শুরু হলো সর্বজনীন ডিজিটাল লেনদেনে নতুন অধ্যায় ‘বিনিময়’

ডিজিটাল ট্রানজেকশন প্ল্যাটফর্ম ‘বিনিময়’র আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয়েছে। রোববার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু’তে এই সেবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

স্বচ্ছতার সঙ্গে পেমেন্ট সিস্টেমের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন ও সুরক্ষিত লেনদেন নিশ্চিত করতে এই সেবা চালু করা হলো।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সজীব ওয়াজেদ জয় জানান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে সরকারি সেবা শতভাগ ডিজিটালাইজড হবে।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যেমে বিকাশ বা বিভিন্ন এমএফএস সেবা থেকে বিভিন্ন ব্যাংকেও টাকা পাঠানো যাবে। এই প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে এক এমএফএস থেকে অন্যটিতে বা ব্যাংকে লেনদেন করা সম্ভব হবে। তবে এখনই যুক্ত হচ্ছে না নগদ।

প্ল্যাটফরমটি ব্যাংক, পেমেন্ট সার্ভিস প্রভাইডার (পিএসপি) ও মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রভাইডারের সঙ্গে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ইলেকট্রনিক লেনদেনে যুক্ত করবে। এতে একজন গ্রাহক কার্ডের মধ্যে দ্রুত সেবা পাবেন। আর গ্রাহক তাঁর লেনদেনের জন্য অর্থের পরিমাণ জানতে পারবেন। পাওয়া যাবে ব্যালান্স ট্রান্সফার ও লেনদেন শেষে এসএমএসের মতো সেবা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিনিময় প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে প্রতিটি লেনদেনের বিপরীতে অর্থ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান বিনিময় কর্তৃপক্ষকে ৫০ পয়সা ফি দিতে হবে। এটি ব্যবহারের জন্য সার্ভিস চার্জের সঙ্গে একটি নিদিষ্ট হারে ভ্যাট প্রযোজ্য হবে। আর ব্যাংক থেকে অর্থ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ব্যাংক হলে ইন-অপরেবল ফি প্রযোজ্য হবে না। কিন্তু একক লেনদেনে চার্জ ও ভ্যাট হবে সর্বোচ্চ ১০ টাকা। তবে পিএসপি ও এমএফএস প্রভাইডারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে ফি, চার্জ ও ভ্যাট লাগবে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিনিময়ের উদ্বোধন করবেন।

ডিজিটাল সেবার সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপগুলোর মধ্যে একটি যুগোপযোগী উদ্যোগ হলো বিনিময়। এটি সর্বজনীন ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন প্রতিষ্ঠার জন্য যুগান্তকারী এক প্ল্যাটফরম। এটি স্বচ্ছতার পাশাপাশি পেমেন্ট সিস্টেমের মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন ও সুরক্ষিত লেনদেন নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে লেনদেনের খরচও কমাবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে বিনিময়। বিনিময় প্ল্যাটফরম হলো একটি অ্যাপ। অ্যাপটি বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি (আইডিয়া) প্রকল্প এটি তৈরি করেছে। এটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৬৫ কোটি টাকা। যদিও এর জন্য বাজেট ছিল ৫৫ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে খরচ বেড়ে যায়। অ্যাপটি তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণকাজের জন্য রয়েছে ওরিয়ন ইনফরমেটিকস লিমিটেড, মাইক্রোসফট বাংলাদেশ লিমিটেড, ফিনটেক সলিউশন লিমিটেড ও সেইন ভেঞ্চারার্স লিমিটেড।

জানা গেছে, বিনিময়ে যুক্ত হচ্ছে না সব ব্যাংক। সোনালী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড প্রাথমিকভাবে বিনিময়ে যুক্ত হচ্ছে।

কিভাবে কাজ করবে:

বিনিময় ওয়েব বেইসড একটি প্ল্যাটফরম। এই প্ল্যাটফরমে বিনিময় একটি সেবা হিসেবে ব্যাংক, এমএফএসের অ্যাপে যুক্ত হবে। এটি ব্যবহার করতে চাইলে গ্রাহককে প্রথমে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধন সম্পন্ন হলে গ্রাহকের নামের পরে binimoy.gov.bd যুক্ত হয়ে একটি আইডি তৈরি হবে। এরপরে গ্রাহক দুটি অপশন দেখতে পাবেন সেন্ড মানি ও রিসিভ মানি।

কাউকে টাকা পাঠাতে চাইলে সেন্ড মানি অপশনে গিয়ে নিজের যেসব এমএফএস অ্যাকাউন্ট (বিকাশ, রকেট) আছে, তা থেকে একটি বেছে নিতে হবে। যাঁকে টাকা পাঠানো হবে তাঁর মোবাইল নম্বরে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যদি বিনিময় আইডি থাকে, তাহলে সেই নম্বর দিয়ে টাকা পাঠানো যাবে। যাঁকে পাঠানো হয়েছে তিনি রিসিভ মানি অপশনে গিয়ে নিজের অ্যাকাউন্টে থাকা যেকোনো এমএফএস আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নম্বরে টাকা গ্রহণ করতে পারবেন।

আরও দেখুন:
ব্যাংকের আমানত নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান
২০২৩ সালের ব্যাংক ছুটির তালিকা

খরচ কত:

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিকাশ থেকে রকেটে টাকা পাঠাতে (প্রতি হাজারে) খরচ হবে পাঁচ টাকা। আর এমএফএস সেবা (বিকাশ, রকেট ইত্যাদি) থেকে ব্যাংকে টাকা পাঠাতে (প্রতি হাজারে) খরচ হবে ১০ টাকা। অন্যদিকে এমএফএস থেকে পেমেন্টে সার্ভিস প্রভাইডারের (পিএসপি) অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে খরচ হবে হাজারে পাঁচ টাকা।

Leave a Reply

Back to top button