টেকনো ইনফোঃ আসসালামু আলাইকুম। বন্ধুরা কেমন আছেন? আশা করি অনেক ভালো আছেন। মোবাইল ফোন বা স্মার্টফোনে ইন্টারনেটের খরচ বেশি হবে সেটাই স্বাভাবিক। তবে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে স্মার্টফোন ইন্টারনেটের খরচ কমানো যায়।

আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করবো স্মার্টফোনে ইন্টারনেটের খরচ কমানোর কয়েকটি পদ্ধতি যা আপনাদের স্মার্টফোন ব্যবহারকে করবে আরও আনন্দময়।

কিভাবে স্মার্টফোনের ডাটা খরচ কমাবেন?

১। ডেটা রেস্ট্রিকশন করুন

অনেকেই জানেন না যে স্মার্টফোনটি যখন ব্যবহার করছেন না কিন্তু ডেটা অন করে রেখেছেন তখনও আপনার ডেটা খরচ হচ্ছে! হ্যাঁ, ঠিক তাই। আপানার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটির বেশির ভাগ অ্যাপসই সার্ভিস সচল রাখার জন্য ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ব্যবহার করে। যেমন, ফেসবুক, ইমেইল, আবহাওয়া, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, প্লে-স্টোর, গুগল অ্যাপস, মেসেঞ্জার ইত্যাদি। এই অ্যাপসগুলো আপনি অন্য কাজ করার সময়ও অকারণে ডেটা কাটতে থাকে।

আইফোনে  ক্ষেত্রে Settings > General > Background App Refresh

অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে Settings > Data Usage > Restrict App Background Data (আলাদা আলাদা ব্র্যান্ডের এন্ড্রয়েড ফোনে এই মেন্যুর ভিন্ন ভিন্ন লোকেশন থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটার অপশনটি খুঁজে বের করুন)।

আপনার নোটিফিকেশন বারে একটি বিস্ময়সূচক চিহ্ন দেখাবে। এর মানে অ্যাপগুলি আর ব্যাকগ্রাউন্ডে ডেটা চুরি করতে পারবে না।

২। অ্যাপ্লিকেশন অটো আপডেট বন্ধ করুন

ফোনের বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন প্রায়ই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হয়। অটো অ্যাপ আপডেট বন্ধ করতে নিচের নিয়ম অনুসরণ করুন।

আইফোনের ক্ষেত্রে : Settings > iTunes & App Stores > Use Cellular Data অপশন বন্ধ করুন।

অ্যান্ড্রয়েডের ক্ষেত্রে : গুগল প্লে স্টোর ওপেন করে এর মেন্যুতে Settings > General > Auto Update Apps > Auto Update Apps over Wi-Fi Only নির্বাচন করুন অথবা অটো আপডেট বন্ধও করতে পারেন এখান থেকে।

৩। Wi-Fi Assist বন্ধ করুন

Wi-Fi Assist চালু থাকলে ওয়াইফাই সিগন্যাল খারাপ হলে ফোন আপনার মোবাইল ডাটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহার করতে শুরু করে। এই নেটওয়ার্ক সুইচিং বন্ধ করুন।

আইফোনের ক্ষেত্রে : Settings> Cellular অপশন থেকে Wi-Fi Assist বন্ধ করুন।

অ্যান্ড্রয়েডের WLAN অর্থাৎ ওয়াইফাই সেটিংসে গিয়ে Switch between data and WLAN অপশন বন্ধ করুন। এর ফলে আপনার ফোনে যখন ওয়াইফাই এবং মোবাইল ডেটা উভয় সংযুক্ত থাকবে, তখন ফোন শুধুমাত্র ওয়াইফাই ব্যবহার করবে। যদিও আপনি চাইলে মোবাইল ডেটা বন্ধ করে ওয়াইফাই চালু রাখতে পারেন।

৪। ক্লাউড স্টোরেজ সিনক্রোনাইজেশন নিয়ন্ত্রণ করুন

গুগল ড্রাইভ, ওয়ানড্রাইভ, আইক্লাউড ড্রাইভ, গুগল ফটোস প্রভৃতি ক্লাউড স্টোরেজ সেবা ব্যবহারের জন্য শুধুমাত্র ওয়াইফাই নির্দিষ্ট করে দিন। অন্যথায় মোবাইল ডেটা ব্যবহার করে এসব সার্ভিস সিনক্রোনাইজ করলে প্রচুর মোবাইল ডেটা খরচ হবে।

