টিআইবিঃ সময়ের সাথে সাথে মানুষের প্রয়োজন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর সেই প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করছে নিত্যনতুন প্রযুক্তি। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে কম্পিউটার জগতের উপর। যেমন,ধরুন আগে সবাই ডেস্কটপ ব্যবহার করত। সময়ের প্রয়োজনে তৈরি হয় ল্যাপটপ। এর পরে আসে ট্যাবলেট যা সহজে বহনযোগ্য। কিন্ত তা তুলনামূলক কম শক্তিশালী। এই সমস্যার কথা চিন্তা করেই তৈরি করা হয়েছে এক নতুন ধরনের কম্পিউটার। যা একইসাথে শক্তিশালী এবং সহজে বহনযোগ্য। আর এরই নাম হাইব্রিড ল্যাপটপ।

হাইব্রিড ল্যাপটপ গুলিকে এমনভাবে তৈরি করা হয় যেন সেগুলোকে কম্পিউটারের পাশাপাশি একটি ট্যাবলেট হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এগুলি তুলনামূলক অনেক পাতলা হয়ে থাকে।

আসুন দেখে নেই ২০১৯ সালে কোন কোন হাইব্রিড বা টু ইন ওয়ান ল্যাপটপ বাজার মাতাতে পারে।

১। মাইক্রোসফট সারফেস বুক টু: মার্কিন টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটের তৈরি সারফেস বুকের এ ভ্যারিয়েন্টটিকে বিশ্বের সেরা টু-ইন-ওয়ান ল্যাপটপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১ দশমিক ৯ গিগাহার্টজ কোয়াড কোর ইন্টেল কোর-আই সেভেন প্রসেসরসমৃদ্ধ ল্যাপটপটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ইন্টেল ইউএইচডি গ্রাফিকস ৬২০ ও এনভিডিয়া জিফোর্স জিটিএক্স ১০৬০ গ্রাফিকস প্রযুক্তি। ১৬ গিগাবাইট এলপিডিডিআরথ্রি র‌্যাম ও ৫১২ গিগাবাইট বিল্ট-ইন স্টোরেজের ডিভাইসটিতে রয়েছে ১৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে, যার আসপেক্ট রেশিও ৩:২, কন্ট্রাস্ট রেশিও ১৬০০: ১ ও রেজল্যুশন ৩২৪০–২১৬০ (২৬০ পিপিআই)।

ইউনিক ফিচার: অসাধারণ ডিসপ্লে ও গেমিংয়ের জন্য উপযোগী শক্তিশালী গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ)।

২। এইচপি এনভি এক্স টু: এইচপির তৈরি আকর্ষণীয় এ হাইব্রিড ল্যাপটপে মিলবে অসাধারণ ব্যাটারি লাইফ। এর প্রসেসর কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ মডেলের। গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিটে রয়েছে অ্যাড্রেনো ৫৪০ প্রযুক্তি। ৮ গিগাবাইট র‌্যাম ও ২৫৬ গিগাবাইট বিল্ট-ইন স্টোরেজের ডিভাইসটিতে রয়েছে ১২ দশমিক ৩ ইঞ্চি এলইডি আইপিএস ডিসপ্লে, যার রেজল্যুশন ১৯২০–১২৮০।

ইউনিক ফিচার: ২০ ঘণ্টার বেশি ব্যাটারি লাইফ, পাতলা ও আকর্ষণীয় ডিজাইন এবং ফোরজি এলটিই সাপোর্ট।

