টিআইবিঃ আসসালামু আলাইকুম। বন্ধুরা আশা করছি সবাই আল্লাহর অশেষ রহমতে ভাল আছেন। আজ আপনাদের জন্য নিয়ে আসলাম বর্তমান সময়ের বহুল আলোচিত ফরেক্স ট্রেডিং নিয়ে। ফরেক্স বিজনেসের খুঁটি নাটি বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক ২৫ পর্বে ফরেক্স ট্রেডিং এর A-Z আলোচনা করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিক পর্বগুলোতে ফরেক্স ব্যবসায় কিভাবে অগ্রসর হবেন তার বিস্তারিত বর্ননা দেয়ার চেষ্টা করবো। আমার এ লেখাগুলো বিভিন্ন ব্লগ থেকে সংগ্রহ করা। কথা না বাড়িয়ে চলুন ১০ম পর্বে।

বিভিন্ন দেশের মুদ্রার মান সব সময় একই রকম থাকে না, তা সময়ের সাথে এবং দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরিবর্তিত হয়। যেমন: কয়েক বছর আগে ১ মার্কিন ডলারের সমান ছিল ৭০ টাকা। এখন তা বেড়ে ৮৪ টাকার মতো হয়েছে। কিছুদিন পর তা আরো বাড়তে পারে বা তার চেয়ে কমে যেতে পারে। টাকার মান ওঠা-নামার সাথে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা জড়িত। ফরেক্সের ভাষায়, অর্থের মানের এ তারতম্যকে বলতে গেলে বলতে হবে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমা মানে ডলার টাকার চেয়ে শক্তিশালী হচ্ছে। আর টাকার মূল্যমান বাড়ার অর্থ হচ্ছে ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হচ্ছে। টাকা এখনো ফরেক্সের বাজারে নিজের স্থান শক্ত করে নেয়নি। ফরেক্সের বাজারের প্রধান মুদ্রাগুলো হলো: মার্কিন ডলার, ইউরো, ব্রিটিশ পাউন্ড, জাপানি ইয়েন, কানাডিয়ান ডলার, অস্ট্রেলিয়ান ডলার ইত্যাদি।

মনে করুন, আপনার কাছে ১০০ মার্কিন ডলার আছে। তা দিয়ে আপনি ৭০ ইউরো নিলেন। তার অর্থ হচ্ছে আপনি ১০০ ডলার বিক্রি করলেন এবং ৭০ ইউরো কিনলেন। কিছুদিন বা কিছু সময় পর ডলারের বিপরীতে ইউরোর দাম বেড়ে গেলে আপনি তা বিক্রি করে দিয়ে আগের চেয়ে বেশি ডলার পেলেন। ১০০ ডলারের সাথে ইউরোর লেনদেন করে বাড়তি যে ডলার আপনি আয় করলেন সেটাই আপনার লাভ। এভাবেই আপনি ফরেক্সে আয় করতে পারবেন। শেয়ার মার্কেটের বেলায় শুধু শেয়ারের দাম বাড়লেই লাভ করার সুযোগ থাকে, নতুবা নয়। কিন্তু ফরেক্স মার্কেটে মুদ্রার মান বাড়ুক বা কমুক অর্থাৎ শক্তিশালী হোক বা দুর্বল হোক, দুই ক্ষেত্রেই আপনি লাভ করার সুযোগ পাবেন। কারণ একটি মুদ্রার বিপরীতে আরেকটির মান বাড়বে বা কমবে।

ফরেক্সে লাভক্ষতির হিসাব
ফরেক্স মার্কেটে ট্রেড ওপেন বা খোলার এবং তা ক্লোজ বা বন্ধ করার পদ্ধতি বেশ সোজা। শুধু মাউস দিয়ে ক্লিক করেই তা অনায়াসে করতে পারবেন। কিন্তু কোন ট্রেডটি খুলবেন এবং কখন তা বন্ধ করবেন সে ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়াটা কঠিন। স্টক মার্কেট বা শেয়ার মার্কেটে ট্রেড করার অভিজ্ঞতা থাকলে এ ব্যাপারে আপনার তেমন একটা অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এখন দেখা যাক কিভাবে লাভ-লোকসান হয় ফরেক্স মার্কেটে।

মনে করুন, ১ ইউরো/মার্কিন ডলার =১.৪২০০ এক্সচেঞ্জ রেটে (১ EUR/USD= ১.৪২০০) আপনি ১০০০ ইউরো কিনলেন ১৪২০.০ মার্কিন ডলার দিয়ে। দুই-তিন দিন পর বা এক সপ্তাহ পর এক্সচেঞ্জ বেড়ে হলো ১.৪৫০০। এক্সচেঞ্জ রেট বাড়ায় কিনে রাখা ১০০০ ইউরো আপনি বিক্রি করে দিলেন ১৪৫০.০ মার্কিন ডলারে। তাহলে আপনার লাভ হলো ১৪৫০-১৪২০= ৩০ মার্কিন ডলার। এভাবে আপনি ১০০০ ইউরোর বদলে যদি ১০০০০০ ইউরো কিনতেন, তাহলে লাভের পরিমাণ হতো ৩০০০ মার্কিন ডলার। অপরদিকে কারেন্সি কেনার পর এক্সচেঞ্জ রেট যদি কমে যায়, তখন আপনার লোকসান হবে।

চলবে………………………………।

Leave a Reply