ব্যাংকে করোনা প্রতিরোধে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ১৩ নির্দেশনা

0

কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দে‌শে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি চলছে। বন্ধ রয়েছে বেশিরভাগ সেবা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু অর্থনীতি সচল রাখতে খোলা রয়েছে ব্যাংক। তাই ব্যাংকে করোনাভাইরাসের প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ১৩টি নির্দেশনা দিয়েছে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

করানো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতার জন্য গঠিত ৮ সদস্যের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ কমিটি এ নির্দেশনা দিয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা চীন ও অন্যান্য দেশের সংশ্লিষ্ট কারিগরি নির্দেশনাগুলো অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য এ নির্দেশনা দিয়ে বই প্রণয়ন করেছে।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যবসাকেন্দ্র এবং ব্যক্তি পর্যায়ে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সম্পূর্ণ সমাপ্তি না হওয়া পর্যন্ত (স্বল্পঝুঁকি, মধ্যমঝুঁকি ও উচ্চঝুঁকি) সংশ্লিষ্ট কারিগরি নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে বলা হয়েছে।

ব্যাংকের জন্য দেয়া ১৩ নির্দেশনা হলো-

>> ব্যাংক খোলার আগে মহামারি প্রতিরোধী সামগ্রী যেমন- মাসিক জীবাণুনাশক সামগ্রী ইত্যাদি সংগ্রহ এবং আপদকালীন পরিকল্পনা তৈরি করা। আপদকালীন সংক্রমিত বস্তুর ডিসপোজাল এলাকা স্থাপন করা। যেখানে সব ইউনিটের জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণকে জোরদার করা।

>> কর্মীদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা। প্রতিদিন কর্মীদের স্বাস্থ্যবিষয়ক ব্যবস্থা নথিভুক্ত করা এবং যারা অসুস্থ অনুভব করবে তাদের সঠিক সময়ে চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা।

>> ব্যাংকের প্রবেশমুখে তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণকারী যন্ত্র স্থাপন করা। শুধুমাত্র স্বাভাবিক তাপমাত্রা সম্পূর্ণ ব্যক্তিদের কর্মস্থলে ঢুকতে দেয়া।

>> বায়ুচলাচল বৃদ্ধি করা। সেন্ট্রাল এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে এয়ার কন্ডিশনারের স্বাভাবিক ক্রিয়া নিশ্চিত করা। বিশুদ্ধ বাতাস বৃদ্ধি এবং এয়ার সিস্টেমে ফিরে আসা বাতাসকে বন্ধ করা।

>> সর্বসাধারণের ব্যবহার্য সুবিধাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা (যেমন- কিউইং মেশিন, কাউন্টার, চিফার মেশিন, রোলার পেন, ক্যাশ কাউন্টার, এটিএম, জনসাধারণের বসার জায়গা ইত্যাদি)।

>> জনসাধারণের চলাচলের এলাকা যেমন ব্যাংকিং লবি, এলিভেটর এবং তথ্যকেন্দ্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ময়লা সময় মতো পরিষ্কার করা।

>> এটিএমে প্রবেশের লাইনে দাঁড়ানোর সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার কথা মনে করিয়ে দেয়ার জন্য লাইনে এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা স্থাপন করা।

>> ব্যবসায়িক কাজে ব্যাংকে আসা মানুষের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা। প্রতিদিনের ব্যবসায়িক কাজের জন্য ই-ব্যাংকিং অথবা এটিএম ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া। কাউন্টার জীবাণুনাশকের ব্যবস্থা এবং সকলকে হাত পরিষ্কারের ব্যাপারে সচেতন করা।

>> স্টাফদের ব্যক্তিগত সুরক্ষার জোরদার এবং মাস্ক পরতে হবে। হাতের হাইজিনের প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। হাঁচি দেয়ার সময় মুখ এবং নাক টিস্যু বা কনুই দিয়ে ঢাকতে হবে।

>> ব্যাংকে আগত সকলকে মাস্ক পরতে হবে।

>> পোস্টার ইলেকট্রনিক্স স্ক্রিন এবং বুলেটিন বোর্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিবেশ জোরদার করা।

>> যদি নিশ্চিত কোভিড-১৯ রোগী থাকে তবে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে জীবাণুমুক্তকরণ করতে হবে এবং একইসঙ্গে এয়ার কন্ডিশনিং ও ভেন্টিলেশন সিস্টেমকে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে হবে। মূল্যায়ন হওয়ার আগে পুনরায় চালু করা উচিত হবে না।

>> মাঝারি ও উচ্চ ঝঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্যাংকগুলোকে তাদের বিজনেস আওয়ার সংক্ষিপ্ত করতে এবং আগত লোকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

Leave a Reply