টিআইবিঃ তথ্য প্রযুক্তির যুগে মানুষের মন মস্তিষ্ক পড়ে রয়েছে হাইপারলুপের দিকে। হাজার হাজার কিলোমিটার কয়েক মিনিটে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছে মানুষ। বিমান যাত্রাই এর আগে পর্যন্ত সব থেকে দ্রুত যাত্রা ছিল। সেখানেও গতির হের ফের আছে। বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের বিভিন্ন গতি। দূরত্ব অনুযায়ী এবং উচ্চতা অনুযায়ী দ্রুত গতির বিমান আর কম গতির বিমানে তফাত আছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান সফরসঙ্গী এখনও পর্যন্ত ট্রেনই। তাই ট্রেনের গতি বাড়ানো নিয়ে সব দেশই নানান রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে গত কয়েক দশক ধরে।

এই মুহূর্তে বিশ্বের দ্রুততম ট্রেন হল চীনের Shanghai Maglev। ক্রমের ভিত্তিতে বিশ্বের দ্রুততম ১০টি ট্রেন সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। এই ক্রম ট্রেনের অপারেটিং স্পিডের ভিত্তিতে, রেকর্ড স্পিডের ভিত্তিতে নয়। সারা বিশ্বে সুপার ফাস্ট অনেক ট্রেন রয়েছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় লম্বা দূরত্ব পেরিয়ে নিমেষে পৌঁছে যেতে পারে গন্তব্যে। তার উপর ট্র্যাকে এমন মসৃণ ভাবে চলাচল করে যে মনেই হবে না দ্রুতগতির ট্রেনে চেপেছেন আপনি। সবচেয়ে দ্রুতগামী ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ২৬৭.৮ মাইল, যার সোজা হিসেব ৮ ঘণ্টার রাস্তা তিন ঘণ্টাতেই পার করে এই ট্রেন।

দশম স্থান: YHT (তুরস্ক)— ১৫৫.৩৪ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিবেগ

তুরস্কের Yuksek Hizi Tren দেশের একমাত্র দ্রুততম রেল সার্ভিস। ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটার গতিতে চলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির মধ্যে। আঙ্কারা থেকে এস্কেশের হয়ে ইস্তাম্বুল এবং আঙ্কারা থেকে পোলাটি হয়ে কন্যাে পর্যন্ত দুটি লাইন রয়েছে। দু ঘণ্টার কম সময়ে ট্রেনটি ১৫০ মাইলের বেশি যেতে পারে। YHT এ তিন শ্রেণির কামরা রয়েছে। প্রথম, বিজনেস ও ইকনমি। সঙ্গে রয়েছে ক্যাফে এবং বিনোদনের নানা ব্যবস্থা।

নবম: THSR (তাইওয়ান)—১৮৬.৪১ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিবেগ

THSR 700 হল কাওয়সাকি হেভি ইন্ডাস্ট্রি, নিপ্পন শারো এবং হিটাচি লিমিটেডের হাইস্পিড ইলেকট্রিক ট্রেন। ২০০৭ এ তাইপে সিটি ও কাউশিয়াংয়ের মধ্যে প্রথম চালু হয়। এক ধাক্কায় যাত্রা সময় সাড়ে চার ঘণ্টা থেকে কম হয়ে যায় দেড় ঘণ্টা। বর্তমানে ৩০টি এধরনের ট্রেন চলে যাতে একটা বিজনেস ক্লাস ও ১১টি স্ট্যান্ডার্ড ক্লাস কার রয়েছে।

অষ্টম: KTX (দক্ষিণ কোরিয়া) ১৯০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিবেগ

কোরিয়ান ট্রেন এক্সপ্রেসের এই হাইস্পিড ট্রেনটি Incheon International Airport থেকে শুরু করে সিওল, স্টেশন সহ নানা স্টেশন ছুঁয়ে যায়। যদিও ২১৭ mph এর পরিকাঠামো রয়েছে তবে ট্রেনের গতি ১৯০ mph এ বেঁধে রাখা হয়। এই ট্রেন শুধু দ্রুতগামীই নয় টিকিট খরচ মধ্য বিত্তদের নাগালে। তাছাড়া অ্যাডভান্স বুকিংয়ে ছাড় ও শিশুদের জন্য স্পেশাল প্রাইস রাখা হয়।

সপ্তম: TGV Duplex (ফ্রান্স)-২০০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিবেগ

ফ্রান্সের দ্রুতগামী ট্রেন সার্ভিস TGV Duplex ২০১১ সালে লঞ্চ হয়। ট্রেনটি ২০০ mph পর্যন্ত গতিতে চলতে পারে। ৫০৮ আসন বিশিষ্ট এই ট্রেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরের মাঝে ছুটে চলে। মূলত অ্যালুমিনিয়াম বডি, ট্রেনের ৯০ শতাংশ যন্ত্রাংশ রিসাইকেল করা যাবে। ট্রেনটি হালকা এবং ইকো ফ্রেন্ডলি। সবচাইতে বড় কথা ইউরোপের আরামদায়ক ট্রেনগুলির মধ্যে একটি TGV Duplex।

