সব টাকা সরকার নিয়ে গেলে মানুষ ব্যাংকে আর টাকা রাখবে না

0

করোনার কারণে এমনিতেই আমানত কমছে ব্যাংকে। তার ওপর প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংকে জমানো টাকার ওপর আবগারি শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব, আমানতকারীদের আরো নিরুৎসাহিত করবে বলে মনে করে ব্যাংকগুলো। উচ্চ হারে শুল্ক অরোপের প্রস্তাবে, অর্থ পাচার বাড়ার আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

বেসরকারিখাতে কোন পেনশনের ব্যবস্থা না থাকায় সংকটকালীন সময়ে ব্যয় নির্বাহে ব্যাংকে জমানো টাকাই মধ্যবিত্তের অন্যতম ভরসা। কিন্তু গেল বছরগুলোতে ক্রমশ কমিয়ে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সব ধরনের আমানতে সুদের হার কমিয়ে সবোর্চ্চ ৬ শতাংশ নির্ধারণ করে সরকার।

এর মধ্যে প্রস্তাবিত বাজেটে আমানতের ওপর তিনটি স্তরে আবগারি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। আগে ১০ লাখের বেশি থেকে এক কোটি টাকা ব্যাংকে জমা রাখলে আবগারি শুল্ক দিতে হতো আড়াই হাজার টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে এটি বাড়িয়ে করা হয়েছে তিন হাজার টাকা। ১ কোটির ওপরে ৫ কোটি পর্যন্ত আমানতে ২৫ শতাংশ শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ৫ কোটির বেশি হলে দিতে হবে আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বা ৪০ হাজার টাকা।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা ব্যাংকের এমডি এমরানুল হক বলেন, অনেকেই এর ফলে কিছুটা বঞ্চিত হবেন। কারণ ব্যাংকের সুদ হার কমে গেছে।

অন্যদিকে এমটিবি ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, গ্রাহক ব্যাংকে টাকা রাখতে নিরুৎসাহিত হবেন। এটা ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গে যায় না।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, উচ্চ শ্রেণীতে আবগারি শুল্কের পরিমান প্রায় দ্বিগুণ করায় অর্থ পাচার বাড়বে। এক্ষেত্রে আমানতের পরিমান অনুসারে সহনীয় পর্যায়ে শুল্ক বাড়ানোর পরামর্শ।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, ৫ কোটির উপরে গেলে ৪০ হাজার টাকা শুল্ক দেয়া লাগবে। এটা আমি মনে করি যুক্তিসঙ্গত না। সব টাকা সরকার নিয়ে গেলে মানুষ ব্যাংকে আর টাকা রাখবে না।

বর্তমানে ব্যাংক হিসাবে ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১৫০ টাকা এবং এর উপরে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত থাকলে ৫০০ টাকা আবগারি শুল্ক দিতে হয়। সময়টিভি.কম।

Leave a Reply