সাম্প্রতিক

সিএসআরে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় প্রথম ইসলামী ব্যাংক

সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

২০২২ সালের জানুয়ারি-জুন ভিত্তিক করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ দশ ব্যাংকের নাম ও তাদের ব্যয়ের পরিমাণ সংসদে তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

আজ মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, করোনার শুরুতে সকল তফসিলি ব্যাংককে সিএসআরের আওতায় বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

তিনি বলেন, ২০২০ সালে অর্জিত নিট মুনাফার ১ শতাংশের বিপরীতে বিশেষ সিএসআর খাতে ব্যাংকগুলোর বরাদ্দ ছিল ১০৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। তারা বিতরণ করে ১০৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ১০০ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

২০২২ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে তফসিলি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সিএসআর কার্যক্রমে শীর্ষ ব্যয়কারী ১০ ব্যাংক- ইসলামী ব্যাংক ২০২ কোটি ১৯ লাখ টাকা, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ৩৯ কোটি ৭ লাখ, দি প্রিমিয়ার ব্যাংক ২৯ কোটি ৯৫ লাখ, এক্সিম ব্যাংক ২৮ কোটি ৩৯ লাখ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ২২ কোটি ১৬ লাখ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ২১ কোটি ৬৫ লাখ, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ১৯ কোটি ৮১ লাখ, ঢাকা ব্যাংক ১৪ কোটি ৯৬ লাখ, প্রাইম ব্যাংক ১৪ কোটি ৬৩ এবং ব্র্যাক ব্যাংক ১৪ কোটি ৪৬ লাথ টাকা ব্যয় করে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল কৃষি ঋণের সুদ মওকুফের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নোত্তরে জানিয়েছেন।

এ ছাড়া সরকারি দলের হাবিবর রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থ বছরে (২০২২-২৩) আইএমএফ (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) থেকে এখন পর্যন্ত কোন ঋণ পাওয়া যায়নি। একটি ঋণের বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে চলতি অর্থ বছরে বিশ্বব্যাংক থেকে ৩০ কোটি ডলার ঋণ পাওয়া গেছে। এই ঋণ ৫ বছরের গ্রেস প্রিরিয়ডসহ ৩০ বছরে পরিশোধযোগ্য।

এম আব্দুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে চলতি অর্থ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত জাপান সরকার ৯২১ দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড় করেছে।

গত অর্থ বছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কর রাজস্ব কম আদায় হওয়ার তথ্য উল্লেখ করেন জাতীয় পার্টির সৈয়দ আবু হোসেন। এর জবাবে আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, কভিড পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দা, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ, বিশ্বব্যাপী মুদ্রা নীতি ও ব্যয় সংকোচন নীতি ইত্যাদি কারণে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় কিছুটা ব্যর্থ হয়েছে।

রমজান মাসে ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল, মটর, পেঁয়াজ, মসলা, চিনি ও খেজুরের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখাসহ পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে এ সকল পণ্য ৯০ দিনের বিলম্ব মূল্য পরিশোধ ব্যবস্থায় আমদানির সুযোগ প্রদান করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

এম আবদুল লতিফের আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, গত ২০২১-২২ অর্থ-বছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির হার তৎপূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। টাকার অংকে ১২ হাজার ৩৮৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ২০২১-২২ অর্থ-বছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রয়ের পরিমাণ ১ লাখ ৩ হাজার ৬৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরের পরিমাণ ছিল ৯১ হাজার ২৬৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুন নেসা খানের প্রশ্নের জবাবে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশ হতে অর্থপাচারের কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) পাচারকারী বা পাচারকৃত অর্থের বিষয়ে বিদেশী আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা হতে তথ্য সংগ্রহ করে দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থায় তা সরবরাহ করে থাকে। বিদেশে (সিঙ্গাপুর, মালেয়শিয়া, হংকং, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ইত্যাদি) ফ্ল্যাট বা বাড়ি ক্রয় অথবা অন্য কোনো পদ্ধতিতে অর্থ পাচার বিষয়ক বেশকিছু মামলা বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তাধীন রয়েছে। এছাড়া পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পাচার সংশ্লিষ্ট বেশকিছু মামলা চলমান রয়েছে।

অর্থপাচার রোধ এবং পাচারকৃত অর্থ বাংলাদেশে ফেরত আনার বিষয়ে সরকার বদ্ধ পরিকর এবং এ লক্ষ্যে সরকারের সকল সংস্থা একযোগে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, অর্থপাচার ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ জারি করে এবং পরবর্তীতে ২০১৫ সালে আইনটির বিভিন্ন ধারা সংশোধন করা হয়। আইনের বিভিন্ন ধারা সংশোধনের মাধ্যমে অর্থ পাচার ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রমকে আরও জোরদার করা হয়।

তিনি বলেন, আইনের বিধান অনুসারে বৈধ বা অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ বা সম্পত্তি নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিদেশে পাচার মানিলন্ডারিং অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ বাংলাদেশে ফেরত আনার লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্স পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

আরও দেখুন:
ইসলামী ব্যাংক প্রায় দুই কোটি গ্রাহকের আস্থার ব্যাংক
অর্জনের শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২ জারি করা হয়েছে। ওই আইনের আওতায় অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা প্রদানকল্পে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্ধারণ করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button