ড্রাইভিং লাইসেন্স কি? ড্রাইভিং লাইসেন্স কিভাবে করবেন?

0
ড্রাইভিং লাইসেন্স কি?

ড্রাইভিং লাইসেন্স হচ্ছে মোটরযান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ অনুযায়ী সড়কে বা সর্ব সাধারণের ব্যবহার্য জায়গায় গাড়ি চালানোর অনুমতি পত্র।

যখন কেউ গাড়ি চালায় তখন রাস্তায় চলাচলরত সাধারণ মানুষসহ অন্য গাড়ি ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সঠিকভাবে গাড়ির চালানোর প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন। এক কথায়, গড়ি চালনার দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন।

ড্রাইভিং লাইসেন্স কিভাবে করবেন?

ড্রাইভিং লাইসেন্স কীভাবে করতে হয় অনেকেই তা জানেন না। বিআরটিএ’র ওয়েবসাইট ঘেটে ড্রাইভিং লাইসেন্স করানোর প্রক্রিয়াটি আজ জানবো । আশা করি যারা নতুন ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে যাচ্ছেন তাদের জন্য আমার আজকের লেখা উপকারে আসবে।

লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স:

ড্রাইভিং লাইসেন্সের পূর্বশর্ত হলো লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স। আপনি যদি ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে আগে শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে হবে।

ঢাকায় বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) মিরপুর, ঢাকা মেট্রো-১,২,৩ সার্কেল রয়েছে। এছাড়া প্রত্যেকটি বিভাগের জেলা থেকেও আপনি করতে পারবেন।

লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে যা করতে হবে-

• গ্রাহককে প্রথমে লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হবে।
• গ্রাহককে তার স্থায়ী ঠিকানা বা বর্তমান ঠিকানা (প্রয়োজনীয় প্রমাণাদিসহ) বিআরটিএ’র যে সার্কেলের আওতাভূক্ত তাকে সেই সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হবে।
• সার্কেল অফিস কর্তৃপক্ষ তাকে একটি শিক্ষানবিস বা লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করবে যা দিয়ে আবেদনকারী ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবে।
• ২/৩ মাস প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর তাকে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে নির্ধারিত কেন্দ্রে লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট-এ অংশ গ্রহণ করতে হবে। এসময় প্রার্থীকে তার লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স (মূল কপি) ও লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কলম সাথে আনতে হবে।
• পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য বয়স ন্যূনতম ২০ বছর এবং অপেশাদার এর জন্য ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে।

লার্নার বা শিক্ষানবিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

১। নির্ধারিত ফরমে আবেদন।

২। রেজিষ্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট।

৩। ন্যাশনাল আইডি কার্ড / জন্ম সনদ/পাসপোর্ট এর সত্যায়িত ফটোকপি।

৪। নির্ধারিত ফী, ১ ক্যাটাগরি-৩৪৫/-টাকা ও ২ ক্যাটাগরি-৫১৮/-টাকা বিআরটিএ’র নির্ধারিত ব্যাংকে (ব্যাংক এর তালিকা www.brta.gov.bd তে পাওয়া যাবে) জমাদানের রশিদ।

৫। সদ্য তোলা ০৩ কপি স্ট্যাম্প ও ০১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স:

• লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর পুনরায় একটি নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফী প্রদান করে স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য সংশিস্নষ্ট সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হবে।
• গ্রাহকের বায়োমেট্রিক্স (ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙ্গুলের ছাপ) গ্রহণপূর্বক স্মার্ট কার্ড ইস্যু করা হয়।
• স্মার্ট কার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্টিং সম্পন্ন হলে গ্রাহককে এসএমএস এর মাধ্যমে তা গ্রহণের বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়।

স্মার্টকার্ড ড্রাইভিং লাইসেন্স এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

১। নির্ধারিত ফরমে আবেদন।

২। রেজিষ্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট।

৩। ন্যাশনাল আইডি কার্ড / জন্ম সনদ/পাসপোর্ট এর সত্যায়িত ফটোকপি।

৪। নির্ধারিত ফি (পেশাদার- ১৬৭৯/-টাকা ও অপেশাদার- ২৫৪২/-টাকা) বিআরটিএ’র নির্ধারিত ব্যাংকে জমাদানের রশিদ।

৫। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন।

৬। সদ্য তোলা ১ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি।

সূত্র: বিআরটিসি ওয়েবসাইট।

Leave a Reply