কোটিপতি হওয়ার সহজ উপায়

0

এক ভদ্রলোকের খুব ইচ্ছে হলো সে কোটিপতি হবে অর্থাৎ কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স তার ব্যাংক হিসেবে দেখাবে। উদ্দেশ্য এটা বৈদেশিক এ্যাম্বাসিতে শো করে ছেলেকে বিদেশের ভাল ইউনিভার্সিটিতে পড়তে পাঠাবে। কিন্তু ভদ্রলোকের ব্যাংক হিসাবে আছে মাত্র ১০ লক্ষ টাকা। তিনি আমার কাছে এল তার একটা সুব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য।

আমি অনেক ভেবেচিন্তে ও ঐ ভদ্রলোকের আমার ব্যাংকের প্রতি দীর্ঘদিনের লয়্যালটির জন্য তার ব্যাংক হিসাব পোষ্ট নো ডেবিট দিয়ে এবং ১০ লক্ষ টাকা লিয়েন নিয়ে তার জন্য ৯০ লক্ষ টাকার লোন অনুমোদন করিয়ে আনলাম।

কিন্তু শর্ত হলো তার লোনের সমূদয় টাকা জমা হবে তার সঞ্চয়ী হিসেবে যেখানে আগে থেকেই ১০ লক্ষ টাকা জমা আছে এবং সে হিসাব থেকে লোন পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো টাকা উত্তোলন করতে পারবেনা তবে জমা দিতে পারবে।

যাই হোক লোন অনুমোদনের পর যখন ৯০ লক্ষ টাকা ডিসবার্স করলাম তখন ভদ্রলোকের সঞ্চয়ী হিসেবে জমা ১ কোটি টাকা অর্থাৎ তার এখন ব্যাংক ব্যালেন্স ১ কোটি টাকা। আর তার লোন হিসেবে আউটস্ট্যান্ডিং রইল ৯০ লক্ষ টাকা।

১ কোটি টাকা ব্যাংক ব্যালেন্স দেখে ভদ্রলোক কতইনা খুশি।

আর আমার লাভ:
১) আমার ব্যাংকের ডিপোজিট বেড়ে গেল ৯০ লক্ষ টাকা।

২) আমার ব্যাংকের লোন বেড়ে গেল ৯০ লক্ষ টাকা।

৩) পুরো ৯০ লক্ষ টাকার উপর ব্যাংক মুনাফা পাবে ঐ গ্রাহকের নিকট থেকে।

৪) আমি হয়ে গেলাম একজন বেষ্ট পারফর্মার ব্যাংকার।

এভাবেই হাওয়ার উপরে ব্যাংকের ডিপোজিট বাড়ে এবং লোন বাড়ে। দেশে সকল ব্যাংকের মোট ডিপোজিট যোগ করলে যত টাকা হবে ব্যাংক নোট বা কাগুজে টাকার পরিমাণ তার ধারেকাছেও নেই।

বিশেষ দ্রষ্টব্য:
বর্তমানে উপরোক্ত উপায়ে লোন প্রদানের উপরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষেধাজ্ঞা আছে।

লেখক: মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, ব্যাংকার।

Leave a Reply