ষষ্ঠ: DeutscheBahn ICE (জার্মানি)- ২০৫ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিবেগ

গোটা জার্মানি জুড়ে ছুটে চলে দ্যা ইন্টার-সিটি এক্সপ্রেস বা ICE। আরামদায়ক এই ট্রেন ২০৫ mph পর্যন্ত গতি তুলতে পারে। প্রত্যেকটি বগি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত, সিটের সঙ্গে হেড-ফোন জ্যাক থাকে যাতে যাত্রাপথে গান শোনা বা অন্যকিছু চাইলে শুনতে পারেন যাত্রীরা। প্রত্যেক সিটের ওপর ডিসপ্লে বোর্ডে ভেসে ওঠে জায়গার নাম।

পঞ্চম: AVE (স্পেন)- ২১৭ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিবেগ

Alta Velocidad Espanola (AVE) হল Renfe পরিচালিত স্পেনের হাইস্পিড ট্রেন সার্ভিস। ৩,১০০ কিলোমিটার ট্র্যাকে ২১৭ mph পর্যন্ত গতিতে ছুটতে পারে। স্পেনের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলি ছুঁয়ে যায় AVE। মাদ্রিদ থেকে বার্সেলোনা যেতে মাত্র ৩ ঘণ্টা সময় নেয়। ক্যাফে এবং বাচ্চাদের জন্য আলাদা এলাকার সুবিধা পাওয়া যায় এই ট্রেনে।

চতুর্থ: Frecciarossa 1000 (ইটালি)- ২২০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিবেগ

AnsaldoBreda ও Bombardier Transportation নির্মিত Frecciarossa 1000 হাইস্পিড ট্রেন সার্ভিস। ২২০ mph পর্যন্ত গতিতে চলতে পারে। এক্সিকিউটিভ, বিজনেস, প্রিমিয়াম ও স্ট্যান্ডার্ড এই চার শ্রেণিতে ৪৮৫ জন যাত্রী ভ্রমণ করতে পারেন। এক্সিকিউটিভ ক্লাসে মিটিং রুমও থাকে। বিজনেস ও প্রিমিয়াম শ্রেণিতে লাউঞ্জ থাকে।

তৃতীয়: NTV Alstom AGV 575 (ইটালি)- ২২০ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিবেগ

Alstom এর ডিজাইন করা আরেকটি হাইস্পিড ট্রেন AGV 575। নেপলস এবং মিলানে এই ট্রেনের পরিষেবা পাওয়া যায়। পারমানেন্ট ম্যাগনেট সিনক্রোনাস মোটরের ব্যবহার গতির সৃষ্টি করে। তিনটি শ্রেণিতে ইন্টারনেট কানেকটিভিটি, টিভি এবং সিনেমার ব্যবস্থা রয়েছে।

দ্বিতীয়: Harmony CRH380A (চীন)- ২৩৬ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিবেগ

Harmony CRH380A বিশ্বের দ্বিতীয় দ্রুততম ট্রেন। ২৩৬ mph গতিতে চলতে পারে। ২০১০ সালে সাংহাই থেকে নানজিং রুটে প্রথম চালু হয়। হালকা অ্যালুমিনিয়ামে তৈরি ট্রেনটি ৪৯৫ আসন বিশিষ্ট। সামনেটা মাছের মতো আকার। ট্রেনের এই আকারের জন্য হাওয়ার বিরুদ্ধে গতি তুলে ছুটে যেতে অসুবিধে হয় না। রিডিং ল্যাম্প, পাওয়ার সকেট সহ নানা সুবিধা রয়েছে ট্রেনে।

প্রথম: Shanghai Maglev Train (চীন)- ২৬৮ মাইল প্রতি ঘণ্টা গতিবেগ

বিশ্বের দ্রুততম চিনের Shanghai Maglev Train। ম্যাগনেটিক লেভিটেশন টেকনোলজি ব্যবহার করে মাত্র ৭ মিনিটে ১৯ মাইল পেরোতে পারে ট্রেনটি। Siemens এবং ThyssenKrupp এর তৈরি ট্রেনটি বিশ্বের একমাত্র বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত Maglev। সুপারফাস্ট ট্রেনটি ৫৭৪ আসন বিশিষ্ট। যাত্রা মোটেও খরচ সাপেক্ষ নয়। একটি টিকিট ৮ ডলার। ৭ মিনিটে যাত্রার জন্য ভিআইপি টিকিট হলে দাম পড়বে ১৬ ডলার।

আশা করি পোস্টটি আপনাদের ভাল লেগেছে। পোস্টটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করুন এবং অন্যকে দেখার সুযোগ করে দিন।

কার্টেসি: HINDOL GOSWAMI

Leave a Reply