করোনার যুগে ডিজিটাল ব্যাংকিং

0

সারা বিশ্বে চলছে করোনা ভাইরাসের দাপট। নিজেদের আটক করে রেখেছে মানুষ। করোনা যমদূত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দিশাহারা মানুষ। ভীত-সন্ত্রস্ত মানুষ। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। কেউ কাউকে কারো দেশে ঢুকতে দিচ্ছে না। নানা বাধাবিপত্তি। এক দেশ থেকে আরেক দেশে গেলেই ১৫ দিনের হোম নয়তো হসপিটাল কোয়ারেন্টিন। সামনাসামনি যোগাযোগ বন্ধ করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কিন্তু যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত থাকতে হচ্ছে আমাদের। লাগছে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। কীভাবে আনাবেন পণ্য? দাম চুকাবেন কীভাবে? বলছিলাম ডিজিটাল পদ্ধতির কথা। ঘরে বসে অর্ডার দেবেন। পণ্য পৌঁছে যাবে আপনার বাসায়। দাম পরিশোধ করবেন ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে।

করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার গভর্নর তার দেশের মানুষদের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারে উৎসাহিত করছেন। ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে ঘরে বসেই কেনাকাটা, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ, টিকিট ক্রয়, হোটেল বুকিং ইত্যাদি সম্পন্ন করা যাচ্ছে কোনো ধরনের বাইরে বের হওয়া ছাড়া। ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে নিমিষেই টাকা পাঠানো যাচ্ছে।

মার্কিন গবেষকরা ধারণা করেছিলেন, ২০১৭ সালের মধ্যে তাদের দেশের শতকরা ৬০ ভাগ নাগরিক ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করবে। দেশটি সেদিকেই এগোচ্ছে। কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, বর্তমানে সারা বিশ্বই ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে উৎসাহী। কর্মব্যস্ত মানুষের অত সময় কোথায়। তাই মানুষ ঘরে বসে, কিংবা গাড়িতে বসে ব্যাংকিং কার্যক্রম সেরে ফেলতে চায়। এর জন্য ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের বিকল্প নেই। এক মোবাইলের মধ্যে যদি সব পাওয়া যায়, তাহলে এত এত চেকবই, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড কেন বহন করবে। সেলফিন, নেক্সাস পে, আইপে কিউআর স্ক্যান করে পেমেন্ট করা অনেক সহজ। একটি স্মার্টফোন এবং ব্যাংকের অ্যাপস থাকলেই এ কাজ করা সম্ভব। ব্যাংকিং সেদিকেই যাচ্ছে। দোকানে দোকানে কিউ আর কোড বসিয়ে দিলেই হলো। একটা কিউ আর কোডের পেছনে থাকে একটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট। যেকোনো চা বিক্রেতা, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, এমনকি পাঠাও চালক তার ভাড়া এই অ্যাপসের মাধ্যমে নিতে পারবেন।

করোনা ভাইরাসের যুগে যেখানে হাতের স্পর্শ এড়িয়ে চলতে বলা হচ্ছে। তাই এমন পরিস্থিতিতে ডিজিটাল ব্যাংকিং সুবিধাজনক ও ঝুঁকিমুক্ত। খুদেবার্তার মাধ্যমে পিন বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। তবে শিগগিরই বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে এ লেনদেন করা আরো বেশি ঝুঁকিমুক্ত হবে বলে আশা করা যায়।

আঙুলের ছাপ, কণ্ঠ কিম্বা মুখমণ্ডল স্ক্যান করে নিরাপত্তা আরো জোরদার করা যাবে। আজ হোক কাল হোক, ব্যাংকগুলো গ্রাহকের স্বাভাবিক লেনদেন, ঋণ দেয়ার মতো বিভিন্ন কাজ একটি মাত্র স্থানে বসেই সেরে ফেলবে। গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ হবে ভিডিও চ্যাটের মাধ্যমে। তবে এর জন্য প্রয়োজন নতুন যাচাইকরণ পদ্ধতি এবং বাড়তি নিরাপত্তার সমাধান। এক্ষেত্রে ডিজিটাল প্লাটফর্মগুলো গ্রাহককে সুনির্দিষ্ট কিছু আইডি ফরমের ছবি এবং সেলফিও দিয়ে গ্রাহকের কেওয়াইসি করে নিতে পারবে। এর সঙ্গে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে যাচাই প্রক্রিয়া তো থাকবেই। আর সইয়ের জন্য থাকবে ই-সিগনেচারের ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে ব্যাংকিং চলে আসবে হাতের মুঠোয়। তখন হয়তো ব্যাংকের ফিজিক্যাল শাখার আর কোনো দরকার পড়বে না। আসুন সবাই মিলে দ্রুত ডিজিটাল ব্যাংকিং যুগে প্রবেশ করি আর করোনা মুক্ত থাকি।

আনোয়ার ফারুক তালুকদার: ব্যাংকার।