Saturday, November 27, 2021

কর গণনায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফা যেভাবে বিবেচনা করতে হবে

কর গণনায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফা যেভাবে বিবেচনা করতে হবে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন, ‘ট্যাক্স রিটার্ন প্রিপারেশন: কমপ্লিট গাইড ২০২১’ বইয়ের লেখক, আয়কর পরামর্শক এবং প্রশিক্ষক জসীম উদ্দিন রাসেল।

জনপ্রিয় পোস্ট

আয়কর রেয়াত পাওয়ার জন্য যেসব উল্লেখিত বিনিয়োগ খাত রয়েছে এর মধ্যে অন্যতম হলো সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ। অন্যান্য খাতের চেয়ে এই খাতের সুবিধা অনেক বেশি। এজন্য অনেক বিনিয়োগকারিই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করাকে পছন্দ করেন। তবে অনেকেই ভাবতে পারেন সঞ্চয়পত্র থেকে যে মুনাফা আসে সেটার ওপর কর দিতে হয় কি-না?

এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন, ‘ট্যাক্স রিটার্ন প্রিপারেশন: কমপ্লিট গাইড ২০২১’ বইয়ের লেখক, আয়কর পরামর্শক এবং প্রশিক্ষক জসীম উদ্দিন রাসেল।

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের কয়েকটি সুবিধা হল, এটা বাংলাদেশ সরকার ইস্যু করে। তাই এটা নিরাপদ।মেয়াদান্তে মুনাফাসহ বিনিয়োগকৃত টাকা পাওয়া যায় সহজেই। অন্যান্য বিনিয়োগের চেয়ে মুনাফার পরিমাণ তুলনামূলক অনেক বেশি। তাই মেয়াদান্তে আয়ও বেশি।

আর এর সবচেয়ে বড় দুটি সুবিধা হল- একদিকে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে যেমন কর রেয়াত পাওয়া যায়। আবার অন্যদিকে সঞ্চয়পত্র থেকে যে মুনাফা পাওয়া যায় তা থেকে উৎসে যে ১০% কর কর্তন করে রাখা হয় তাই চূড়ান্ত কর। আপনাকে আর কর দিতে হবে না।

আরও দেখুন: আয়কর রিটার্ন তৈরিতে প্রচলিত ১০টি ভুল, যা বেশিরভাগ করদাতাই করে থাকেন

একটু বিস্তারিত যদি বলি, আপনি যদি ১,০০,০০০ টাকা দিয়ে ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেন তাহলে বর্তমান হার অনুযায়ী আপনি ১১.০৪% মুনাফা পাবেন। এই মুনাফা আপনি পাবেন যদি ৩ বছর পর্যন্ত বিনিয়োগ ধরে রাখেন। তবে ৩ বছরের আগেই ভেঙে ফেলেন তাহলে আবার মুনাফার পরিমাণ কিছু কমে যাবে। তাহলে আপনি তিন বছরে সব মিলিয়ে পাবেন ১,৩৩,১২০ টাকা। আসল ১,০০,০০০ টাকা বাদ দেওয়ার পর আপনার তিন বছরে মোট মুনাফার পরিমাণ হল ৩৩,১২০ টাকা।

আপনাকে যখন এই মুনাফা-আসলসহ টাকা দেবে তখন ৩৩,১২০ টাকা থেকে ১০% অর্থাৎ ৩,৩১২ টাকা উৎসে কর কর্তন করে বাকি ২৯,৮০৮ টাকা আপনাকে পরিশোধ করবে। আপনার কাছ থেকে এই যে উৎসে ৩,৩১২ টাকা কেটে রাখল আপনাকে কিন্তু এই ৩৩,১২০ টাকার ওপর আর কোনো কর দিতে হবে না। এটাই হলো চূড়ান্ত কর। এই সুবিধার জন্য অনেকেই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করাকে সবার উপরে রাখেন।

তবে এই বিশেষ সুবিধা আপনি এফডিআর সুদের ওপর পাবেন না। আপনি যদি কোনো ব্যাংকে এফডিআর করেন তাহলে একদিকে যেমন এর ওপর বিনিয়োগ ভাতা হিসেবে দেখাতে পারবেন না; আবার তেমনি ঠিক অন্যদিকে হ্রাসকৃত হারে কর সুবিধাও পাবেন না। আপনি যখন এফডিআর থেকে সুদ পাবেন তখন কিন্তু সেই সুদ থেকে ব্যাংক উৎসে ১০% কর কর্তন করে তারপর আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করবে।

আপনি যখন করযোগ্য আয় গণনা করবেন তখন আপনাকে এফডিআর সুদ অন্যান্য খাতের আয়ের সঙ্গে যোগ করে দেখাতে হবে। আর কর গণনায় নিয়ে আসতে হবে। অর্থাৎ আপনার আয় যদি বেশি হয় তাহলে কিন্তু আপনার করের পরিমাণও বেশি হবে।

তবে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, আমরা সকল করযোগ্য আয় যোগ করে তার ওপর ২৫% হিসেবে বিনিয়োগ ভাতা হিসাব করে থাকি। যার ওপর পরে আমরা কর রেয়াত দাবি করি।

এখানে আপনি যেহেতু ৩৩,১২০ টাকার উপর চূড়ান্ত কর দিচ্ছেন, বাড়তি কর দিচ্ছেন না, তাই আপনি এই টাকার ওপর বিনিয়োগ ভাতা দাবি করতে পারবেন না। অর্থাৎ বিনিয়োগ ভাতা আপনি যখন গণনা করবেন তখন ৩৩,১২০ টাকা আলাদা রেখে বাকি খাতে আপনার যে করযোগ্য আয় আছে তার ওপর ২৫% হিসাবে নির্ণয় করবেন এবং এর উপরেই আপনি কর রেয়াত নির্ণয় করবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ পোস্ট

করমুক্ত আয়ের খাতসমূহ

করযোগ্য আয় করলে আয়কর দিতে হয়, অর্থাৎ নিজে আয় করলে আয়ের একটি অংশ সরকারকে দিতে হয়। কিন্তু মজার বিষয়,...

এ সম্পর্কিত আরও