Monday, January 17, 2022

উদ্বৃত্ত মূলধনে শীর্ষে ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক

সেপ্টেম্বর শেষে মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে সরকারি-বেসরকারি ১১ ব্যাংক। আর ১৫টি ব্যাংকের মূলধন ১ হাজার কোটি টাকা বেশি উদ্বৃত্ত রয়েছে।

জনপ্রিয় পোস্ট

করোনাভাইরাসের কারণে গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধে ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরও ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বাড়ছে। ফলে মুনাফা থেকে বাড়তি নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখার প্রয়োজন পড়ছে। আবার আয় কমে যাওয়ায় অনেক ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতেও পড়েছে। তবে কিছু ব্যাংকের মূলধন ঘাটতিতে থাকার ঘটনা নতুন নয়। সেপ্টেম্বর শেষে মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে সরকারি-বেসরকারি ১১ ব্যাংক। করোনার মধ্যে বিশেষ ছাড়েও ব্যাংকগুলো নিজেদের সেই সমস্যা থেকে বের হতে পারেনি, বরং কারও কারও অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে।

তবে কিছু ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির বিপরীতে কিছু ব্যাংকের রয়েছে উদ্বৃত্ত মূলধন। বিশ্বজুড়ে ব্যাংকের ভিত্তি শক্তিশালী করতে মূলধনের বিকল্প নেই। ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সময় মালিক ও শেয়ারধারীরা মূলধন জোগান দেন। এরপর ব্যাংক বন্ড ছেড়ে মূলধন বাড়ায়, আবার নতুন শেয়ার ইস্যু করেও কখনো কখনো মূলধন বাড়ানো হয়। ফলে পুরোনো ব্যাংকগুলোর মূলধন ভিত্তি কিছুটা শক্তিশালী। তবে ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য খারাপ হলে মূলধনের ওপর চাপ পড়ে। এতে একসময় মূলধন ঘাটতি দেখা দেয়।

জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি মূলধন উদ্বৃত্ত ছিল ১৩টি ব্যাংকের। এর মধ্যে ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের উদ্বৃত্ত মূলধনের পরিমাণ ১ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা, প্রাইম ব্যাংকের ১ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা, ব্যাংক এশিয়ার ১ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, পূবালী ব্যাংকের ১ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা ও ইসলামী ব্যাংকের ১ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা।

ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন বলেন, ‘ব্যাংক শক্তিশালী করতে মূলধন বাড়ানোর বিকল্প নেই। আমাদের পরিচালকেরা মুনাফা তুলে না নিয়ে মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করার পক্ষে। এ জন্য আমাদের ব্যাংকের উদ্বৃত্ত মূলধন সবচেয়ে বেশি। ফলে যেকোনো ঝুঁকি আমরা সবচেয়ে সহজভাবে মোকাবিলা করতে পারব।’

বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে দেশীয় মালিকানাধীন সিটি ব্যাংকের উদ্বৃত্ত মূলধন ১ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা, ব্র্যাক ব্যাংকের ১ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা ও ইউসিবিএলের ১ হাজার ৩১৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া ট্রাস্ট ব্যাংকের উদ্বৃত্ত ১ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা, এক্সিম ব্যাংকের ১ হাজার ৮৪ কোটি টাকা, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের ১ হাজার ৬২ কোটি টাকা, যমুনা ব্যাংকের ১ হাজার ৬৯ কোটি টাকা ও সাউথইস্ট ব্যাংকের ১ হাজার ৩৫ কোটি টাকা।

আর বিদেশি মালিকানার ব্যাংকগুলোর মধ্যে এইচএসবিসির উদ্বৃত্ত মূলধন ২ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ৩ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা।

এদিকে সেপ্টেম্বর শেষে মূলধন ঘাটতিতে থাকা ১১ ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, অগ্রণী, বেসিক, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংক। বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে এবি, বাংলাদেশ কমার্স, আইসিবি ইসলামিক, পদ্মা ব্যাংক। ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী ন্যূনতম যে মূলধন থাকা প্রয়োজন, এসব ব্যাংকের তা নেই।

আরও দেখুন:
সঞ্চয়পত্র কিনতে আর লাগবে না কাগজপত্র
শীর্ষ করদাতার পুরস্কার পেল ইসলামী ব্যাংক
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মীদের উৎসাহ বোনাস দিতে কমিটি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সর্বশেষ পোস্ট

দুই জেলায় অফিসার নিয়োগ দেবে সিটি ব্যাংক

দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড সম্প্রতি নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে অফিসার (টেম্পোরারি)- কালেকশন...

এ সম্পর্কিত আরও