হোমবিবিধবিশেষ কলামইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা চাই: মুনিরুল মওলা

ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা চাই: মুনিরুল মওলা

সরকার ঘোষিত বাজেট বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। সরকারের উন্নয়ন নীতির বাস্তবায়ন, রাজস্ব জোগান, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অনবদ্য ভূমিকা রাখছে ব্যাংকটি। দেশের সর্ববৃহৎ এ ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব পালন করছেন মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা। আসন্ন বাজেটে নিজের প্রত্যাশা নিয়ে তিনি কথা বলেছেন বণিক বার্তার সঙ্গে।

এবার কেমন বাজেট চান?

গত দুটি বাজেট ছিল নভেল করোনাভাইরাসের মতো বৈশ্বিক দুর্যোগে বেঁচে থাকার। এবারের বাজেট হবে দুর্যোগ কাটিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের। করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এলেও বিশ্বে নিত্যনতুন সংকট তৈরি হচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজার এখন অস্থিতিশীল। আমাদের নিকট প্রতিবেশী শ্রীলংকার অর্থনীতি ধসে গিয়েছে। পাকিস্তানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি অর্থনীতিও বিপর্যস্ত। নেপালের পরিস্থিতিও ভালো নেই। এভাবে দেশে দেশে অর্থনীতির ধস আমাদের জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তা। এ রকম একটি পরিস্থিতিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে আমাদের প্রত্যাশাও বিপুল। বাজেটে করহার কমিয়ে এর আওতা বাড়ানো দরকার। আমাদের জনসংখ্যার সঙ্গে করদাতার সংখ্যা তুলনা করলে সেটি একেবারেই নগণ্য। আরো বেশি সংখ্যায় মানুষ যাতে করজালে আবদ্ধ হয়, সে বিষয়ে কার্যকর প্রদক্ষেপ আশা করছি। তবে বাজেট হওয়া দরকার গণমানুষের কল্যাণে। সম্পদের সুসম বণ্টনের প্রতি নজর দিতে হবে। সরকারের সামাজিক সুরক্ষা খাতের আওতা ও পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

আরও দেখুন:
ব্যাংকিং খাতে সাফল্যের ধারক আতাউর রহমান প্রধান
বিশ্বের সেরা ১০০ ব্যাংকের তালিকায় ঢুকবে ইসলামী ব্যাংক: মুনিরুল মওলা
রিজার্ভ নিয়ে হতাশার কিছু দেখছি নাঃ মুনিরুল মওলা

দেশের অর্থনীতির ঘাড়ে এখন রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতির চাপ। ডলারসহ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে সংকট চলছে। এ সংকট কাটাতে বাজাটে প্রত্যাশা কী?

দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। রেকর্ড আমদানির চাপে ডলারের বাজারে বিদ্যমান সংকট গভীর হচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলসহ পণ্যের দাম যে উচ্চতায় ওঠেছে, সেটি সহসায় কমবে বলে মনে হচ্ছে না। এ অবস্থায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজার স্থিতিশীল রাখতে বাজেটে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দরকার। ডলারের সংকট সহনশীল রাখতে প্রথম প্রদক্ষেপ হলো আমদানিতে লাগাম টানা। এজন্য সবার আগে বিলাসপণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বিদেশী বিনিয়োগ ও রফতানি বাড়াতে বাজেটে দিকনির্দেশনা আশা করছি। বৈধ পথে রেমিট্যান্সকে উৎসাহিত করতে সরকারের আরো অনেক করণীয় রয়েছে।

ব্যাংকের প্রতিটি সেবার ক্ষেত্রেই গ্রাহকদের ভ্যাট-ট্যাক্স গুনতে হচ্ছে। এটি সাধারণ মানুষকে ব্যাংকে আসতে নিরুৎসাহিত করছে কিনা?

