ব্যাংক স্টেটমেন্ট বছরে কতবার ফ্রি নেওয়া যায়?

ব্যাংক স্টেটমেন্ট হলো গ্রাহক কর্তৃক পরিচালিত অ্যাকাউন্ট বা হিসাবের জমা খরচের বিবরণী। বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যাংক লেনদেনের স্টেটমেন্ট নেওয়ার দরকার হয় গ্রাহকের। এ বিবরণীতে নির্দিষ্ট তারিখ অনুসারে গ্রাহকের নামে যাবতীয় উৎস থেকে জমাকৃত টাকার হিসাব দেখানো হয়।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

এর মধ্যে রয়েছে নগদ জমা, চেক থেকে কালেকশন করা টাকা, অন্য তহবিল থেকে স্থানান্তরিত জমা অর্থ, বিদেশ থেকে প্রেরিত রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়, ব্যাংক কর্তৃক দেওয়া সুদ ইত্যাদি। অর্থাৎ দিনের জমা ও খরচের পার্থক্য মোট ব্যালেন্স হিসাবে দেখানো হয়।

সাধারণত কোনো ব্যাংকের একজন গ্রাহক বছরে দুইবার ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিতে পারেন। এক্ষেত্রে গ্রাহককে কোনো চার্জ বা বাড়তি টাকা দিতে হয় না। তবে এর বেশি বা গ্রাহকের চাহিদার আলোকে অতিরিক্ত স্টেটমেন্ট নিতে গেলে একটি ফি জমা দিয়ে নেওয়া যাবে।

কোনো কোনো ব্যাংক আবার গ্রাহককে ই-মেইলের মাধ্যমে এ ব্যাংক স্টেটমেন্টের সফট কপি বিনা পয়সায় গ্রাহককে সরবরাহ করে থাকে।

আবেদনের প্রক্রিয়া

একজন গ্রাহক যে ব্যাংকে হিসাব পরিচালনা করে থাকেন, সেই ব্যাংকে স্টেটমেন্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এজন্য সংশ্লিষ্ট শাখায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে তার অ্যাকাউন্ট নম্বর জানাতে হবে। কোনো কারণে তিনি উপস্থিত না থাকলে ওই ব্যাংকের গ্রাহক তার কোনো প্রতিনিধি পাঠিয়ে ভার-অর্পণ ক্ষমতা নিযুক্তপত্র মারফত স্টেটমেন্ট নিতে পারবেন। স্টেটমেন্ট পেতে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক বরাবর আবেদন করতে হবে। এরপর ব্যাংক ও শাখার নাম, বিষয়, হিসাব নাম্বার এবং অ্যাকাউন্টের ধরণ লিখে আবেদন করতে হবে।

অনলাইনে ব্যাংক স্টেটমেন্ট

তবে গ্রাহক চাইলে অনলাইনেও এটি সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহক নিজের ইউজার আইডি ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট থেকে অনলাইনে এটি সংগ্রহ করতে পারেন। এতে তার কোনো চার্জ লাগবে না। আবার ব্যাংকে যাওয়ার বাড়তি ঝামেলারও প্রয়োজন হবে না। এখন এই মাধ্যম বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বছরে কতবার নিতে পারবেন

সাধারণত একজন গ্রাহক বছরে দুইবার বিনা খরচে ব্যাংক স্টেটমেন্ট নিতে পারেন। এতে তার কোনো চার্জ বা খরচ কাটা হবে না। তবে এর বাইরে গ্রাহক চাইলে যেকোনো সময় গ্রাহকের চাহিদার আলোকে স্টেটমেন্ট নিতে পারেন। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের ভিন্ন ভিন্ন চার্জ নেওয়া হয়।

সরকারি ব্যাংকগুলোয়ে ব্যাংক স্টেটমেন্টের জন্য ১০০ টাকা ফি আর ১৫ শতাংশ ভ্যাট অর্থাৎ ১১৫ টাকা দিয়ে ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে বেসরকারি ব্যাংকেও দুইবার ফ্রি নেওয়া যায়। এর চেয়েও বেশিবার নিতে হলে ২০০ টাকা ফি জমা দিয়ে সংগ্রহ করতে হয়।

অনেক ব্যাংকে বিনা খরচে স্টেটমেন্ট

বিদেশি ব্যাংকের পাশাপাশি কিছু দেশি ব্যাংকেও প্রতিমাসে ব্যাংক স্টেটমেন্ট অনলাইন মাধ্যম অর্থাৎ ই-মেইল মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে বাড়তি কোনো চার্জ আরোপ করা হয় না। এসব ব্যাংক প্রতিমাসেই এটি দিয়ে থাকে। আবার বছরের ষাণ্মাসিক ও বাৎসরিক স্টেটমেন্টও এভাবেই ফ্রি পাঠিয়ে দেয় তাদের গ্রাহককে। এসএমএস ও ই-মেইলের জন্য বাৎসরিক চার্জের মধ্যেই এটি ইনক্লুড করা থাকে।

আরও দেখুন: ব্যাংকে সাইবার নিরাপত্তা বাড়াতে বিনিয়োগ আবশ্যক

Leave a Reply

Back to top button