরণের মাধ্যমে আপনার পুরোনো পিসিতে গতির সঞ্চার হবে।
সূত্র: ইন্টারনেট।

Leave a Reply