ডাচ্-বাংলা ব্যাংক: প্রযুক্তিতে অগ্রদূত বিভ্রাটেও অগ্রবর্তী

0

ডেবিট কার্ডভিত্তিক লেনদেনে দেশের শীর্ষ ব্যাংক ডাচ্-বাংলা। দেশের মোট এটিএম বুথের প্রায় অর্ধেকই ব্যাংকটির। প্রায় পাঁচ হাজার এটিএম বুথের পাশাপাশি ফাস্টট্র্যাকও রয়েছে ১ হাজার ১৬৫। মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মতো রিটেইলেও রয়েছে ডাচ্-বাংলার দাপট। প্রযুক্তিনির্ভর এসব ব্যাংকিং কার্যক্রমের কাঠামো গড়ে তুলতে ব্যাংকটিকে বিনিয়োগ করতে হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা। যদিও সে বিনিয়োগের সুফল ঘরে তুলতে পারছে না ডাচ্-বাংলা।

নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যারের কারণে সাইবার হ্যাকিংয়ের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। প্রায়ই বিভ্রাট ঘটছে ব্যাংকটির এটিএম নেটওয়ার্কে। যেকোনো উৎসব-আয়োজনে টাকা উত্তোলনের চাপ বাড়লেই ভেঙে পড়ে ব্যাংকটির এটিএম ব্যবস্থা। প্রত্যেক ঈদের আগেই এটিএম বুথে টাকা শেষ হয়ে যাওয়া, নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হওয়া কিংবা বুথ নষ্ট হয়ে যাওয়াটা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ক্ষেত্রে নিয়মিত ঘটনা। এ নিয়ে প্রতিনিয়ত ক্ষোভ বাড়ছে ব্যাংকটির গ্রাহকদের মধ্যে।

চলতি বছরের মার্চের শুরুতে দেশে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার পর থেকে সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত হয়ে যায়। ২৬ মার্চ থেকে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এ সময়ে নগদ টাকা তুলতে এটিএম বুথে ভিড় বাড়ে গ্রাহকের। এতেই ভেঙে পড়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এটিএম নেটওয়ার্ক। শুধু মার্চেই ব্যাংকটির এটিএম সার্ভার তিনবার ডাউন হয়ে যায়। একই ধারাবাহিকতা চলছে বর্তমানেও। আন্তর্জাতিকভাবে কোনো সাইবার আক্রমণের বার্তা এলে দেশে সবার আগে এটিএম বুথের লেনদেন বন্ধ করে দেয় ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। সম্প্রতি দেশে সাইবার আক্রমণের সতর্কতা জারি হওয়ার পর এ ব্যাংকের গ্রাহকদেরই সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।

এদিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে কয়েক দফায় হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। শুধু ২০১৯ সালেই দুই দফায় ব্যাংকটির এটিএম বুথ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে টাকা তুলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র। ঢাকাসহ দেশের ১২টি জেলায় ব্যাংকটির বুথ হ্যাকিংয়ের শিকার হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ব্যাংকটির বেশ কয়েকটি এটিএম বুথ থেকে ইউক্রেনের জালিয়াত চক্র টাকা তুলে নিলেও ব্যাংকটির সার্ভারে তার কোনো নির্দেশনা যায়নি। এমনকি কোনো গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব থেকেও সে টাকা কাটা হয়নি। শুধু এটিএম বুথ থেকে টাকা বের হয়ে যায়। হ্যাকিংয়ের এ ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নেটওয়ার্কে বড় ধরনের দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছিল।

প্রযুক্তি খাতে ডাচ্-বাংলার বড় বিনিয়োগ শুরু হয় এক যুগ আগে। ২০১৫ সালের মধ্যেই এ খাতে ব্যাংকটি বিনিয়োগ করে ৯৫০ কোটি টাকা। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনেই এ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। এরপর প্রতি বছরই প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে ব্যাংকটি। ২০১৬ সালে এটিএম বুথ ও অন্যান্য ইনস্টলেশন বাবদ ১১ কোটি, ২০১৭ সালে ২৩ কোটি, ২০১৮ সালে ৪৩ কোটি ও ২০১৯ সালে ৫২ কোটি টাকা ব্যয় করেছে ডাচ্-বাংলা। চলতি বছরের প্রথমার্ধেও এ খাতে ২৮ কোটি টাকা ব্যয় করেছে ব্যাংকটি। যদিও ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকা বিনিয়োগের সুফল মিলছে না নিম্নমানের যন্ত্রপাতি ও সফটওয়্যারের কারণে।

