চেক ডিজঅনার মামলা করবেন যেভাবে

0

যদি কোন ব্যক্তি অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংক চেক দেয় এবং পরবর্তীতে সেই চেক টাকায় রূপান্তরিত না করতে পারলে চেক প্রদানকারী অ্যাকাউন্টধারীরের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সারাবাংলা ডটনেটের নিয়মিত আয়োজন সারাবাংলার লিগ্যাল চেম্বার ‘চেক ডিজঅনার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে চেক ডিজঅনার এবং চেকের টাকা উদ্ধার বিষয়ক আলোচনায় এ সংক্রান্ত নানা দিক উঠে আসে।

সারাবাংলা ডটনেটের পক্ষের ব্যারিস্টার ইফ্ফাত গিয়াস আরেফিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও যুক্ত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক এবং ব্যারিস্টার মো. আব্দুল্লাহ আল শেখ।

সারাবাংলার লাইভ অনুষ্ঠানে বক্তরা জানান, কীভাবে একটা চেকের মামলা করতে হয়, আর সেই চেকের টাকা কীভাবে উদ্ধার করা যায়।

বক্তরা বলেন, পর্যাপ্ত টাকা না থাকার কারণে চেক ডিজঅনার হলে চেক প্রদানকারী অ্যাকাউন্টধারীর বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে। অপর্যাপ্ততার কারণে ব্যাংকের চেক প্রত্যাখ্যাত আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তহবিল অপর্যাপ্ততায় কোন চেক প্রত্যাখ্যাত বা ডিজঅনার হলে সেইসব অপরাধের প্রতিকারের সুরক্ষা বিধান করা হয়েছে নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের (এনআই অ্যাক্ট) ১৩৮, ১৪০ ও ১৪১ ধারায়।

এনআই অ্যাক্ট এ মামলা দায়ের করতে হলে কোন দায় অথবা ঋণ পরিশোধের জন্য চেকটা ব্যবহার করতে হবে। স্বাক্ষরিত চেকটি প্রদানকারী কর্তৃক ইস্যুর তারিখ থেকে ছয় মাস সময়ের মধ্যে নগদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে উপস্থাপন করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক চেকটি অপরিশোধিত অবস্থায় ফেরত আসার অর্থাৎ ডিজঅনার হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে একাউন্টধারীকে চেক ডিজঅনার হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে চেকে উল্লিখিত অংকের টাকা প্রদানের দাবি জানাতে হবে।

চেক তিনভাবে দাবি জানাতে হয়- নোটিশ গ্রহীতার হাতে সরাসরি নোটিশ প্রদান করে অথবা প্রাপ্তি স্বীকারপত্রসহ রেজিস্টার্ড ডাকযোগে চেক প্রদানকারীর জ্ঞাত ঠিকানায় এবং সর্বশেষ বসবাসের ঠিকানা কিংবা বাংলাদেশে তার ব্যবসায়িক ঠিকানা বরাবর নোটিশ প্রেরণ করে। সর্বশেষ কোনো জাতীয় বাংলা দৈনিকে নোটিশটি বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করে। এ তিন পদ্ধতির যে কোন একটা পদ্ধতি অনুসরণ করলে হবে।

লিগ্যাল নোটিশ প্রেরণ না করে সরাসরি মামলা করা যাবে না। চেক প্রদানকারী নোটিশ প্রাপ্তির পর চেকের প্রাপক বরাবরে চেকে উল্লেখিত অংকের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে মামলা করতে হবে। অভিযোগ নালিশি মামলা বা সিআর মামলা হিসেবে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করতে হবে। মামলা করার সময় আদালতে মূল চেক, ডিজঅনারের রসিদ, আইনি নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তির কপি, পোস্টাল রসিদ, প্রাপ্তি রসিদ আদালতে প্রদর্শন করতে হবে। এসবের ফটোকপি ফিরিস্তি আকারে মামলার আবেদনের সঙ্গে জমা করতে হবে।

মামলা দায়ের করার পর সমন এবং ওয়ারেন্ট জারি করতে পারেন আদালত। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা দায়ের করলেও অপরাধের মূল বিচার হয় দায়রা আদালতে। দায়রা জজ তখন অন্য কোন দায়রা জজের নিকট বিচারের জন্য পাঠাতে পারেন।

বিচার শেষে অপরাধের শাস্তি হিসাবে আইনানুসারে আদালত এক বছরের কারাদণ্ড অথবা চেকে বর্ণিত অর্থের তিনগুণ পর্যন্ত পরিমাণ অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে মামলার আপিল করার সুযোগ আছে। তবে আপিল করার পূর্বশর্ত হচ্ছে, চেকে উল্লেখিত টাকার ৫০ শতাংশ টাকা যে আদালত দণ্ড প্রদান করেছেন সেই আদালতে জমা দিতে হবে একাউন্টধারীকে।

এছাড়াও অনেক সময়ে দেখা যায় আসামিরা সাজা খেটেই বেরিয়ে যান। টাকা আর পরিশোধ করেন না। তখন বিচারিক আদালত চেকের মামলায় জরিমানার টাকা আদায়ে জেলা কালেক্টর বা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে দেওয়ানি আদালতে জারি মামলা দায়ের করতে হয়। যদি কোন কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের অধীনে মামলা করা না যায় তাহরে দণ্ডবিধি ৪০৬ ও ৪২০ ধারা অনুসারে ফৌজদারি মামলা করা যায়।

কিন্তু এসব মামলার ক্ষেত্রে টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই। দোষী সাব্যস্ত দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় হলে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে। সারাবাংলা।

Leave a Reply