৩। মাইক্রোসফট সারফেস প্রো ফোর: মাইক্রোসফট সারফেস সিরিজের এ ভ্যারিয়েন্ট বাজারে আসা হাইব্রিড ল্যাপটপগুলোর মধ্যে অন্যতম সেরার মর্যাদা পেয়েছে। এতে রয়েছে ২ দশমিক ৪ গিগাহার্টজ ডুয়াল কোর ইন্টেল কোর-আই ফাইভ প্রসেসর। আরো রয়েছে ইন্টেল এইচডি গ্রাফিকস ৫২০ প্রযুক্তি। ৮ গিগাবাইট এলপিডিডিআরথ্রি র‌্যাম ও ২৫৬ গিগাবাইট বিল্ট-ইন স্টোরেজ পাওয়া যাবে এ ডিভাইসে। এর ডিসপ্লের আকার ১২ দশমিক ৩ ইঞ্চি, যার রেজল্যুশন ২৭৩৫–১৮২৪, কন্ট্রাস্ট রেশিও ১৩০০:১ ও আসপেক্ট রেশিও ৩:২। এছাড়া এর শতভাগ এসআরজিবি কালারসমৃদ্ধ ডিসপ্লেতে মিলবে টেন-পয়েন্ট মাল্টি-টাচ সুবিধা।

ইউনিক ফিচার: পাতলা ও হালকা। কিবোর্ড ও স্টাইলাসের পারফরম্যান্সও অনেক ভালো।

৪। লেনোভো ইয়োগা ৯০০ এস: হালকা ওজনের এ টু-ইন-ওয়ান ল্যাপটপের ডিসপ্লে ও কিবোর্ড অংশকে পরস্পরের বিপরীত পাশে ঘোরানো যায়। এতে রয়েছে ১ দশমিক ১ গিগাহার্টজ ডুয়েল কোর ইন্টেল কোর-এম ফাইভ প্রসেসর। আরো রয়েছে ইন্টেল এইচডি গ্রাফিকস ৫১৫ প্রযুক্তি। ৪ গিগাবাইট এলপিডিডিআরথ্রি র‌্যাম ও ১২৮ গিগাবাইট বিল্ট-ইন স্টোরেজ পাওয়া যাবে এ ডিভাইসে। এর মাল্টি-টাচ সুবিধাসম্পন্ন ফুল এইচডি আইপিএস ডিসপ্লের আকার ১২ দশমিক ৫ ইঞ্চি, যার রেজল্যুশন ১৯২০–১০৮০।

ইউনিক ফিচার: আকর্ষণীয় ডিজাইন ও টুইস্ট অ্যান্ড বেন্ড সুবিধা।

৫। স্যামসাং নোটবুক নাইন প্রো: অলরাউন্ডার এ হাইব্রিড ল্যাপটপে ব্যবহার করা হয়েছে ইন্টেল কোর-আই সেভেন প্রসেসর। গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিটে রয়েছে ইন্টেল এইচডি গ্রাফিকস ৬২০-এএমডি রেডিওন ৫৪০ গ্রাফিকস (২ জিবি জিডিডিআরফাইভ) প্রযুক্তি। ৮ গিগাবাইট ও ১৬ গিগাবাইট উভয় ভ্যারিয়েন্টেই মিলবে ২৫৬ গিগাবাইট বিল্ট-ইন স্টোরেজ। এর ডিসপ্লেও পাওয়া যাবে দুটি সাইজে— ১৩ দশমিক ৩ ইঞ্চি ও ১৫ দশমিক ৬ ইঞ্চি। উভয় ক্ষেত্রেই ডিসপ্লেতে টাচ স্ক্রিন প্যানেল সুবিধা মিলবে। ডিসপ্লের রেজল্যুশন ১৯২০–১০৮০।

ইউনিক ফিচার: প্রিমিয়াম লুক, দুটি ভিন্ন সাইজ।

৬। এসার সুইচ আলফা ১২: কনভার্টিবল এ ট্যাবলেটে রয়েছে ২ দশমিক ৩ গিগাহার্টজ ইন্টেল কোর-আই ফাইভ প্রসেসর। এর গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিটে ব্যবহার করা হয়েছে ইন্টেল এইচডি গ্রাফিকস ৫২০ প্রযুক্তি। ৮ গিগাবাইট র্যামের ল্যাপটপটির বিল্ট-ইন স্টোরেজে থাকছে দুটি ভ্যারিয়েন্ট— ১২৮ ও ২৫৬ গিগাবাইট। ডিভাইসটিতে রয়েছে ১২ ইঞ্চি ডিসপ্লে, যার আসপেক্ট রেশিও ১৬:৯ ও রেজল্যুশন ২১৬০–১৪৪০।

