নতুন আইফোনে যে ফিচারগুলো থাকতে পারে!

0
60

টিআইবিঃ টেক জায়ান্ট অ্যাপল প্রতি বছর সেপ্টেম্বরে নতুন আইফোন উন্মোচন করে আসছে। এবারো তার ব্যতিক্রম হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। গত কয়েক বছরের মতো এবারো আইফোনের নতুন তিন সংস্করণ আনা হতে পারে। চলতি বছর আইফোনের নতুন সংস্করণগুলোয় যে ফিচারগুলো আসতে পারে, তা নিয়ে আজকের আয়োজন।

ট্রিপল লেন্স ক্যামেরাঃ

চলতি বছর আইফোনের নতুন সংস্করণগুলোর ক্যামেরা ফিচারে সবচেয়ে বড় চমক থাকবে। নতুন আইফোনে প্রথমবারের মতো ট্রিপল লেন্স ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারে অ্যাপল, যা মোবাইল ক্যামেরা ফটোগ্রাফিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক স্মার্টফোন বাজারে অ্যাপলের শীর্ষ দুই প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাং ও হুয়াওয়ে এরই মধ্যে তাদের ট্রিপল ও কোয়াড ক্যামেরা সংবলিত হ্যান্ডসেট বাজারে ছেড়েছে। চলতি বছর নতুন তিন আইফোনের মধ্যে সবচেয়ে দামি সংস্করণটিতে ট্রিপল লেন্স ক্যামেরা ব্যবহার করা হতে পারে। ডিভাইসটি গত বছর বাজারে ছাড়া আইফোন এক্সএস ম্যাক্সের পরবর্তী সংস্করণ হবে।

ডিসপ্লেঃ

নতুন আইফোনের ডিসপ্লের মাপে গত বছরের সংস্করণগুলোর সঙ্গে খুব বেশি পার্থক্য আনা হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থাৎ আইফোনের সর্বশেষ সংস্করণগুলোর সঙ্গে নতুন আইফোনের ডিসপ্লের কোনো পার্থক্য দেখা যাবে না। তবে চলতি বছর নতুন তিন আইফোনেই অর্গানিক লাইট-এমিটিং বা ওএলইডি ডিসপ্লে প্যানেল ব্যবহার করা হতে পারে।

গত বছর বাজারে ছাড়া সবচেয়ে সাশ্রয়ী সংস্করণ আইফোন এক্সআরে এলসিডি ডিসপ্লে ব্যবহার করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

উন্নত ফেস আইডি ক্যামেরাঃ

চলতি বছর অ্যাপলের ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেমের হালনাগাদ সংস্করণ দেখা যেতে পারে। অ্যাপল পণ্যের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বিশ্লেষক মিং চি কুয়ো ম্যাক রিউমারসকে জানিয়েছেন, ফেস আইডি ক্যামেরার হালনাগাদ সংস্করণ আনতে যাচ্ছে অ্যাপল, যা খুব অল্প আলোয় কাজ করবে এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা বাড়াবে।

চলতি বছর আইফোনের নতুন সংস্করণে আরো উন্নত থ্রিডি ক্যামেরা দেখা যেতে পারে। এর ফলে আইফোনের অগমেন্টেড রিয়েলিটি পারফরম্যান্স বাড়বে। তবে সেপ্টেম্বরে আসতে যাওয়া আইফোনের আগেই আইপ্যাড ডিভাইসে প্রথম এ প্রযুক্তির দেখা মিলতে পারে।

ফাস্ট-চার্জিং ব্রিকঃ

বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য ফাস্ট-চার্জিং ব্রিক একটি আদর্শ প্রযুক্তি হয়ে উঠেছে। চলতি বছর প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল নতুন যে তিন আইফোন আনতে যাচ্ছে, সেগুলোতেও এ প্রযুক্তির দেখা মিলবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি ওয়েবসাইট ম্যাকওটাকারার তথ্যমতে, বরাবরের মতোই এবারো নতুন আইফোনগুলোয় ৫-ওয়াট চার্জিং ব্রিকই ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ আইফোন ব্যবহারকারীরা পছন্দের ডিভাইস দ্রুত চার্জ করতে চাইলে তাদের পৃথকভাবে ১৮-ওয়াটের চার্জার কিনতে হবে।

