বেসরকারি ব্যাংকে পদসোপান প্রসঙ্গে: সমন্বয় জরুরী

0

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোয় ‘অফিসার’ থেকে ‘ব্যবস্থাপনা পরিচালক’ পর্যন্ত ধাপ মাত্র ৯টির মতো এবং পদের নামকরণগুলোও প্রায় একই রকম। যেমন, অফিসার থেকে ঊর্ধ্ব ক্রমানুসারে সোনালী ব্যাংকের পদক্রম হচ্ছে: ‘অফিসার > সিনিয়র অফিসার > প্রিন্সিপাল অফিসার > সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার > এজিএম > ডিজিএম > জিএম > ডিএমডি > এমডি। ফলে একজন সফল ব্যাংকারের ওপরের দিকে জিএম বা ডিএমডি লেভেল পর্যন্ত পদোন্নতি পাওয়াটা সম্ভব হয়।

কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অনিয়মিত ও বিলম্বিত পদোন্নতি এবং দীর্ঘ পদসোপানের কারণে ১৫টি ধাপ অতিক্রম করাটা অনেক সফল ব্যাংকারের পক্ষেও সম্ভব হয় না। ৩০ বছর বয়সে চাকরিতে যোগদান করে একজন কর্মকর্তা যদি তিন বছর অন্তর অন্তর নিয়মিতভাবেও পদোন্নতি পান, তাহলেও এত ধাপ অতিক্রম করে এমডি হতে তার প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বছর লাগবে। ফলে এ হিসাবে একজন এমডির বয়স গিয়ে দাঁড়াবে ৭৫ বছর, যা বাস্তবসম্মত নয়; কারণ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মতে একজন এমডির বয়স হবে সর্বোচ্চ ৬৫ বছর। তাছাড়া একই ব্যাংকে ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চাকরি করে এমডি হওয়ার নজিরও খুব কমই আছে। তাই বেসরকারি ব্যাংকে দুই বছর পরপর পদোন্নতি ব্যবস্থা (কিছু ব্যাংকে বর্তমানেও প্রচলিত আছে) অথবা, ‘প্রবেশনারি অফিসার’ বা ‘ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার’-এর নিচের স্তরে মূল ধারার ব্যাংকিংয়ে সর্বোচ্চ দুটি গ্রেড এবং ওপরের দিকে ‘ব্যবস্থাপনা পরিচালক’ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১০টি গ্রেড ব্যবস্থা এবং সব বেসরকারি বাংকের জন্য একই পদসোপান চালু করাটাই হবে বাস্তবসম্মত। এতে সবাই হয়তো ডিএমডি-এমডি হয়ে যাবেন না, কিন্তু ক্যারিয়ারের শেষে একটি অধিকতর সম্মানজনক পদ নিয়ে অবসরে যেতে পারবেন।

বিদেশি ব্যাংকগুলো যেহেতু তাদের নিজেদের দেশে নিবন্ধিত, তাই তাদের ব্যাংকারদের পদ-পদবি আমাদের দেশীয় ব্যাংকগুলো থেকে আলাদা হতেই পারে।

আসলে দেশে এতগুলো বেসরকারি ব্যাংক, কিন্তু একেক ব্যাংকে কর্মকর্তা বা নির্বাহী ব্যাংকারদের পদবি একেক রকম। যেমন, ‘প্রবেশনারি অফিসার’ কিংবা ‘ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার’দের চাকরি স্থায়ী হওয়ার পর তাদের বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে বিভিন্ন নামে, যেমন, অফিসার, সিনিয়র অফিসার, ফার্স্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার, এক্সিকিউটিভ অফিসার, প্রিন্সিপাল অফিসার প্রভৃতি বিভিন্ন নামে পদায়ন করা হয়।

আবার পদবির নাম বিবেচনায় কোনো কোনো ব্যাংকের একটি সিনিয়র পদ, অন্য ব্যাংকের জন্য জুনিয়র পদ। একদম ওপরের দিকে চার-পাঁচ ধাপে (ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে নিচের দিকে এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত) পদবি সব ব্যাংকে প্রায় একই হলেও নিচের দিকে অনেকটাই অমিল। এতে এক ব্যাংকের ব্যাংকারদের সঙ্গে অন্য ব্যাংকের ব্যাংকারদের সিনিয়রিটি বা জুনিয়রিটি তুলনা করতে, তাদের পদের বদলে বেতন-ভাতাদির তুলনা করে দেখতে হয় যে কে সিনিয়র, আর কে জুনিয়র।

‘প্রবেশনারি অফিসার’ বা ‘ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার’ পদটিকে যদি ভিত্তি ধরা হয়, তাহলে ‘ব্যবস্থাপনা পরিচালক’ পর্যন্ত ১২ থেকে ১৫টি পদ রয়েছে প্রতিটি বেসরকারি ব্যাংকেই। এভাবে ‘প্রবেশনারি অফিসার’ বা ‘ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার’ পদে যোগদান করা একজন ব্যাংকারকে ‘ব্যবস্থাপনা পরিচালক’ পদ পর্যন্ত যেতে ১২ থেকে ১৫টি ধাপ অতিক্রম করতে হয়।

এছাড়া ‘প্রবেশনারি অফিসার’ বা ‘ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার’ পদের নিচের পদে, মূল ধারার ব্যাংকিংয়ে আরও তিনটি থেকে পাঁচটি পদের ব্যাংকার থাকেন, যেমন, ট্রেইনি অফিসার, ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট, ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার-১, জুনিয়র অফিসার, জুনিয়র অফিসার-১, ব্যাংকিং অফিসার, অফিসার-১ প্রভৃতি। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স করা ছেলেমেয়েরাও এসব পদে চাকরি করে। তবুও নিচের সারির এসব ব্যাংকার ওপরের দিকে দৃষ্টিপাত করলেই হতাশ হয়ে দেখেন, তার সামনে একে একে প্রায় ২০টির মতো ধাপ; আর ভাবেন, ‘কবে আমি অফিসার হব? কবে হব সিনিয়র অফিসার?’ নির্বাহী হওয়ার স্বপ্ন হয়তো অনেকে দেখার সাহসই করেন না।

সোর্স: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

Leave a Reply