নতুন বছরে নতুন চাকরি-কীভাবে খুঁজবেন?

0

নতুন বছর নতুন অনেক সুযোগ নিয়ে আসে। আপনার ব্যক্তিগত আর কাজের যেসব ক্ষেত্রে উন্নতি করতে চাচ্ছেন, নতুন বছরে সেসব ক্ষেত্রে আরো ভালো করার সুযোগ পেতে পারেন। ওজন কমানো কিংবা ফিটনেস গোলসের মতো বিষয়ে আপনার নতুন বছরের অঙ্গীকার নষ্ট না করে ব্যক্তিগত উন্নয়নের শপথ নিন। এমন অঙ্গীকার নিন, যেটা আপনি এক মাসের মধ্যে ভুলে যাবেন না।

নতুন বছরের শুরুটা নতুন চাকরি খোঁজার জন্য বেশ ভালো সময়। এই সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের বার্ষিক বাজেট নির্ধারণ করে। অন্যান্য অনেক বিষয়ের মধ্যে নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়ার জন্যও তাদের বাজেট নির্দিষ্ট করা থাকে। নতুন বছরে নিয়োগদাতারাও নতুন উদ্যমে উপযুক্ত কর্মী খুঁজছেন। হতে পারে, আপনিই সেই উপযুক্ত কর্মী।

আপনি যদি চাকরি বদল করার কথা ভেবে থাকেন অথবা আপনার ক্যারিয়ারে উন্নতি করতে চান, তাহলে এখনই আপনার জন্য উপযুক্ত সময়।

আর এক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করার জন্য কিছু পরামর্শ থাকছে।

১. সিভি আপডেট করুন:

চাকরি খোঁজা শুরু করার আগেই যে কাজটা আপনাকে করতে হবে, তা হলো সিভি আপডেট করা। সিভিতে নতুন কোনো দক্ষতা কিংবা অর্জনের কথা উল্লেখ আছে কিনা সেটা খেয়াল করুন। চাকরি না খুঁজলেও কমপক্ষে ৬ থেকে ১২ মাস পর পর সিভি আপডেট করে রাখা দরকার। এতে করে নতুন তথ্য কিংবা অর্জনের উল্লেখ বাদ যাওয়ার আশঙ্কা কমবে।

যে চাকরির জন্য আপনি আবেদন করছেন, সেই চাকরি সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে সিভি আপডেট করাটা গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে নিয়োগদাতারা আপনার মতো যোগ্য কর্মীকে সহজেই শণাক্ত করতে পারবেন। তাছাড়া আপনার সিভিটা প্রচলিত অন্য দশটা সিভির মতো না বানানোই ভালো। সিভিতে উল্লেখ করতে পারেন যে, আপনি পরিশ্রমী আর মাল্টিটাস্ক করতে পারেন। কিন্তু এগুলি নিয়োগদাতাদের নজরে পড়বে না, কারণ এই শব্দগুলি দেখে দেখে তারা অভ্যস্ত।

২. পছন্দের চাকরিগুলির তালিকা তৈরি করুন:

চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে যা চোখে পড়ছে তাতেই আবেদন না করে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। এতে করে অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার চাকরি খোঁজা বন্ধ হয়ে যাবে না। আপনি করতে চান, এমন চাকরিগুলির একটা তালিকা তৈরি করুন। বছর শুরুর এই সময়টাকে আপনার স্বপ্ন পূরণের জন্যে নতুন একটা সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করুন।

মনে রাখবেন, যোগ্যতার চাইতে আপনার দক্ষতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্যে আপনি করতে পারবেন এমন কিছু না খুঁজে আপনি করতে চান, এমন কিছু খুঁজুন।

৩. পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে যোগাযোগ করুন:

আপনি কী করতে চান, সেটা নির্ধারণ করার পরে কোন কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করতে চান, সেটা ঠিক করুন। সেই প্রতিষ্ঠানগুলি যদি কর্মচারী নিয়োগ নাও দেয়, একটা ইমেইলের মাধ্যমে তাদের সাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করতে কোনো সমস্যা নেই। আপনি কেন তাদের সাথে কাজ করতে চান কিংবা তারা কেন আপনাকে নিয়োগ দিবে, সেই কারণগুলি মেইলে উল্লেখ করে দিতে পারেন।

৪. মৌলিক দক্ষতা চিহ্নিত করুন:

চাকরির পদের চাইতে প্রয়োজনীয় শর্ত আর দক্ষতার উপর বেশি জোর দিন। ভালোভাবে খুঁজলে অন্য পদেও আপনার জন্যে উপযুক্ত চাকরি খুঁজে পেতে পারেন। দক্ষতাগুলি চিহ্নিত করতে পারলে আপনার অভিজ্ঞতা আর সামর্থ্যের উপর জোর দেয়াটা সহজ হবে। এভাবে আপনি আরো ভালোভাবে কাজ করতে পারবেন আর আপনার চাকরির ক্ষেত্র বাড়বে।

৫. দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে মনোযোগী হন:

দ্রুত চাকরি খোঁজার জন্য আপনি নিজের দক্ষতা আর সামর্থ্যকে ঝালাই করে নিতে পারেন। অনেক উপায়েই এটা করতে পারেন। যেমন, শর্ট কোর্স কিংবা পার্সোনাল স্টাডিজ এর মাধ্যমে আপনার দক্ষতা বাড়াতে পারেন।

