মহামারীতে মুনাফায় এগিয়ে বিদেশি ব্যাংক

0

করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যে বেশির ভাগ ব্যাংকের মুনাফা কমলেও তুলনামূলকভাবে এগিয়ে আছে বিদেশি ব্যাংক। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিদেশি ব্যাংকগুলো নিট এক হাজার ৯১ কোটি টাকার মুনাফা করেছে। গত বছরের একই সময়ে এসব ব্যাংকের মুনাফা ছিল ৯৬৭ কোটি টাকা। তবে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফা ৬৬ কোটি টাকা কমে তিন হাজার ৩২৯ কোটি টাকায় নেমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া ব্যাংকগুলোর অনিরীক্ষিত প্রতিবেদন থেকে এ পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।

জানুয়ারি-জুন সময়কালে সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতের পরিচালন মুনাফা কমলেও নিট মুনাফা বেড়েছে। প্রভিশন সংরক্ষণ ও কর পরিশোধের পর নিট মুনাফা হয়েছে দুই হাজার ৬২১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এক হাজার ৮১৪ কোটি টাকার মুনাফা হয়েছিল। প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কম থাকা মুনাফা বৃদ্ধির মূল কারণ। করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কেউ কিস্তি না দিলেও তাকে খেলাপি না করার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সংশ্নিষ্টরা জানান, বিদেশি ব্যাংকগুলোর ব্যবসার বড় অংশই আসে আমদানি-রপ্তানিসহ বৈদেশিক ব্যবসার বিভিন্ন কমিশন থেকে। আবার এসব ব্যাংকে দেশীয় ব্যাংকের তুলনায় তহবিল সংগ্রহ ব্যয় অনেক কম থাকে। বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ খুব কম। সব মিলিয়ে বিদেশি ব্যাংকগুলো ভালো মুনাফা করতে সক্ষম হয়।

ব্যাংক খাতে নিট মুনাফার শীর্ষ দুটি ব্যাংক হলো স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও এইচএসবিসি বাংলাদেশ। ছয় মাসে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, বাংলাদেশ ৫৩৭ কোটি টাকার মুনাফা করেছে। আগের বছরের একই সময়ে ব্যাংকটির মুনাফা ছিল ৫৮১ কোটি টাকা। নিট মুনাফায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা এইচএসবিসি, বাংলাদেশ ৩৬৬ কোটি টাকার মুনাফা করেছে। আগের বছরের একই সময়ে তাদের মুনাফা ছিল ২০২ কোটি টাকা। নিট মুনাফার শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় বাকি ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতের। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষে থাকা ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ এবার ৩১২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। পর্যায়ক্রমে ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ২১৬ কোটি টাকা, সাউথইস্ট ১৮৮ কোটি, ব্যাংক এশিয়ার ১৬১ কোটি, যমুনার ১৫৯ কোটি, ইস্টার্নের ১৫৫ কোটি, ব্র্যাকের ১৫২ কোটি ও পূবালী ব্যাংকের ১৪৬ কোটি টাকা।

মতামত জানতে চাইলে এনসিসি ও মেঘনা ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল আমিন বলেন, করোনাভাইরাস ঠেকানোর উদ্যোগের কারণে এপ্রিল, মে ও জুন মাসে ব্যাংকগুলোর কোনো প্রশিক্ষণ, সশরীরে বৈঠক এবং নতুন নিয়োগ হয়নি। আবার গাড়িসহ অন্যান্য খরচ কমেছে। তবে সুদ আরোপ থেমে থাকেনি। আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিধিনিষেধের কারণে নতুন করে কাউকে খেলাপি করা হয়নি। এসব কারণে ব্যাংক খাতের পরিচালন মুনাফা কমলেও নিট মুনাফা বেড়েছে। অবশ্য গত এপ্রিল থেকে সুদহার ৯ শতাংশ নির্ধারণ না করলে মুনাফা হয়তো আরও বেশি হতো।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য ছয় মাসে খেলাপি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে মাত্র তিন হাজার ৮৪৮ কোটি টাকার প্রভিশন রাখতে হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে যেখানে প্রভিশন রাখতে হয়েছিল পাঁচ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। পরিচালন মুনাফার ওপর কর পরিশোধ বাবদ সংরক্ষণ করেছে তিন হাজার ৭২৭ কোটি টাকা। গত বছরের প্রথম ছয় মাসে এর পরিমাণ ছিল তিন হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা। ব্যাংক খাতের নিট মুনাফা বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হলো, রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আগের বছরের এক হাজার ৫৮৮ কোটি টাকার নিট লোকসান থেকে এবার ৮৪ কোটি টাকার নিট মুনাফা দেখিয়েছে। অবশ্য বিশেষায়িত তিন ব্যাংকের নিট লোকসান ৯৫৯ কোটি থেকে বেড়ে এক হাজার ৮৮২ কোটি টাকা হয়েছে।

জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানার জনতা ব্যাংক এবার ১৬৪ কোটি টাকার নিট মুনাফা দেখিয়েছে। গত বছরের জুন পর্যন্ত যেখানে এক হাজার ৮৯ কোটি টাকার নিট লোকসান ছিল। তবে চূড়ান্ত হিসাবে এই মুনাফা টিকবে না। কেননা, জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির ১৪ হাজার ছয় কোটি টাকা খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

Leave a Reply