আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধে আবারো ছাড়

ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধে আবারো ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে আদায়যোগ্য ঋণের ন্যূনতম ৫০ শতাংশ পরিশোধ করলে খেলাপি করা যাবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সুবিধা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেয়া হয়েছে।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এপ্রিল থেকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অর্থাৎ প্রতি তিন মাস পর আদায়যোগ্য ঋণের ন্যূনতম ৫০ শতাংশ পরিশোধ করলে খেলাপি করা যাবে না।

এর ফলে কোনো গ্রাহক চলতি বছরের জুন, সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বর প্রান্তিকে কিস্তির ৫০ শতাংশ ত্রৈমাসিকের শেষ কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করলে তিনি খেলাপি হবেন না।

এতে বলা হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ গ্রাহকের নগদ প্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে শুধুমাত্র প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদেরকেই আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে এ নির্দেশনার আওতায় কিস্তি বিলম্বিতকরণের সুবিধা দিতে পারবে। এই বিলম্বের কারণে কোনো গ্রাহককে খেলাপি করা যাবে না। আবার কোনো ধরনের অতিরিক্ত মাশুল, সুদ বা কমিশন আদায় করা যাবে না। এই নির্দেশনা মোতাবেক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে যথানিয়মে শ্রেণীকরণের আওতাভুক্ত হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, এই প্রজ্ঞাপনের আওতায় সুবিধা পাওয়া ঋণে আরোপিত সুদ আয় খাতে স্থানান্তর করতে পারবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

প্রতি ত্রৈমাসিকের শেষ কর্মদিবসের এ নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণ হিসাবের যথানিয়মে শ্রেণিকরণ করে সিআইবি-তে রিপোর্ট করতে হবে।

এছাড়া, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষেত্রেও একই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক চিহ্নিত বন্যা কবলিত জেলায় কৃষি ঋণ ও সিএমএসএমই ক্ষেত্রেও এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত কিস্তির ৫০ শতাংশ পরিশোধ করলে খেলাপি করা যাবে না। তবে গ্রাহক প্রকৃতই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কিনা তা আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ স্বীয় উদ্যোগে নিশ্চিত করতে হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ শ্রেণীকরণে এর আগেও কিছু ছাড় দেয়া হয়। ২০২১ সালের শেষ কর্মদিবসের মধ্যে ঋণের কিস্তির ন্যূনতম ২৫ শতাংশ শোধ করলে খেলাপি করা হয়নি।

সম্প্রতি নতুন করে করোনাভাইরাসের বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ বেশ কিছু জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আরও সুবিধা দেয়া হয়েছে।

আরও দেখুন:
আগামীকাল থেকে যেসব ব্যাংকে পাওয়া যাবে নতুন নোট
নন ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানদের জন্য নতুন নির্দেশনা

আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩ এর ১৮(ছ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হলো, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button