ব্যাংকের হিসাব খোলা থেকে শুরু করে প্রতিটি সেবার বিপরীতেই শুল্ক ও কর আছে। এমনকি হিসাব খোলার ক্ষেত্রেও শুল্ক দিতে হয়। জাতীয়ভাবে আমাদের জনগণের সঞ্চয় খুবই কম। সাধারণ মানুষকে সঞ্চয়ে উৎসাহিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রদক্ষেপ নেয়া দরকার। ব্যাংকে সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি ধাপেই গ্রাহককে ভ্যাট দিতে হচ্ছে। একইভাবে ভ্যাট দিতে হয় ঋণের ক্ষেত্রেও। সীমাতিরিক্ত ভ্যাট-ট্যাক্স সাধারণ মানুষকে ব্যাংকে লেনদেনে নিরুৎসাহিত করছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নেই। এক বছরের জন্য ঋণ নিয়ে গ্রাহক যে হারে ভ্যাট দেন, যিনি এক সপ্তাহের জন্য ঋণ নেন, তাকেও একই হারে ভ্যাট দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে আবগারি শুল্ক আদায় করার পদ্ধতিটি অযৌক্তিক।

ব্যাংক খাতে সুশাসন বাড়াতে বাজেটে কী ধরনের পদক্ষেপ আশা করছেন?

খেলাপি ঋণ দেশের ব্যাংক খাতের সমৃদ্ধির প্রতিবন্ধক। আর ইচ্ছাকৃত খেলাপিরা ব্যাংক খাতের সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্তরায়। দেশে অনেক ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি নির্বিঘ্নে আছেন। আদালতে গেলেই রায় ঋণখেলাপিদের অনুকূলে চলে যাচ্ছে। ঋণখেলাপিদেরও সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার হিসেবে আদালতের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু সে অধিকার যেন ন্যায়বিচারের বিপক্ষে চলে না যায়, সেটি দেখতে হবে। ব্যবসায়িক বিপর্যয়ের শিকার হয়ে যে ব্যক্তি ঋণখেলাপি হয়েছেন, তার প্রতি আদালত যে রায় দেবেন, একই ধরনের রায় যদি ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরাও পেয়ে যান, সেটি ন্যায়বিচার নয়। বাজেটে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা প্রত্যাশা করছি।

বাজেট বাস্তবায়নে ইসলামী ব্যাংকের ভূমিকা কী?

সরকার ঘোষিত বাজেট ও এর নীতি বাস্তবায়নে ইসলামী ব্যাংকের ভূমিকা অনবদ্য। দেশের ব্যাংক খাতের মধ্যে আমরা সর্বোচ্চ করদাতা প্রতিষ্ঠান। সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইসলামী ব্যাংকের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। দেশের গত চার দশকের অর্থনীতির সমৃদ্ধি ও বিনির্মাণে আমরা গর্বিত অংশীদার।

দেশে শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ব্যবস্থার উদ্ভাবন ও সফল বাস্তবায়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিল্পায়ন, প্রবাসী সেবা, গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন প্রভৃতির মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক অনবদ্য অবদান রেখেছে। এ ব্যাংকের বিনিয়োগে দেশে ৮০ লক্ষাধিক মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে। দেশের তৈরি পোশাক খাতের ভিত্তি তৈরি হয়েছে আমাদের ব্যাংকের বিনিয়োগের মাধ্যমে। বর্তমানে দেশে ছয় হাজারের বেশি শিল্প-কারখানা এবং দুই হাজারের বেশি কৃষিভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান এ ব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে।

দেশের মোট এসএমই বিনিয়োগের ১১ শতাংশ এককভাবে ধারণ করে ইসলামী ব্যাংক গড়ে তুলেছে প্রায় তিন লাখ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল, স্পিনিং মিল, স্টিল রি-রোলিং, লোহা ও ইস্পাত শিল্প, সিমেন্ট, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ শিল্পের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছে ইসলামী ব্যাংক। দেশের শীর্ষস্থানীয় অনেক শিল্প গ্রুপের জন্মই হয়েছে এ ব্যাংকের হাত ধরে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসলামী ব্যাংক প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকার আমদানি আর ৩ লাখ কোটি টাকার রফতানি বাণিজ্য করে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য অর্থায়নে নেতৃত্ব দিয়েছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রবাসীদের অবিচল আস্থা অর্জন করেছে ইসলামী ব্যাংক। আমরা এককভাবে দেশের এক-তৃতীয়াংশ রেমিট্যান্স আহরণকারী ব্যাংক।

এ সম্পর্কিত আরও দেখুন

Leave a Reply

এ সপ্তাহের জনপ্রিয় পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট