আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ প্রচারের নির্দেশ

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে করদাতাদের বিদেশে থাকা অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা আয়কর রিটার্নে প্রদর্শনের যে সুযোগ দেয়া হয়েছে, তা ব্যাপকভাবে প্রচারের জন্য দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর আগে ব্যাংকগুলোর জন্যও একই নির্দেশনা দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ জারি করা নির্দেশনা পরিপালনের এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করে এই নির্দেশনা দেয়া হয়।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

আয়কর অধ্যাদেশ অনুসারে ‘অফশোর ট্যাপ অ্যামনেস্টি’ বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ ও প্রচার বিষয়ে দেশে কার্যরত সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘অর্থ আইন, ২০২২’ এর মাধ্যমে ‘আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪’ এর ধারা-১৯ এফ অনুসারে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের (২০২৩) ৩০ জুন সময়ে ৭ শতাংশ কর দিয়ে বাংলাদেশের বাইরে যে কোনো রূপে গচ্ছিত অপ্রদর্শিত অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে বৈধভাবে দেশে এনে আয়কর রিটার্নে প্রদর্শন করা যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত সার্কুলার গত ১৮ জুলাই জারি করেছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, বিদেশে থাকা অপ্রদর্শিত অর্থ আয়কর রিটার্নে প্রদর্শনের সুযোগ বা অফশোর ট্যাপ অ্যামনেস্টি বিধান সংক্রান্ত বিধিবিধান আপনাদেও প্রধান কার্যালয়সহ শাখা পর্যায়ে বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রদর্শন ও গ্রাহকদের মধ্যে বহুল প্রচারের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে অর্থ আইনের মাধ্যমে আয়কর অধ্যাদেশে নতুন ধারা যুক্ত করে সরকার। এতে করদাতাদের বিদেশে থাকা অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা আয়কর রিটার্নের মাধ্যমে প্রদর্শনের সুযোগ দেয়। সেখানে বলা হয়, করদাতারা তাদের বিদেশে থাকা নগদ টাকা, আমানত, যেকোনো ধরনের ব্যাংক নোট এবং কনভার্টেবল সিকিউরিটিজ বা ইনস্ট্রুমেন্ট দেশের আয়কর রিটার্নে বিনা প্রশ্নে দেখাতে পারবেন। ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে এসব অর্থ দেশে আনতে হবে। এ জন্য তাদের ঘোষিত অর্থের ৭ শতাংশ কর দিতে হবে। একে বলা হচ্ছে, অফশোর ট্যাপ অ্যামনেস্টি বা বিদেশে থাকা কালো টাকা আয়কর রিটার্নে প্রদর্শনের দায়মুক্তি।

এদিকে, সুযোগ দেয়ার পরও কালো টাকা বৈধ করতে করদাতাদের অনাগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২১-২০২২ অর্থবছরে মাত্র ২ হাজার ৩১১ জন করদাতা ঘোষণা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বৈধ করেছেন। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ১ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা। এর মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর অর্জিত হয়েছে ১১৬ কোটি টাকার কিছু বেশি।

২০২০-২০২১ অর্থবছরে প্রায় ২০ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা অপ্রদর্শিত অর্থ বা কালো টাকা বৈধ বা সাদা হয়, যেখানে ১১ হাজার ৮৫৯ জন করদাতা কালো টাকা বৈধ করেন। এটি দেশে স্বাধীনতার পর থেকে এক বছরের হিসাবে সর্বোচ্চ, যাদের মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশি ব্যাংকে রাখা বিভিন্ন আমানত, এফডিআর, সঞ্চয়পত্র বা নগদ টাকার ওপর ১০ শতাংশ কর দিয়ে টাকা সাদা করেছেন।

আরও পড়ুন: ডলার লেনদেন করতে ৬৬৬ এডি শাখার অনুমোদন চায় ২৩ ব্যাংক

এনবিআরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় সব সরকারই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছে। ২০২০-২০২১ অর্থবছর ছাড়া সবচেয়ে বেশি অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগে এসেছে ২০০৭ ও ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়। তখন দেশের পরিস্থিতি ছিল একেবারেই ভিন্ন। ওই দুই বছরে ৩২ হাজার ৫৫৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ সুযোগ নিয়েছিল; বৈধ হয়েছিল ৯ হাজার কোটি টাকা। তা থেকে সরকার কর পেয়েছিল এক হাজার ২০০ কোটি টাকার কিছু বেশি। এর মধ্যে ২০০৭ সালে ৮০৩ কোটি টাকা এবং পরের বছর ৪০০ কোটি টাকা কর পেয়েছিল এনবিআর।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button