টিপস এন্ড ট্রিকস

ডিজিটাল ওয়ালেট এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন যেভাবে?

টিআইবিঃ নগদ টাকায় কেনাকাটার পরিবর্তে এখন জনপ্রিয় হচ্ছে মোবাইল ওয়ালেটের মতো সেবা। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় মুহূর্তেই টাকা পাঠানো, অনলাইনে বা বাজারের কোনো দোকান থেকে পণ্য কিনে দাম পরিশোধ করা, স্কুল-কলেজের ফিসহ গ্যাস–বিদ্যুৎ–পানির বিল, মোবাইল রিচার্জ করা, অ্যাপভিত্তিক যানবাহনের ভাড়া, বাস–ট্রেনের টিকিট কেনাসহ নিত্যদিনের নানা কাজে এখন মোবাইল ফোন নির্ভর লেনদেন চলছে। বিকাশ, রকেট, নগদ, আইপে—সেবাগুলো এরই মধ্যে পরিচিত আমাদের কাছে। আর এগুলো হয়ে উঠেছে জীবনযাপনের অংশ।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

গ্রাহককে নানা রকম সুবিধা এনে দিয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই মোবাইল ওয়ালেট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিতে সক্রিয় অসাধু চক্র। অথচ নানান ছলে গ্রাহককে বোকা বানিয়ে টাকা সরিয়ে নেওয়ার যেসব ঘটনা ঘটছে, গ্রাহক সচেতন হলেই তা বন্ধ করা সম্ভব।

আজকে আমাদের পোস্ট এর বিষয় কিভাবে ডিজিটাল ওয়ালেট এর সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন? লিখেছেন বিকাশের হেড অব করপোরেট কমিউনিকেশন অ্যান্ড পিআর শামসুদ্দিন হায়দার।

১। ব্যবহারকারীদের সব পরিচিতিতেই নিজের অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর গোপন রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পিন নম্বর কাউকে দেওয়া বা জানানো যাবে না। অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে, নতুন সেবা চালু করে দেওয়া হবে, চাকরি দেওয়া হবে, লটারি জিতেছেন, বিপদে সাহায্য করুন বা অন্য কোনো ধরনের হুমকি/ প্রলোভনে পড়ে পিন নম্বর শেয়ার করবেন না।

২। অনেক গ্রাহক মোবাইল ফোনে অ্যাকাউন্টের নম্বর সংরক্ষণ করে রাখেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো কারণে মোবাইল হারিয়ে গেলে মোবাইল অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। সুতরাং পিন নম্বর, ইউজার আইডি মোবাইলে সংরক্ষণ করে রাখবেন না। সব সময় লেনদেন শেষে অ্যাকাউন্ট থেকে লগআউট করবেন।

৩। ‘বিকাশ বা রকেট থেকে বলছি’—এমন ফোন পেয়ে প্রতারণার শিকার হন গ্রাহক। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট একটা নম্বর থেকে গ্রাহককে কল করবে। যেমন বিকাশ থেকে ১৬২৪৭ নম্বর থেকে কল করবে। এর বাইরে যে নম্বর থেকে যে কোনো নম্বর থেকে ফোন এলেই বুঝতে হবে, প্রতারক ফোন করছে। এমনকি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ফোন করে কখনোই পিন বা গোপন নম্বর জানতে চাওয়া হবে না। ফোনে কাকে তথ্য দিচ্ছেন, সে ব্যাপারে গ্রাহককে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

৪। অনেক ক্ষেত্রে প্রতারক নিজেকে সঠিক প্রমাণ করতে গ্রাহককে বলেন মোবাইলে এসএমএস পাঠানো হয়েছে। এসএমএস কোন নম্বর থেকে এসেছে, তা যাচাই করে নেওয়া গ্রাহকের দায়িত্ব। এসএমএস এলেও নিজে ব্যালান্স চেক না করে ভুল করে দেওয়া টাকা ফেরত পাঠাবেন না।

৫। সচরাচর যেসব গ্রাহক প্রতারণার শিকার হন, তাঁদের ফোনে রেখে নির্দেশনা দেওয়া হয় এখন ১ চাপুন, এখন অ্যামাউন্ট দিন, পিন নম্বর দিন। কখনোই ফোনের নির্দেশনা অনুসারে বাটনে প্রেস করবেন না। ফোনের নির্দেশনা অনুসরণ করিয়ে আপনাকে দিয়েই আপনার অ্যাকাউন্টের টাকা প্রতারকের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিতে পারেন। বিকাশ থেকে বলছি বা অন্য কোনো পরিচয় দিলেও তার নির্দেশনা অনুসারে ফোনের বাটন প্রেস করবেন না।

৬। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার, ইমো বা অন্য কোনো মাধ্যমে খুব কাছের পরিচিত কেউ টাকা ধার চাইলে বা বিকাশ করতে বললে সঙ্গে সঙ্গে তা করবেন না। টাকা পাঠানোর আগে আসলেই তিনি টাকা ধার চেয়েছেন কি না, নিশ্চিত হয়ে নিন।

৭। আর্থিক লেনদেনের সেবা হওয়ার কারণে ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (ওটিপি) নির্ভর অ্যাপ ইনস্টলমেন্ট করে সুরক্ষিত করা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই কাউকেই ওটিপি নম্বর শেয়ার করবেন না বা ওটিপির ম্যাসেজ শেয়ার করবেন না।

মোবাইল ওয়ালেট বা মোবাইল ওয়ালেট এর সৃষ্টি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন যাপনে কাগজের টাকার বিকল্প হিসেবে। তাই এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উপরের বিষয়গুলো সচেতনতা সাথে মনে রাখতে হবে।

Leave a Reply

Back to top button