ফরেক্স ব্যবসা যেভাবে অগ্রসর হবেনঃ পর্ব-১১ ফরেক্স কোটেশন পড়ার নিয়ম

0
80

টিআইবিঃ আসসালামু আলাইকুম। বন্ধুরা আশা করছি সবাই আল্লাহর অশেষ রহমতে ভাল আছেন। আজ আপনাদের জন্য নিয়ে আসলাম বর্তমান সময়ের বহুল আলোচিত ফরেক্স ট্রেডিং নিয়ে। ফরেক্স বিজনেসের খুঁটি নাটি বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক ২০ পর্বে ফরেক্স ট্রেডিং এর A-Z আলোচনা করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিক পর্বগুলোতে ফরেক্স ব্যবসায় কিভাবে অগ্রসর হবেন তার বিস্তারিত বর্ননা দেয়ার চেষ্টা করবো। আমার এ লেখাগুলো বিভিন্ন ব্লগ থেকে সংগ্রহ করা। কথা না বাড়িয়ে চলুন ১১তম পর্বে।

ফরেক্স ট্রেডিংয়ের সময়ে প্রতিটি ট্রেডে একটি কারেন্সি কিনতে হয় এবং আরেকটি বিক্রি করতে হয়। এক্সচেঞ্জ রেটের দিকে বেশ খেয়াল রাখতে হয় প্রতিটি ট্রেড ওপেন করার পর। এক্সচেঞ্জ রেট ও কারেন্সি পেয়ার একটি নির্দিষ্ট ফরমেটে লেখা হয়, একে ফরেক্স কোটেশন বলে। সংক্ষেপে বলতে গেলে ইউএসডলার/ইউরো = ০.৬৯৮১ হচ্ছে একটি ফরেক্স কোটেশন। এখানে স্ল্যাশ (/)-এর আগে থাকা কারেন্সি বা ইউএসডলার (মার্কিন ডলার) হচ্ছে বেস (Base) কারেন্সি এবং স্ল্যাশের পরের কারেন্সি বা ইউরো হচ্ছে কুওট (Quote) কারেন্সি।

ফরেক্সে লং/শর্ট, বিড/আস্ক, বাই/সেল ইত্যাদি আরো কিছু টার্ম দেখতে পাবেন। এগুলো দিয়ে কি বোঝায়? আসুন জেনে নেই।

বাই/সেল (Buy/Sell):
ট্রেড করার সময় কারেন্সি বাই ও সেল করতে হবে। তাই কেনার সময় এক্সচেঞ্জ রেট নির্দেশ করে ১ ইউনিট বেস কারেন্সি কেনার জন্য কত ইউনিট কুওট কারেন্সি দিতে হবে। ১ ইউএস ডলার/ইউরো =০.৬৯৮১-এর ক্ষেত্রে ১ ডলার কেনার জন্য দিতে হবে ০.৬৯৮১ ইউরো।

বিক্রি করার সময় এক্সচেঞ্জ রেট নির্দেশ করে ১ ইউনিট বেস কারেন্সি বিক্রি করলে কত ইউনিট কুওট কারেন্সি পাওয়া যাবে। ১ ইউএস ডলার/ইউরো =০.৬৯৮১-এর ক্ষেত্রে ১ ডলার বিক্রি করলে পাওয়া যাবে ০.৬৯৮১ ইউরো।

বেস কারেন্সি হলো বাই ও সেলের মূল ভিত্তি। যদি আপনি ইউএসডলার/ইউরো বাই করেন, তবে আপনি বেস কারেন্সি ইউএসডলার কিনছেন এবং একই সাথে কুওট কারেন্সি ইউরো বিক্রি করছেন। সহজ কথায় ইউএস ডলার কেনা, ইউরো বিক্রি করা।

আপনি একটি কারেন্সি পেয়ার বাই করবেন যখন আপনার মনে হবে যে, কুওট কারেন্সির তুলনায় বেস কারেন্সি শক্তিশালী হবে। এরপর আপনি সেল করবেন তখন, যখন আপনার মনে হবে কুওট কারেন্সির তুলনায় বেস কারেন্সি দুর্বল হয়ে যাবে।

লং/শর্ট (Long/Short):
ট্রেড শুরু করার আগে বাই করবেন না সেল করবেন, তা ঠিক করে নিতে হবে। আপনি ঠিক করলেন বাই করবেন, তার মানে হচ্ছে আপনি বেস কারেন্সি কিনবেন এবং কুওট কারেন্সি বিক্রি করবেন। এখন বাই করার পর আপনার চাওয়া থাকবে বেস কারেন্সির দাম বেড়ে যাক, তাহলে আপনি বেশি লাভে তা বিক্রি করতে পারবেন। ফরেক্সের ভাষায় আপনি লং পজিশনে রয়েছেন। সহজভাবে মনে রাখার জন্য বলা বাই করলে তা লং পজিশন।

একইভাবে যদি আপনার ইচ্ছে হয় সেল করার অর্থাৎ বেস কারেন্সি বিক্রি করা এবং কুওট কারেন্সি কেনার। তাহলে সেল করার পর আপনার লক্ষ থাকবে বেস কারেন্সির দাম কমে গেলে, তা আপনি কিনবেন আরো কম দামে। ফরেক্সের ভাষায় আপনি আছেন শর্ট পজিশনে। শর্ট পজিশন সেলের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

বিড/আস্ক (Bid/Ask):
ফরেক্স ট্রেডিং সফটওয়্যার ব্যবহার করার সময় দেখবেন কোটেশনে দুটি কারেন্সির মূল্য দেয়া থাকে। যে মূল্য দুটি দেয়া থাকে তাদের বিড ও আস্ক বলা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিডের মূল্য আস্কের মূল্যের চেয়ে কম হয়। অর্থাৎ বিড ছোট ও আস্ক বড়।

বিড হচ্ছে এমন একটি মূল্য, যে দামে ব্রোকার কুওট কারেন্সির পরিবর্তে বেস কারেন্সি কিনতে চায়। অর্থাৎ সেল করার জন্য বিড হলো সবচেয়ে ভালো মূল্য।
আস্ক হলো এমন একটি মূল্য, যে দামে ব্রোকার কুওট কারেন্সির পরিবর্তে বেস কারেন্সি বিক্রি করতে চায়। অর্থাৎ বাই করার জন্য আস্ক হলো সবচেয়ে ভালো মূল্য।

ডলার/ইউরো =০.৬৯৮১ হচ্ছে বিড এবং তা বেড়ে যদি ০.৭০১০ হয় তবে তা হচ্ছে আস্ক। তাদের পার্থক্য হচ্ছে (০.৭০১০-০.৬৯৮১) =০.০০২৯ বা ২৯ পিপস। এ পার্থক্যকে বলা হয় স্প্রেড।

চলবে………………………………।

Leave a Reply