ইউনিক ফিচার: লিকুইড কুলিং প্রযুক্তি, পাতলা ও ওজনে হালকা।

৭। গুগল পিক্সেলবুক: ক্রোম অপারেটিং সিস্টেমচালিত এ ল্যাপটপে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে। ইন্টেল কোর-আই ফাইভ ও কোর-আই সেভেন প্রসেসর— উভয় ভ্যারিয়েন্টেই ল্যাপটপটি পাওয়া যাবে। এতে রয়েছে ইন্টেল এইচডি গ্রাফিকস ৬১৫। প্রসেসরের মতো র্যাম ও বিল্ট-ইন স্টোরেজেও থাকছে দুটি ভ্যারিয়েন্ট— যথাক্রমে ৮ ও ১৬ গিগাবাইট এবং ১২৮ ও ৫১২ গিগাবাইট। তবে স্ক্রিনের সাইজ একটাই— ১২ দশমিক ৩ ইঞ্চি। গুগল পিক্সেলবুকের কিউএইচডি এলসিডি টাচস্ক্রিন ডিসপ্লের রেজল্যুশন ২৪০০–১৬০০।

ইউনিক ফিচার: টু-ইন-ওয়ান ল্যাপটপ ক্যাটাগরিতে অন্যতম সেরা ডিসপ্লে। অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ সাপোর্ট করে খুব ভালোভাবে।

৮। লেনোভো ফ্লেক্স সিক্স: শক্তিশালী এ হাইব্রিড ল্যাপটপে ব্যবহার করা হয়েছে ইন্টেল কোর-আই ফাইভ প্রসেসর। এর গ্রাফিকস সিস্টেমও ইন্টেলের, যার মডেল এইডি গ্রাফিকস ৬২০। ৮ গিগাবাইট র্যামের ল্যাপটপটির বিল্ট-ইন স্টোরেজে থাকছে দুটি ভ্যারিয়েন্ট— ১২৮ ও ২৫৬ গিগাবাইট। ডিভাইসটির ডিসপ্লের আকার ১৪ ইঞ্চি, যার রেজল্যুশন ১৯২০–১০৮০।

ইউনিক ফিচার: শক্তিশালী প্রসেসর ও অসাধারণ পারফরম্যান্স।

৯। এইচপি স্পেকটার এক্স৩৬০: ইন্টেল কোর-আই সেভেন প্রসেসরসমৃদ্ধ শক্তিশালী ল্যাপটপটিতে ব্যবহার করা হয়েছে এনভিডিয়া জিফোর্স এমএক্স১৫০ গ্রাফিকস সিস্টেম। এর র্যাম ১৬ গিগাবাইটের। বিল্ট-ইন স্টোরেজ রয়েছে ৫১২ গিগাবাইট। ল্যাপটপটির এলসিডি টাচস্ক্রিনের আকার ১৫ দশমিক ৬ ইঞ্চি, যার রেজল্যুশন ৩১৬০–২১৪০।

ইউনিক ফিচার: আকর্ষণীয় ডিজাইন ও দারুণ পারফরম্যান্স।

১০। স্যামসাং গ্যালাক্সি ট্যাব প্রো এস: অসাধারণ এ মিডিয়া ট্যাবলেটে রয়েছে ডুয়াল কোরের ৯০০ মেগাহার্টজ ইন্টেল কোর-এম থ্রি প্রসেসর। গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিটে রয়েছে ইন্টেল এইচডি গ্রাফিকস ৫১৫ প্রযুক্তি। ৪ গিগাবাইট র্যামের ট্যাবলেটটিতে মিলবে ১২৮ গিগাবাইট বিল্ট-ইন স্টোরেজ। ফুল এইচডি প্লাস অ্যামোলেড ডিসপ্লের আকার ১২ ইঞ্চি, রেজল্যুশন ২১৬০–১৪৪০।

ইউনিক ফিচার: পাতলা, অসাধারণ অ্যামোলেড ডিসপ্লে।

সূত্রঃ বনিক বার্তা

১টি মন্তব্য

Leave a Reply