দেশের ব্যাংকিং খাতে যন্ত্রাংশ ও সফটওয়্যার সরবরাহ করে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রযুক্তি খাতের কেনাকাটায় মুখ্য বিষয় হলো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিশ্বস্ততা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক যন্ত্রাংশ ও সফটওয়্যার কেনার ক্ষেত্রে সবসময়ই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের এ দুটি দিক উপেক্ষা করে। এ কারণে তাদের প্রযুক্তি খাত খুবই নিম্নমানের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠেছে। ফলে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সফটওয়্যার সহজেই হ্যাকিংয়ের শিকার হচ্ছে।

গ্রাহক হিসেবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথ ব্যবহারে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান এ প্রযুক্তিবিদ। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে আমি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে ১০ হাজার টাকা উত্তোলনের জন্য কার্ড দিই। নির্দেশ অনুযায়ী টাকা বের হয়েও আসে। কিন্তু এরপর ১০ হাজার করে আরো পাঁচবার টাকা বের হয়। বিষয়টি আমি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মোবাইলে জানাই। পরে দেখা যায়, আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে মাত্র একবারই টাকা কাটা হয়েছে।

যদিও এটিএম বুথসহ প্রযুক্তিগত সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠেছে বলে দাবি করেছেন ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল কাশেম মো. শিরিন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, আমাদের এটিএম বুথের সমস্যাগুলো অনেক আগের। গত কয়েক বছরে আমরা প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠেছি।

কোনো নেটওয়ার্কের ওপর অস্বাভাবিক চাপ পড়লে সেটি অনেক সময়ই কাজ করে না জানিয়ে আবুল কাশেম মো. শিরিন বলেন, ডাচ্-বাংলার ক্ষেত্রেও মার্চে দু-তিনবার সেটি হয়েছে। পরে দ্রুততম সময়ে আমরা সেটির সমাধান করেছি। আমাদের ব্যাংকের এটিএম বুথ নেটওয়ার্ক অনেক বেশি বিস্তৃত হওয়ায় বাড়তি সতর্কতা নিতে হয়। এর অংশ হিসেবেই সম্প্রতি সাইবার আক্রমণের শঙ্কায় এটিএম বুথ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রেখেছিলাম। এখন সবকিছু আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে।

প্রযুক্তি খাতে বড় বিনিয়োগই শুধু নয়, বরং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের জন্য বিপদ ডেকে আনছে কেন্দ্রীভূত বিনিয়োগও। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ ছোট-বড় প্রায় ৮৭ লাখ আমানতকারীর ব্যাংক ডাচ্-বাংলা। এটিএম বুথ, ফাস্টট্র্যাক, এজেন্ট ব্যাংকিং, রকেটসহ অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যাংকিং উপকরণ দিয়ে বিপুল এ জনগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করতে পেরেছে ব্যাংকটি। কিন্তু ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণ কেন্দ্রীভূত অল্পকিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে। এর মধ্যে শুধু বস্ত্র ও পোশাক খাতেই গিয়েছে ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের প্রায় অর্ধেক। সে হিসাবে এ দুটি খাতের ব্যবসায়ীদের ওপরই নির্ভর করছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ভাগ্য।

বস্ত্র ও পোশাক খাতে কেন্দ্রীভূত ঋণের কারণে ডাচ্-বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশী-বিদেশী প্রায় সব প্রতিষ্ঠান। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠান মুডি’স ডাচ্-বাংলার রেটিংয়ে অবনমন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণে বর্তমানে দেশী-বিদেশী মুদ্রায় ব্যাংকটির দীর্ঘমেয়াদি ডিপোজিট রেটিং হচ্ছে ‘বি-১’, যা ব্যাংকটির ঋণের উচ্চঝুঁকি নির্দেশ করে। সেই সঙ্গে ব্যাংকটির রেটিং পূর্বাভাস স্থিতিশীল থেকে নেতিবাচক করেছে মুডি’স।