অন্য ডিভাইস চার্জের সুবিধাঃ

৯টু৫ ম্যাকের দাবি, চলতি বছর আইফোনের নতুন তিন সংস্করণে দ্বিপক্ষীয় চার্জিং প্রযুক্তি যুক্ত করা হবে। অর্থাৎ আইফোনের মাধ্যমে অন্যান্য ডিভাইস চার্জ করার সুবিধা মিলবে। অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস নির্মাতা এরই মধ্যে বেশকিছু হ্যান্ডসেট এ সুবিধা এনেছে। অ্যাপলের শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাংয়ের নতুন গ্যালাক্সি এস১০ স্মার্টফোনে এ প্রযুক্তি আনা হয়েছে। ডিভাইসটির মাধ্যমে গ্যালাক্সি ওয়াচ অ্যাক্টিভ এবং গ্যালাক্সি বাডের মতো ডিভাইস চার্জ করে নেয়া যায়।

ডিজাইনঃ

গত বছরের সংস্করণগুলোর চেয়ে নতুন তিন আইফোন দেখতে খুব বেশি আলাদা হবে না। অর্থাৎ ডিজাইনের দিক থেকে আইফোনের নতুন সংস্করণগুলো সর্বশেষ আইফোন এক্সআর, আইফোন এক্সএস ও আইফোন এক্সএস ম্যাক্সের মতোই হবে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী বছর আইফোনের ডিজাইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে অ্যাপল এবং আইফোনের আগামী বছরের সংস্করণগুলো পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ফাইভজি সমর্থন করবে। চলতি বছর আইফোনের নতুন সংস্করণগুলোর কাঠামোতে গ্লাসের তৈরি কেসিং ব্যবহার করা হবে এবং ডিসপ্লের ওপরের অংশে নচ থাকবে।

ইউএসবি-সিঃ

আইফোন চার্জ দেয়ার জন্য এ পর্যন্ত লাইটেনিং চার্জার ব্যবহার করে আসছে অ্যাপল। চলতি বছর আইফোনের নতুন সংস্করণগুলোয় পরিবর্তন আনা হতে পারে।

ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, চলতি বছর আইফোনে চার্জ দেয়ার জন্য লাইটেনিং চার্জারের পরিবর্তে নতুন আঙ্গিকের ইউএসবি-সি পোর্টের পরীক্ষা চালিয়েছে অ্যাপল। তবে অ্যাপল পণ্যের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বিশ্লেষক মিং চি কুয়োর দাবি, আইফোন দেয়ার জন্য এবারোও লাইটেনিং চার্জারেই থাকছে অ্যাপল। আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

প্রসেসরঃ

গত বছর আইফোনে এ১২ বায়োনিক প্রসেসর ব্যবহার করেছিল অ্যাপল। চলতি বছর আইফোনের নতুন সংস্করণগুলোয় এ প্রসেসরের হালনাগাদ সংস্করণ ব্যবহার করা হতে পারে, যা আরো শক্তিশালী ও দ্রুত কার্যসম্পাদনের অভিজ্ঞতা দেবে। এবার আইফোনের নতুন সংস্করণে আরো শক্তিশালী ব্যাটারির দেখা মিলবে।

গত বছর সবচেয়ে সাশ্রয়ী সংস্করণ আইফোন এক্সআরে ৩ গিগাবাইট র্যাম ব্যবহার করেছিল অ্যাপল। এবার ডিভাইসটির পরবর্তী সংস্করণে ৪ গিগাবাইট র্যাম ব্যবহার করা হতে পারে।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার।

Leave a Reply