বিসিএস প্রিলিমিনারিতে ‘সেইফ জোন’ নিশ্চিত করুন

ইতিমধ্যে ৪৪তম বিসিএস প্রিলি পরীক্ষার সিট প্ল্যান দিয়ে দিয়েছে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৭ মে দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে। সেই হিসাবে মাঝখানে আছে মাত্র দুদিন। কিন্তু পরীক্ষার আগের দুদিনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার দিনটা। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, ২০২২ সালের ২৭ মে শুক্রবারের সকাল ১০টা-১২টা; এই দুই ঘণ্টার সময়টুকু। এই দুই ঘণ্টার চ্যালেঞ্জটুকু ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারলে আপনার জীবন বদলে যেতে পারে। হয়ে যেতে পারেন সরকারি ফার্স্টক্লাস অফিসারের একজন পথযাত্রী।

আরও দেখুন:
৪৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারির শেষ সময়ের প্রস্তুতি ও পরীক্ষার হলে করণীয়
বিসিএস প্রস্তুতি: সফলদের প্রিলি পাসের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ
৪৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি: শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও করণীয়

যদিও বিসিএস প্রিলি পাস করলেই আপনি বিসিএস ক্যাডার হয়ে যাবেন; বিষয়টি এমন নয়। কিন্তু বিসিএস হওয়ার স্বপ্ন পূরণের এটিই প্রথম ও ক্রিটিক্যাল পার্ট। কারণ এই প্রিলিতে বেশি পরীক্ষার্থী ফেল করবে আর এই প্রিলি পাস করতে না পারলে রিটেন, ভাইভা দেওয়া যাবে না। প্রিলি পাস করলেই বাকিগুলো পাস করা তুলনামূলক কিছুটা সহজ। তো এখন প্রশ্ন হলো, এই মুহূর্তে কী কী পড়া উচিত আর কী কী করা উচিত?

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

সেইফ জোন

প্রথমে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে, বিসিএস প্রিলিতে ২০০তে ২০০ বা ১৮০-১৯০ পাওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রিলিতে কেবল ১২০ নম্বর পেলেই ‘সেইফ জোন’। সাধারণ বিসিএস প্রিলির নম্বর ক্যাডার হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না, প্রিলিতে কেবল পাস করতে পারলেই হলো, অর্থাৎ বিসিএস রিটেন পরীক্ষা দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেই চলবে। রিটেন ও ভাইভার প্রাপ্ত নম্বরের ওপর ক্যাডার বা নন-ক্যাডার নির্ভর করে। তাই প্রিলিতে বেশি নম্বর পাওয়ার জন্য ঝুