চাকরিজীবী নারীরা বেতনের বিপরীতে পাবেন অগ্রিম ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মশালায় জানানো হয়, আগামী জানুয়ারিতে নারীবান্ধব ৬টি নতুন সেবা চালু করবে দেশের ১৩টি এমএফএস প্রতিষ্ঠান।

এখন পর্যন্ত বিকাশ ও রকেটের মতো মোবাইলে আর্থিক সেবা বা এমএফএসের আওতায় সাধারণ লেনদেন (ক্যাশ ইন ক্যাশ আউট) করা যায়। তবে বিকাশের মাধ্যমে ছোট অঙ্কের ঋণও পাওয়া যাচ্ছে, কিছুদিন ধরে। তবে সবাই এ ঋণ পান না। এ অবস্থায় নারী চাকরিজীবীরা মাস শেষ হওয়ার আগে যাতে এমএফএস হিসাবের মাধ্যমে ঋণ নিতে পারেন, সেই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

মাসের শেষ সপ্তাহে এসে ওই মাসের যত দিন কাজ করেছেন, তার ওপর এই ঋণ নিতে পারবেন ওই নারী চাকরিজীবী। পরের মাসের যে তারিখে তাঁর বেতন হবে, তখন ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণের টাকা বুঝে নেবে এমএফএস প্রতিষ্ঠান। প্রাথমিকভাবে এ সুবিধা তৈরি পোশাক খাতের কর্মীদের জন্য চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পরে তা চাকরিজীবী অন্যান্য নারীর ক্ষেত্রেও চালু করা হবে।

গতকাল শনিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আয়োজনে রাজধানীর ওয়েস্টিনে হোটেলে এক কর্মশালায় এমন পরিকল্পনার কথা জানান এমএফএস প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে নারীবান্ধব নতুন ৬টি সেবা চালুর জন্য দেশের ১৩টি এমএফএস প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সাধারণত এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের সরাসরি ঋণ দিতে পারে না। এ ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করবে এক বা একাধিক ব্যাংক।

কর্মশালায় কর্মজীবী নারীদের জন্য এমএফএসের মাধ্যমে বিশেষায়িত আরও যেসব সেবা চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়, তার মধ্যে রয়েছে অনলাইনে ব্যবসা করছেন, এমন নারীদের প্রতিদিনের আয়ের অর্থ ব্যাংক হিসাবে যতবার ইচ্ছা ততবার জমার সুবিধা চালু। পাশাপাশি এসব নারী ব্যবসায়ীর জন্য ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চলতি মূলধনের ব্যবস্থা করা, এমএফএসের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমা চালু, তৈরি পোশাক খাতের নারী কর্মীদের জন্য ন্যূনতম প্রিমিয়ামে ১০ হাজার টাকার স্বাস্থ্যবিমা সেবা, নারীদের মোবাইল ওয়ালেটে আলাদা মূল্যছাড় সুবিধা চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। এ ছাড়া এমএফএসের মাধ্যমে আসা প্রবাসী আয় থেকে সঞ্চয়সহ সর্বজনীন পেনশন স্কিমের টাকা জমার সুবিধা চালু করার কাজ চলছে বলেও কর্মশালায় জানানো হয়।

গতকালের কর্মশালায় জানানো হয়, মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কয়েকটি নারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিও সম্পন্ন করেছে। দ্রুততম সময়ে যাতে এসব সেবা চালু করা যায়, তার তাগাদা দিতেই গতকাল ১৩টি এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে কর্মশালা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কর্মশালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক শাহ জিয়াউল হক বলেন, নারীদের জন্য বিশেষায়িত সেবাগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাজারে আনতে হবে।

কর্মশালায় এমএফএস প্রতিষ্ঠান রকেট, বিকাশ, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মাই ক্যাশ, ইসলামী ব্যাংকের এম ক্যাশ, ট্রাস্ট ব্যাংক ও আজিয়াটার উদ্যোগে গঠিত পে-ট্যাপ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ফার্স্ট পে শিওরক্যাশ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের উপায়, ওয়ান ব্যাংকের ওকে ওয়ালেট, রূপালী ব্যাংকের শিওরক্যাশ, সাউথ ইস্ট ব্যাংকের টেলিক্যাশ, আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংকের ইসলামিক ওয়ালেট ও ডাক বিভাগের সেবা নগদ–এর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এদিকে অনলাইনকেন্দ্রিক নারী উদ্যোক্তাদের জন্য চলতি মূলধনের ব্যবস্থা ও টাকা জমার ব্যবস্থা চালু হলে তা এ খাতের উদ্যোক্তাদের অনেক এগিয়ে নেবে বলে মনে করছেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি সব শ্রেণির নারীদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন নারী উদ্যোক্তারা। এ বিষয়ে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) যুগ্ম সম্পাদক নাসিমা আক্তার বলেন, ‘এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর নারীদের জন্য বিশেষ সেবা চালুর এ পরিকল্পনাকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমরা দেখি, মাসের শেষ দিকে শুধু চাকরিজীবীরা নয়, ব্যবসায়ীরাও নগদ টাকার সংকটে ভোগেন। তাঁদের জন্যও ছোট ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে অনেক নারী উপকৃত হবেন।’

গতকালের কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক খুরশীদ আলম বলেন, বর্তমানে এমএফএস হিসাবধারীর মধ্যে ৪৫ শতাংশই নারী। তাই নতুন নতুন সেবা দিয়ে নারীদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে হবে।

আরও দেখুন:
ডিজিটাল যুগের ব্যাংকিং
ইউয়ান কি ক্ষমতাধর ডলারকে সরিয়ে দিয়ে রিজার্ভ মুদ্রা হতে পারবে?

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন মাস্টার কার্ড বাংলাদেশ প্রধান বা কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান, ব্র্যাক ব্যাংকের নারী ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান মেহরুবা রেজা প্রমুখ।

Related Articles

Back to top button