অর্থ ও বাণিজ্য

২০২২ সালে সোনালী ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। ২০২১ সালে এর পরিমাণ ছিলো ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির আমানত বেড়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

রোববার (১ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আফজাল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, বিদায়ী- ২০২২ সাল শেষে ব্যাংকটির ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর আগের বছর এর পরিমাণ ছিলো ৬৯ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ আগের তুলনায় ব্যাংকটির ঋণপ্রবাহ বেড়েছে। একই সময়ে পারফর্মিং লোনের পরিমাণও বেড়েছে। এতে সুদ আয়ের পরিমাণ বেড়েছে। যদি নন-পারফর্মিং লোন বেশি থাকতো তাহলে এত আয় হতো না। কারণ নন-পারফর্মিং লোনের সুদের আয় দেখানো যায় না। বিদায়ী বছরে সোনালী ব্যাংকের ইন্টারেস্ট ইনকাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের চেয়ে ১ হাজার ১২২ কোটি টাকা বেশি। আর আমাদের নেট ইন্টারেস্ট মার্জিন এ বছর ৩৫৩ কোটি টাকা।

তিনি আরও বলেন, সংকটের মধ্যেও সোনালী ব্যাংক ৪১ হাজার কোটি টাকার সরকারের এলসি খুলেছে। এর মধ্যে খাদ্য, সার ও পেট্রোলিয়াম আমদানিতে এসব অর্থের বেশি পরিমাণ ব্যয় করা হয়েছে। দেশের স্বার্থে সোনালী ব্যাংক এসব কাজগুলো করে যাচ্ছে। এলসি থেকে ব্যাংকের কোনো ক্ষতি হয়নি। মূলত সরকারি এলসিগুলো নামমাত্র কমিশন মূল্যে খোলা হয়েছে। কারণ এলসি থেকে আয় খুব কম ১০০ টাকায় কখনো ৪০ বা ৮০ পয়সার মতো। রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে সোনালী ব্যাংকের কোনো এলসি পেন্ডিং নেই বলেও জানান তিনি।

হলমার্ক গ্রুপের ঋণ জালিয়াতির টাকা উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, হলমার্কের যে মামলা চলছে তার অগ্রগতি আছে। তবে তাদের যে সম্পত্তি আছে সেগুলো এখনো বিক্রি করা যায়নি। আমাদের কমিটি এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে। তাদের সম্পত্তিগুলো আমরা আদালতের মাধ্যমে বিক্রি করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি বিকল্প পন্থায়ও বিক্রির প্রচেষ্টা চলছে। মূলত অনেক বড় সম্পত্তি হওয়ার কারণে ক্রেতা পাওয়া কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। তারপরও আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্পত্তি যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি করে দিয়েছে। তারা সরাসরি গিয়ে সম্পত্তিগুলো যাচাই করে প্রতিবেদন জমা দিচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পত্তিগুলো বিক্রি করে ঋণ সমন্বয় করা হবে।

আরও দেখুন: সোনালী ব্যাংক ও ট্যাপের মধ্যে আন্তঃলেনদেন সেবা চালু

এছাড়াও তিনি বলেন, বিদায়ী বছর শেষে রেকর্ড ২ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে সোনালী ব্যাংক। আগের বছর পরিচালন মুনাফা ছিল ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। জামানত ও ঋণের আনুপাতিক হার বর্তমানে ৬০ শতাংশ, যা আগের বছরের চেয়ে ৯ শতাংশ বেশি। আগের বছর ছিলো ৫১ শতাংশ।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button