৫। শুধু প্রয়োজনীয় অ্যাপস চালু রাখুন

যেহেতু স্মার্টফোন ইউজ করেন সেহেতু নিশ্চয়ই ইন্টারনেটভিত্তিক কোনো একটি বা একাধিক ইনস্টেন্ট মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করে থাকেন। এর মাঝে এমন একটি অ্যাপ থাকতে পারে যেটিকে সব সময় চালু রাখা দরকার। যদি ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করে রাখেন তবে সবগুলি অ্যাপ একত্রে ব্যাকগ্রাউন্ডে বন্ধ হয়ে থাকবে।

এই সমস্যা থেকে বাঁচতে সেটিংস>ডেটা ইউজেস এ গিয়ে দেখতে পাবেন সবগুলি অ্যাপ দেখাচ্ছে। কোন অ্যাপ কি পরিমাণ ডেটা খরচ করছে সেটাও আপনি দেখতে পারবেন। এখন একটু সময় নিয়ে অ্যাপসগুলোতে ক্লিক করে ভেতরে প্রবেশ করুন এবং যে অ্যাপগুলো আপনার চালু রাখা দরকার সেগুলো বাদ দিয়ে বাকিগুলো রেস্টিক্টেড করে দিন।

৬। ডেটা সেভিংস অ্যাপ ব্যবহার করুন

কিছু কিছু অ্যাপস আছে যেগুলো অনেক লো ডেটা খরচ করে আপনাকে ব্রাউজিংয়ের সুযোগ দেয়। যেমন অপেরা মিনি, অপেরা নিউ, ইউসি ব্রাউজার–এ ডেটা সেভিংস মুড আছে। এই মুড ব্যবহার করে আপনি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ব্রাউজিং খরচ বাঁচাতে পারেন। ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং এর ক্ষেত্রে সঠিক অ্যাপ নির্বাচন করুন। যেমন ভয়েস কলিংয়ের ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ–এ ডেটা খরচ খুবই কম হয়। তাই দেখেশুনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।

৭। সিকিউরিটি অ্যাপ ব্যবহার করুন

বিভিন্ন সিকিউরিটি অ্যাপস ব্যবহার করেও আপনি ডেটা খরচ কমাতে পারেন। এই অ্যাপগুলোর দ্বারা আপনি জানতে পারবেন কোন অ্যাপগুলি আপনার ডেটা চুরি করছে। সেটিংসের মাধ্যামে আপনার পারমিশন ছাড়া সেগুলো ডেটা ব্যবহার করতে পারবে না। প্লে-স্টোরে সি এম সিকিউরিটি, ৩৬০ সিকিউরিটি ইত্যাদি বিভিন্ন অ্যাপ আছে। এই অ্যাপগুলোর দ্বারা ডেটা প্রটেকশন ছাড়াও ভাইরাস, হ্যাকিং থেকে সুরক্ষিত থাকবেন।

৮। ডেটা সেটিংস করুন

আপনার ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সেটিংস রয়েছে যেগুলিকে ব্যবহার করা জরুরি। যেমন আপনার স্মার্টফোনটিকে ওয়াইফাই হটস্পট হিসেবে ব্যবহার করা যায়। ওয়াইফাই-ভিত্তিক কিছু অ্যাপস যেমন শেয়ার ইট ব্যবহারের সময় আপনার অজান্তেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনেকসময় হটস্পট চালু হয়ে যায়। এর ফলে আপনার অজান্তে অন্য কেউ আপনার ডেটা ব্যবহারের সুযোগ পাবে। এমনকি ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আপনার স্মার্টফোনটি হ্যাক হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সবকিছু চেক করুন। হটস্পটে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন।

৯। কাজ শেষে সেলুলার ডাটা সম্পূর্ণ বন্ধ করুন

কাজের পর মোবাইল ডাটা বন্ধ করে রাখতে পারেন। জরুরি কোনো ইমেইল বা এ ধরনের নোটিফিকেশনের অপেক্ষায় না থাকলে মোবাইল ডেটা বন্ধ রাখুন। এতে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপসও ডাটা ব্যবহার করতে পারবেনা।

শেষকথা আশা করি এই টিপসগুলো আপনার ফোনের ইন্টারনেট বিল কমাতে সাহায্য করবে এবং অবশ্যই প্রয়োজন না থাকলে ব্যবহার শেষে আপনার ডেটা কানেকশন বন্ধ রাখুন। সবাই ভালো থাকবেন। আল্লাহ্ হাফেজ।

Leave a Reply