সরকারের ব্যয় কমাতে অনলাইনে ইস্যু করা হবে সঞ্চয়পত্রের ডুপ্লিকেট

0

সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ১ শতাংশই ইস্যুকৃত সঞ্চয়পত্র হারিয়ে বা নষ্ট করে ফেলে। এসব গ্রাহককে এতদিন টাকা তৈরির দামি কাগজ দিয়ে সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে ছাপানো ডুপ্লিকেট সঞ্চয়পত্র দিয়ে আসছে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর। এতে সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থাপনায় সরকারের ব্যয় বেড়ে যায়। অতিরিক্ত এ ব্যয় কমাতে অনলাইনে ডুপ্লিকেট সঞ্চয়পত্র ইস্যুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ১ নভেম্বর ‘জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’-এর মাধ্যমে হারানো, চুরি বা নষ্ট হওয়া সঞ্চয়পত্রের ডুপ্লিকেট ইস্যুতে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সামছুন্নাহার বেগম বলেন, কেউ যদি তার সঞ্চয়পত্র হারিয়ে বা নষ্ট করে ফেলে, তাহলে তাকে ডুপ্লিকেট সঞ্চয়পত্র দিতে হয়। আগে আমদানি করা উন্নতমানের কাগজে প্রিন্টিং প্রেসে ছাপিয়ে ম্যানুয়ালি পদ্ধতিতে এ কাজটা করা হতো। এতে সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থাপনায় সরকারের খরচটা বেড়ে যেত। কিন্তু বর্তমানে আমরা সঞ্চয়পত্র কার্যক্রমের সবকিছু অটোমেশনে নিয়ে গেছি। তাই আগের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ইস্যুকৃত সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রেও যদি ডুপ্লিকেট ইস্যু করতে হয়, তাহলে সেটিও অনলাইনের মাধ্যমে করা হবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থাপনায় সরকারের খরচ কিছু কমবে। তবে কী পরিমাণ ব্যয় কমবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে প্রয়োজনীয় অর্থের বড় একটি অংশই সঞ্চয়পত্র ইস্যুর মাধ্যমে সংগ্রহ করে সরকার। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। বিশাল ঘাটতি মেটাতে এবার সঞ্চয়পত্র থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ছিল ২৭ কোটি টাকা। ওই অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সঞ্চয়পত্রে প্রতি বছর যে পরিমাণ বিনিয়োগ হয়, তার প্রায় ১ শতাংশের ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্র হারানো, চুরি বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। কেউ সঞ্চয়পত্র হারিয়ে ফেললে এ বিষয়ে নিকটবর্তী পুলিশ স্টেশনে সাধারণ ডায়েরি করে তার কপি, দুটি জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির কপি এবং ২০০ টাকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ইনডেমনিটি বন্ডসহ সংশ্লিষ্ট ইস্যু অফিসে আবেদন করতে হবে। আবেদনের এক মাস পর গ্রাহককে বিধি অনুযায়ী ডুপ্লিকেট সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা হয়। তবে এ কার্যক্রম অনলাইনে কার্যকর হলে গ্রাহককে একদিনেই ডুপ্লিকেট সঞ্চয়পত্র দেয়া সম্ভব হবে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের উপপরিচালক (পলিসি ও পরিসংখ্যান) মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে সঞ্চয়পত্র অনলাইনে বিক্রি হয়। তার আগে সঞ্চয়পত্র ম্যানুয়ালি (ছাপানো কাগজ) বিক্রি হতো। তবে অর্থ সচিবের একটি সিদ্ধান্ত ছিল যে সঞ্চয়পত্র আর ম্যানুয়ালি ইস্যু করা যাবে না। অর্থাৎ আগে যে টাকা ছাপানোর কাগজ দিয়ে সঞ্চয়পত্র ইস্যু করা হতো, এটা আর করা যাবে না। তবে সঞ্চয়পত্র যদি হারিয়ে যায়, তাহলে ডুপ্লিকেট সঞ্চয়পত্র ইস্যু করার বিধান রয়েছে। তাই আগের ছাপানো কোনো সঞ্চয়পত্র কেনা কেউ যদি তা হারিয়ে ফেলে, তাহলে হারানো সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে ডুপ্লিকেট সঞ্চয়পত্র অনলাইনে ইস্যু হবে।

এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে গ্রাহকদের কোনো উপকার হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রাহকদের কোনো সুবিধা নেই। গ্রাহককে আগে যেভাবে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসহ ডুপ্লিকেট সঞ্চয়পত্রে আবেদন করতে হতো, এখনো সেভাবেই আবেদন করতে হবে। তবে সরকারের কিছুটা ব্যয় কমবে। কারণ এত দামি কাগজ দিয়ে সরকারকে আর প্রেস থেকে সঞ্চয়পত্র ইস্যু করতে হবে না। সিস্টেমে ঢুকে অফিসের একটি কম্পিউটারের মাধ্যমেই সাধারণ একটা কাগজে প্রিন্ট দিয়ে ইস্যু করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply