৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারির পর পরীক্ষার্থীদের করণীয়

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল সাধারণত এক থেকে দুই মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হয়ে থাকে। গত ২৭ মে অনুষ্ঠিত ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরা ইতিমধ্যে নিজেদের প্রাপ্ত নম্বর ও সম্ভাব্য কাট মার্কসের ধারণা পেয়ে গেছেন। কেউ পাস করতে যাচ্ছেন, কেউ পাস ফেলের দোটানায় রয়েছেন, আবার কেউবা ধরেই নিয়েছেন অকৃতকার্য হবেন। প্রিলিমিনারির পর এই তিন ধরনের প্রার্থীদের করণীয় এখানে তুলে ধরা হলো।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

আরও দেখুন:
বিসিএস প্রস্তুতি: সফলদের প্রিলি পাসের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ
বিসিএস কেন চাকরি প্রার্থীদের পছন্দের শীর্ষে

নিশ্চিতভাবে ফেল

এমন যদি হয়, আপনি প্রথমবারের মতো পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অনুত্তীর্ণ হতে যাচ্ছেন, তাহলে এখন থেকে আবার পরবর্তী বিসিএস বা ব্যাংকের চাকরির জন্য প্রস্তুতি শুরু করুন। বিসিএসের প্রস্তুতি কম থাকলে সেটিকে আরও পাকাপোক্ত করুন। আপনার প্রিলিমিনারি প্রস্তুতি মোটামুটি পর্যায়ের হলে বিসিএস প্রস্তুতি আপাতত বন্ধ রাখুন, ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার পর প্রস্তুতির বাকি অংশ শেষ করা যাবে। বর্তমান সময় ব্যাংক প্রস্তুতির জন্য রাখতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চলমান। এর পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও অফিসারের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়মিতই হচ্ছে। কিছুদিন পরপর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আসা এবং পদের সংখ্যা বেশি থাকায় ব্যাংকের চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।

আপনি যদি ইতিমধ্যে একাধিকবার বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ফেল করে থাকেন এবং বয়স প্রায় শেষের দিকে থাকে, তাহলে সরকারি চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি বেসরকারি চাকরি ও উদ্যোক্তা হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। আপনার কোন বিষয়ে আগ্রহ ও দক্ষতা, ভবিষ্যতে কোন পেশার চাহিদা বাড়তে পারে এসব নিয়ে ভাবুন। প্রয়োজনে বন্ধু, পরিবার ও উদ্ভাবনী কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের পরামর্শ নিতে পারেন। বেসরকারি চাকরি, ফ্রিল্যান্সিং শেখা, যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা, উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ী হওয়া আপনার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। দিন শেষে চাকরি মানে কিছু করে খাওয়া, এর বেশি কিছু নয়।

পাস–ফেলের দোটানায়

যাঁরা এমন পরিস্থিতিতে আছেন, তাঁদের জন্য দুটি পথ রয়েছে। প্রথমটি হলো, সামনের বিসিএসগুলোর কথা চিন্তা করে ৪৪তম বিসিএসের প্রার্থীদের সঙ্গে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করা। এবার ফেল এলেও ৪৫তম প্রিলিতে টিকলে এই প্রস্তুতি আপনার কাজে লাগবে। এ ছাড়া সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের লিখিত পরীক্ষা ও ব্যাংকের লিখিত পরীক্ষার সঙ্গে বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসের মিল থাকায়, সেখানেও আপনি বাড়তি সুবিধা পাবেন। আরেকটি পথ হলো, অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের লিখিত পরীক্ষা এবং বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসের মধ্যে যে অংশটুকু কমন, ফলাফলের আগে শুধু সেই অংশটুকুর প্রস্তুতি নিতে পারেন। ফলাফল ইতিবাচক হলে পুরো সিলেবাস শেষ করার ক্ষেত্রে এখন থেকেই আপনি অনেকটা এগিয়ে থাকলেন। এ ক্ষেত্রে আপনি বাংলা বিষয়ের অনুবাদ ও রচনা, ইংরেজি বিষয়ের অনুবাদ ও রচনা, বাংলাদেশ বিষয়াবলির বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ, সমসাময়িক যোগাযোগ, বিশ্বায়ন ও বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বৈশ্বিক পরিবেশ, বিশ্ব উদ্যোগ, আঞ্চলিক সংস্থা, পাটিগণিত ও জ্যামিতি অধ্যায়গুলো থেকে প্রস্তুতি নিতে পারেন।

যাদের পাসের সম্ভাবনা বেশি

বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার একটি যোগ্যতামাত্র। বিসিএস ক্যাডার হওয়া অনেকাংশেই নির্ভর করে লিখিত পরীক্ষার নম্বরের ওপর। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফলের পর লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য যে সময় পাওয়া যায়, তা খুবই কম। তাই প্রিলি পাস নিশ্চিত মনে হলে, প্রথমবারের প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করতে হবে এখন থেকেই। প্রথমেই বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস (সর্বশেষ সংশোধন ২০২১) ডাউনলোড করে কয়েকবার ভালো করে চোখ বুলিয়ে নিন এবং বিগত বছরের লিখিত পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নগুলো কয়েকবার পড়ে প্রশ্নের ধরন বোঝার চেষ্টা করুন। এরপর বিষয়ভিত্তিক রেফারেন্স বইগুলো সংগ্রহ করে নিন।

প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তুলনায় লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস বিশাল। এত বড় সিলেবাস দেখে ঘাবড়ে না গিয়ে, পুরো সিলেবাসটিকে ৯০ দিন বা ১২০ দিনে ভাগ করে প্রতিদিনের অংশটুকু শেষ করার চেষ্টা করুন। দেখবেন একসময় সিলেবাস শেষ হয়ে গেছে। আরেকটি বিষয় হলো প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সব প্রার্থীর উত্তর এক হলেও লিখিত পরীক্ষায় অন্যদের থেকে আপনার খাতায় সৃজনশীলতা আপনাকে লিখিত পরীক্ষার নম্বরে এগিয়ে রাখবে। বিষয়টি মাথায় রেখে রেফারেন্স বই, দৈনিক সংবাদপত্র, চলতি বছরের অর্থনৈতিক সমীক্ষা, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বার্ষিক প্রতিবেদন, সংবিধান, বিভিন্ন আইন, খ্যাতিমান ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন বিষয়–সম্পর্কিত উক্তি, বাংলাদেশ ও পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল, জোট ও বিরোধ–সংক্রান্ত মানচিত্র, বিভিন্ন সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, উইকিপিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল ইত্যাদি থেকে প্রাপ্ত তথ্য নোট বইয়ে (লিখিত সিলেবাসের টপিক ধরে ধরে) টুকে রাখুন। পরীক্ষার এ–সম্পর্কিত কোনো প্রশ্ন পেলেই তার উত্তরে সংগৃহীত তথ্য (রেফারেন্সসহ) সংযুক্ত করে দেবেন। লিখিত পরীক্ষায় যত বেশি নম্বর তুলতে পারবেন, কাঙ্ক্ষিত ক্যাডার পাওয়ার সম্ভাবনা ততই বাড়বে।

Leave a Reply

Back to top button