চারদিকে উন্নতির অনেক সুযোগ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তাই সমসাময়িক ট্রেন্ডগুলির দিকে খেয়াল রাখুন। এতে করে আপনি অন্য প্রতিযোগীদের চাইতে এক ধাপ এগিয়ে থাকবেন। আপনি যদি চাকরির ক্ষেত্র পরিবর্তন করতে চান, তাহলে সেই ক্ষেত্রের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করুন। তাতে সহজেই অভিজ্ঞতা বাড়াতে পারবেন।

৬. নেটওয়ার্ক, নেটওয়ার্ক এবং নেটওয়ার্ক:

শুধু কম্পিউটার স্ক্রিনের পেছনে বসে থেকে বেশিদূর আগোনো যাবে না। আপনি যদি সত্যিই নতুন নতুন সুযোগ পেতে চান, তাহলে নেটওয়ার্ক বাড়াতে হবে। আপনার যেসব কানেকশন আছে, সেগুলির পাশাপাশি নতুন কানেকশন তৈরি করার চেষ্টা করুন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির ইভেন্ট, অ্যালামনাইদের পুনর্মিলনী অথবা ইনফরমাল ইন্টারভিউ আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

আপনি যে ধরনের কাজ করতে আগ্রহী বর্তমানে সে ধরনের কাজ করছেন এমন মানুষদের সাথে যোগাযোগ রাখুন। এতে করে তাদের কোম্পানির কোনো পদ খালি হলে সহজেই জানতে পারবেন। তাছাড়া সহজে তারা আপনার ব্যাপারেও জানতে পারবে।

৭. সোশ্যাল প্রোফাইল আপডেট করুন:

একটা আপ-টু-ডেইট লিংকডইন প্রোফাইল সবসময়ই একটা দুই পৃষ্ঠার সিভির চাইতে বেশি গ্রহণযোগ্য। এতে করে আপনি এক ক্লিকের মাধ্যমে খুব সহজেই ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রফেশনালদের সাথে যুক্ত হতে পারবেন আর তাদের সাথে ওয়ান টু ওয়ান আলাপও করতে পারবেন।

এর সাথে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে বিজনেস অথবা ইন্ডাস্ট্রির খবরাখবর শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার ফিল্ডের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠতে পারবেন। এর বাইরে সঠিক কিওয়ার্ড ব্যাবহার করতে পারাটাও গুরুত্বপূর্ণ। এতে করে আপনাকে লিংকডইনে খুঁজে পাওয়া সহজ হবে। এক্ষেত্রে আপনার অ্যাকাউন্টে নিজের বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করতে পারেন।

৮. নিয়োগদাতাদের সাথে যোগাযোগ করুন:

আপনার নিয়োগদাতারা আপনাকে এমন অনেক সুযোগ সুবিধা দিতে পারে, যেগুলি আপনি অনলাইনে জানতে পারবেন না। তারা হায়ারিং ম্যানেজারদের কাছে আপনার দক্ষতাগুলি সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পারে এবং বেতন নিয়ে আলোচনা করতে পারে। তবে শুধু নিয়োগদাতাদের উপর নির্ভর করে থাকবেন না।

৯. ইন্টারভিউ ভালো ভাবে দিন:

চাকরি খোঁজার প্রক্রিয়ায় সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ইন্টারভিউ। ইতিমধ্যেই আপনার সিভি নিয়োগদাতাদের নজর কাড়লেও ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে আপনি নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছেন। ইন্টারভিউর সময় আপনাকে দেখাতে হবে যে চাকরির ওই পদটির জন্য আপনিই সবচেয়ে উপযুক্ত। আর সিভিতে উল্লেখ করা সব দক্ষতা আপনার মধ্যে আসলেই আছে।

এই কারণে ইন্টারভিউর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা দরকার। এক্ষেত্রে কোম্পানি সম্পর্কে রিসার্চের মাধ্যেমে তথ্য সংগ্রহ করা, কমন কিছু প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে রাখা, সঠিক পোশাক নির্বাচন করার দিকে খেয়াল রাখুন। নিয়োগদাতারা একজন প্রার্থীর মধ্যে যা খুঁজছেন, তা তাদের সামনে তুলে ধরতে পারার দায়িত্ব আপনার।

ইন্টারভিউ শেষে একটা ‘থ্যাংক ইউ নোট’ দিতে ভুলবেন না। অনেকেই এই কাজটাকে বাড়াবাড়ি মনে করে। কিন্তু এর মাধ্যমে নিয়োগদাতারা আপনাকে বিশেষ নজরে দেখবে।

১০. ভালো বেতনের জন্যে আলোচনা করুন:

ইন্টারভিউ ভালো ভাবে দেওয়া হলে আপনাকে চাকরি অফার করা হবে। কিন্তু অফার কনসিডার করা ছাড়াই রাজি হবেন না। আপনি যদি বেতনের জন্য আপনার আগের চাকরি ছেড়ে দিয়ে থাকেন, তাহলে আপনি নিশ্চয়ই একই জিনিসের পুনরাবৃত্তি চান না।

বেতন নিয়ে আলোচনা করতে পারেন বা কমপক্ষে একটি রিভিউ চাইতে পারেন। যেকোনো বোনাস, স্পেশাল কনসিডারেশন কিংবা কোম্পানির দেওয়া কোনো অফার নিতে ভুলবেন না।

নতুন বছর নতুন চাকরি খুঁজে নেওয়ার উপযুক্ত সময়। নতুন বছরে নতুন উদ্যম এবং অনুপ্রেরণার সাথে সাথে এই পরামর্শগুলির সাহায্যে আপনার ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারেন। সিটিটার্চ।

Leave a Reply