টিআইবিঃ আসসালামু আলাইকুম। বন্ধুরা কেমন আছেন?আশ করি সবাই ভালো আছেন। আজকাল বেশিরভাগ মানুষের ফেসবুক প্রোফাইলে ঢুকলেই দেখা যায় ‘Works at Youtube’। কিন্তু এসব মানুষের সবাই কি সফল ইউটিউবার? তাদের সবার কি হাজার পঞ্চাশেক সাবস্ক্রাইবার আছে? নাহ নেই।

আমাদের আশেপাশে এমন অসংখ্য ইউটিউবার আছে, যারা ভাল কন্টেন্ট না বানিয়েই পেয়ে যায় লাখ লাখ ভিউ। আবার এমনও ইউটিউবের আছে যারা ভাল কন্টেন্ট বানিয়েও পায় না আশানুরূপ ভিউ এবং সাবস্ক্রাইবার। আসলে শুধু কন্টেন্ট ভালো হলেই চলবে না, সেই সাথে কিছু টিপসও অনুসরণ করতে হবে। আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম সেই সকল বিষয় যা একজন সাধারণ ইউটিউবারকে খুব সহজেই অসাধারণ ইউটিউবার হিসেবে গড়ে তুলবে।

১. বিষয়বস্তু নির্ধারণঃ

বেশির ভাগ মানুষই আগে ভেবে নেয় না যে তারা কি নিয়ে ভিডিও বানাবে। যারফলে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ভিডিও বানানোর পর সেটিকে অর্থহীন মনে হয়। তাই ঝামেলা এড়ানোর জন্য আগে থেকেই স্ক্রিপ্ট রেডি করে রাখতে হবে। আর চেষ্টা করতে হবে ‘ট্রেন্ডি’ বিষয় নিয়ে ভিডিও বানানোর। এক্ষেত্রে ইউটিউবের সার্চ লিস্ট এবং টুইটারের সার্চ লিস্ট অনুসরণ করতে হবে। আর বিষয় টাটকা হলে মানুষও ভিডিও দেখার আগ্রহ প্রকাশ করে। তাই শুরুতেই বিষয়বস্তুর মানের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

২. নান্দনিকতা বৃদ্ধিঃ

ইউটিউবে একটা চ্যানেল খুলেই কাজ শেষ হয়ে যাবে না, চ্যানেলটি আকর্ষণীয় করে তোলাটাও প্রয়োজন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলটির নামের সাথে যায় এমন একটি লোগো তৈরী করে তা ‘Channel Icon’ হিসেবে সিলেক্ট করতে হবে। আর ‘Channel Art’ টি এমন হওয়া প্রয়োজন যা সহজেই ভিউয়ারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। আর সেই সাথে মোবাইল, ট্যাব এবং ডেস্কটপ থেকে নিজের চ্যানেলট দেখতে হবে। চ্যানেলের ‘About’ সেকশন এমন এক সুবিধা যেখানে মানুষকে নিজের সম্পর্কে, নিজের চ্যানেল সম্পর্কে এবং কীভাবে মানুষ তার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে সেই সব লিখা যায়। তাই ‘About’ এ নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের লিংকগুলো দিতে ভুলে যাবেন না। আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখবেন যে একই ধরণের কয়েকটি ভিডিও বানালে তা ‘Playlist’ এ যুক্ত করে দিন। এতে ভিউয়ারদের ভিডিও পেতে সুবিধা হবে।

৩. ভিডিও বানানোর পালাঃ

এবার হাতের কাছে যেইসব ডিভাইস আছে, তা দিয়ে ভিডিও শুট করে ফেলুন।  মনে রাখবেন, সাধারণ স্মার্টফোন দিয়েও ভিডিও বানানো সম্ভব যদি আপনার মধ্যে ভরপুর এনার্জি এবং সেই স্পৃহাটা থাকে। তবে সাধারণ ভালো ভিডিও বানানোর জন্য প্রয়োজন ভাল মানের স্মার্টফোন, ট্রাইপড, সেলফিস্টিক এবং কিছু ভালো এডিটিং অ্যাপস।

৪. কন্টেন্ট শেয়ারিংঃ

এখন ভিডিও বানিয়ে বসে থাকলে হবে না, মানুষকে দেখানোর জন্য অনুরোধও করতে হবে। আর এই ক্ষেত্রে কখনোই সংকোচবোধ করা ঠিক নয়। তাই ফেসবুক, টুইটার, স্ন্যাপচ্যাট যেখানেই পারুন না কেন নিজের ভিডিও শেয়ার করুন। সেই সাথে পরিচিতদেরকে ইনবক্সে ভিডিওটি দেখে শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করুন। তবে অপরিচিতদেরকে এভাবে অনুরোধ না করাটাই ভাল। আর বন্ধুদেরকেও বলতে হবে ভিডিও শেয়ার করার কথা। এতে করে ড্রাইভ ট্রাফিক এবং সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

৫. ডাটা এনালাইজঃ

সব ইউটিউবাররাই চায় যে অডিয়েন্সরা যাতে তাদের ভিডিও একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখেন। আর কতজন মানুষ এভাবে দেখে তা জানার সহজ উপায় হলো ‘Youtube Analytics’। এর মাধ্যমে খুব সহজেই বোঝা যায় যে মানুষ ভিডিওটি কতটুকু দেখেছে বা কোন অংশটি বেশি দেখেছে। এরমাধ্যমে নিজ ভিডিওর ভুলত্রুটি খুব সহজেই চোখে পড়বে।