সম্প্রতি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ঋণমানও অবনমন করেছে মুডি’স। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বাড়ছে। মূলত তৈরি পোশাক খাতে দেয়া ঋণের একটি অংশ খেলাপি হওয়ার প্রভাব পড়েছে ব্যাংকটির মোট খেলাপি ঋণের ওপর। খাতটির ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কারণে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে কেন্দ্রীভূত খেলাপি ঋণের কারণে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সম্পদের ঝুঁকি বেড়েছে। একই সময়ে ব্যাংকটির অশ্রেণীকৃত যেসব ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিল করা হয়েছে, তা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০১৯ সাল শেষে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১২৩ কোটি টাকা। একই সময়ে ৭০৭ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ অবলোপন করেছে ব্যাংকটি।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মুডি’স বলেছে, করোনা মহামারীর কারণে ব্যাংকটির সম্পদের মান আরো খারাপ হবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীদের বিদেশী ক্রেতাদের ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ায় ব্যাংকটির ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়বে।

দুটি খাতে ঋণ কেন্দ্রীভূত হওয়াকে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান এটি ক্যাপিটালও। ব্যাংকটির সম্পদের গুণগত মানের অবনতি ও খেলাপি ঋণ বৃদ্ধিতে বস্ত্র ও পোশাক খাতের ঋণ নেতৃত্ব দেবে বলেই অভিমত দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

দেশের বস্ত্র ও পোশাক খাতের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে ডাচ্-বাংলা। ২০১৯ সাল শেষে ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ২৪ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু বস্ত্র খাতে ছিল ৬ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকার ঋণ। একই সময়ে তৈরি পোশাক খাতেও ব্যাংকটির ঋণ ছিল ২ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে বস্ত্র ও পোশাক খাতেই মোট ঋণের ৩৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ বিতরণ করেছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। মাত্র দুটি খাতে এ পরিমাণ ঋণ কেন্দ্রীভূত হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকটির ঋণ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডি’স।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ১১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। এ ঋণের মধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ২৭০ কোটি টাকা ছিল তৈরি পোশাক খাতের ঋণ। বস্ত্র খাতে দেশের সব ব্যাংকের ঋণের পরিমাণ ছিল ৮২ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে দেশের বস্ত্র ও পোশাক খাতে মোট ব্যাংকঋণ ১ লাখ ৯৬ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা, যা ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণের ১৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। অথচ এ দুটি খাতে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ঋণ ৩৮ শতাংশের বেশি।

এ বিষয়ে ব্যাংকটির এমডির বক্তব্য হলো, দেশে বস্ত্র ও পোশাক খাতের বাইরে বিনিয়োগ করার মতো উল্লেখযোগ্য কোনো খাত নেই। তাই এ খাতেই বিনিয়োগ বেশি।

বস্ত্র ও পোশাক খাতের মতোই নগরে কেন্দ্রীভূত ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ঋণ। ব্যাংকটির বিতরণকৃত মোট ঋণের ৭৯ শতাংশই করা হয়েছে ঢাকা থেকে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আমানত টেনে আনা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের গ্রামাঞ্চলে বিনিয়োগ মাত্র আড়াই শতাংশ। ব্যাংকটির মাত্র ২৯ জন গ্রাহকের কাছে পুঞ্জীভূত হয়েছে ৮ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকার ঋণ। প্রায় ৮৭ লাখ আমানতকারীর ডাচ্-বাংলা ব্যাংক থেকে ঋণ পেয়েছে মাত্র ৫৪ হাজার ৯৩২ গ্রাহক।

মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ‘রকেট’-এ ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বড় বিনিয়োগও প্রত্যাশিত উচ্চতায় যেতে পারেনি। দেশে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক প্রথম মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) সেবা চালু করে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে ২০১১ সালের মার্চে। ২০১৬ সালে সেবাটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় রকেট। বর্তমানে ২২ শতাংশের মতো মার্কেট শেয়ার রয়েছে রকেটের। ডাচ্-বাংলার আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালে আগের বছরের চেয়ে রকেটের গ্রাহক সংখ্যা ১০ শতাংশ বাড়লেও লেনদেন কমেছে ৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বনিক বার্তা।

Leave a Reply