কর্পোরেট

কর্মজীবীদের সঞ্চয় করার ১০টি কার্যকর কৌশল

অনেকেই মনে করেন চাকরি করে সঞ্চয় অসম্ভব। কিন্তু তাই বলে কেউ-ই কি সঞ্চয় করছেন না? অনেকেই নানা উপায়ে করছেন। তাঁদের কৌশল হয়তো ভিন্ন। সঞ্চয় করার ১০টি ‘অপ্রিয় কিন্তু পরীক্ষিতভাবে কার্যকর’ পরামর্শ রইল আপনার (বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের) জন্য।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

০১. মাসে অন্তত ১০০ টাকা হলেও সঞ্চয় করুন। আপনার মনে হতে পারে, এত অল্প টাকা সঞ্চয় করে কী হবে! তবু করুন। সঞ্চয়ের অভ্যাসই সঞ্চয়ের প্রধান ও গোপন সূত্র। আর সঞ্চয়ের খবর সম্পূর্ণভাবে গোপন রাখা উচিত। আপনি আমার সঙ্গে একমত না-ও হতে পারেন; কিন্তু অভিজ্ঞতা বলে এটিই সঠিক।

০২. সঞ্চয়ের বিষয়টি যদি একান্তই কাউকে জানিয়ে রাখার প্রয়োজন বলে মনে করেন, তাহলে খুব কাছের কাউকে জানান। যিনি সঞ্চয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে পারবেন।

০৩. এমনভাবে সঞ্চয় করুন, যাতে আপনি নিজে চাইলেও চট করে খরচ করতে পারবেন না। অর্থাৎ প্রাইজবন্ড, স্বর্ণ, ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র, ইনস্যুরেন্স ইত্যাদি নানা মাধ্যমে সঞ্চয় করুন।

০৪. সঞ্চিত সম্পদ বাড়ানোর জন্য কোনো ভাবেই ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করা উচিত নয়।

০৫. সঞ্চিত সম্পদ যদি বিনিয়োগ করতেই চান, তাহলে আংশিক করুন। যাতে বিপদ এলেও আপনাকে নিঃস্ব করতে না পারে।

০৬. বিপদে কাউকে সঞ্চিত টাকা থেকে ধার দেবেন না। এতে দেখা যাবে আপনার সঞ্চয়ের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। দেখা যাবে সঞ্চিত অর্থ আপনি ঠিক সময়ে আপনার প্রয়োজনে পাচ্ছেন না।

০৭. যদি কাউকে একান্ত ধার দিতেই হয়, পুরোটা নয়, আংশিক ধার দিন। আর এমনভাবে ধার দিন, যাতে ধারের টাকা কোনো দিন ফেরত না পেলেও আপনার বিরাট কোনো ক্ষতি না হয়।

০৮. নিজের বা প্রিয়জনেরও যদি কোনো বিপদ আসে, প্রথমেই জমানো টাকায় হাত দেবেন না। ধার করে বা অন্য কোনো উপায়ে বিপদ সামলানোর চেষ্টা করুন।

০৯. যদি অন্য কোনো পথ খোলা না থাকে তবেই সঞ্চিত টাকায় হাত দিন। মনে রাখবেন, লাঠি না ভেঙে যদি সাপ মারা যায়, তাহলে লাঠি ভাঙার দরকার কী! খারাপ সময়ে কেউ পাশে আসে না, আপাতত ব্যতিক্রম ভুলে যান।

১০. তীব্র টানাপড়েনের মধ্যে সঞ্চয় করা কঠিন কাজ। অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হয়। একবার, দুবার নয়, সব সময়। সঞ্চয় বাড়াতে বাড়তি আয় যেমন জরুরি, তার চেয়েও বেশি জরুরি বাড়তি খরচ কমাতে শেখা।

সঞ্চয় সহজ করার জন্য গভীরভাবে ভাবুন

০১. যদি এই সঞ্চয়ের টাকাটা আপনার কাছে না থাকত, তাহলে কিভাবে চলতেন বা চালাতেন?

০২. আপনার কোনো ঋণ থাকলে পরিশোধ করুন। দীর্ঘদিন ঋণী থেকে সঞ্চয় করা কঠিন। মানসিক চাপ থাকে। সুখে থাকার অন্যতম প্রধান শর্ত ঋণী না থাকা।

০৩. ভাবুন অর্থকষ্টের দিনগুলোতে কতটা কষ্ট করে সব কিছু সামলে নিয়েছেন। সুতরাং আজকের বাড়তি আয় কিছুতেই খরচ করা যাবে না। সঞ্চয় করতে হবে, যাতে এমন দিন আবার এলে আপনি সামাল দিতে পারেন।

০৪. আপনার সঞ্চয় বাড়লে আপনি কতটা নিশ্চিন্ত থাকবেন! আপনার কতটা ভালো লাগবে!

০৫. সঞ্চিত টাকা দিয়ে যে স্বপ্ন পূরণ করতে চান তার কথা বারবার ভাবুন। ভাবুন, সঞ্চয় না করলে আপনার সেই স্বপ্ন কোনো দিনও পূরণ হবে না।

একেক মানুষ একেকভাবে জীবন যাপন করে। কেউ সঞ্চয় নিয়ে ভাবে, ব্যয় করতে প্রভাবিত হয়। ফলে আপনি কিভাবে সঞ্চয় করবেন কিংবা বাড়তি আয় করবেন এটা স্পষ্টভাবে বলা মুশকিল। কিন্তু যদি এটা আপনি মনে মনে বিশ্বাস করেন যে দুর্দিনে সঞ্চয়ই ভরসা। তাহলে কোনো না কোনো উপায় আপনি বের করতে পারবেনই। ভুলে গেলে চলবে না, অর্থনৈকিতভাবে স্বাধীন হওয়া এক অন্তহীন যাত্রার নাম। অন্তহীনভাবেই আপনাকে সজাগ থাকতে হবে।

Leave a Reply

Back to top button