৬. কমেন্টের রিপ্লাই দেওয়াঃ

আমরা অনেকেই ভিডিও আপ্লোড করে ভুলে যাই সেটার কথা। কিন্তু এই ভুলে যাওয়াটা ঠিক নয়। আমাদের অবশ্যই ভিডিওর কমেন্ট সেকশনে যেয়ে সবার রিপ্লাই দিতে হবে এবং সামনের ভিডিও দেখার জন্য অনুরোধ করতে হবে।

৭. রেসপন্স ভিডিও এবং প্যারোডিঃ

সাধারণত এই ধরণের ভিডিওগুলো মানুষ দেখার জন্য আগ্রহী হয়। কেননা এই ভিডিওগুলো রিএকশন ভিডিও হিসেবে কাজ করে থাকে। যেমন কোনো বিখ্যাত মুভির ট্রেইলার, মুভি, কোনো গায়কের গান আসলো বা কোনো ট্রেন্ডিং ভিডিও – এগুলো প্রথম দেখার সময় আপনার রিএকশন কেমন ছিল তা নিয়ে বানিয়ে ফেলুন রেসপন্স ভিডিও। তবে ওভার এক্টিং এক্ষেত্রে এড়িয়ে চলতে হবে।

আর রাতারাতি ভাইরাল হওয়ার অন্যতম উপায় হচ্ছে প্যারোডি ভিডিও। কোনো গান বা সিনেমার অংশকে নিজের মত করে সাজিয়ে নেওয়াকে প্যারোডি বলে। বিখ্যাত ইউটিউবার বার্ট বেকারও এই প্যারোডি করেই রাতারাতি তারকা বনে গেছে। তাছাড়া কোনো ভিডিওতে ভুল খুঁজে পেলে বানিয়ে ফেলুন ‘মিসটেক ভিডিও’। তবে এসব ভিডিও বানানোর সময় অরিজিনাল ভিডিওর নাম ও লিংক দিয়ে দিবেন। এতে করে যখন কেউ অরিজিনাল ভিডিও দেখবে, তখন আপ নেক্সটে আপনার ভিডিও শো করবে।

সাবস্ক্রাইবার ধরে রাখতে হলে সপ্তাহে কমপক্ষে একটি ভিডিও আপলোড দিতে হবে। আর পরবর্তী ভিডিও আপ্লোড দেওয়ার আগ পর্যন্ত অন্য মানুষদের ভিডিওতে লাইক দিতে হবে এবং প্রমোট করতে হবে। যাতে করে নতুন ভিডিও আসার আগে সাবস্ক্রাইবাররা আপনার চ্যানেলে আসে।

১২. নিজেকে প্রকাশঃ

ভিউয়াররা আপনার ভিডিও ১০ সেকেন্ড দেখেই বলে দিতে পারবে আপনি কেমন। তাই বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনদের সাথে যেরকম ব্যবহার করেন সেরকম ভাবেই ভিডিওতে নিজেকে প্রকাশ করুন। ভিডিও করার পর দেখা যায় যে অনেক সময় আপনার কথা জড়িয়ে গেছে বা উচ্চারণে ভুল হয়েছে। এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। এইসব ছোটখাটো ভুলগুলোই আপনাকে ভিউয়ারদের আরো কাছে নিয়ে যাবে। মানুষ ইউটিউবে হলিউডের ফিটফাট হিরোদের দেখার জন্য যায় না, নিজের মত মানুষকেই দেখতে যায়। তাই আপনি যেমন, তেমনই নিজেকে প্রকাশ করুন।

১৩. ভালো ভিডিও কোয়ালিটিঃ

ইউটিউবে কেউ ভাল ভিডিও না, ভাল ভিজ্যুয়াল কোয়ালিটির ভিডিও দেখতে চায়। তাই খেয়াল রাখতে হবে ভিডিওতে লাইট এবং সাউন্ডের ব্যবহার যেন পর্যাপ্ত থাকে। এবং ব্যাকগ্রাউন্ড একদম প্লেন রাখবেন। শব্দ হিসেবে যেন শুধু আপনার গলাই শোনা যায়।

১৪. ভিডিও এডিটিংঃ

শুধু বিষয়বস্তু ঠিক রাখলেই হবে না, ভালমতো এডিট না করলে কেউই ভিডিও দেখবে না। ভিডিও যত ছোট হবে, ততই ভাল হবে। তাই অপ্রয়োজনীয় অংশগুলো ছেঁটে দিন। ব্রাইটনেস ও সাউন্ড বৃদ্ধি করুন। টেক্সট ও মিউজিক এ্যাড করুন এবং শেষে সবাইকে সাবস্ক্রাইব করতে অনুরোধ করুন।

কেউ শুধু মাত্র একটি ভাইরাল ভিডিও দিয়েই স্থায়ীভাবে বিখ্যাত ইউটিউবার হয়ে উঠতে পারে না। এর জন্য পরিশ্রম ও ধৈর্যেরও প্রয়োজন। পিউডিপাই কিন্তু একবারেই সাবস্ক্রাইবার পাননি। ২০০৯ সালে মাত্র ০ সাবস্ক্রাইবার নিয়ে শুরু করা এই ইউটিউবারের সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা এখন ৬১ মিলিয়ন। তাই দেরি না করে শুরু করে দিন।

উপরের উপায়গুলো অবলম্বন করলে হয়তো একদিন পিউডিপাইয়ের চেয়েও আপনার বেশি সাবস্ক্রাইবার হবে।

কার্টেসিঃ মুশারাত আবির যাহিন।

Leave a Reply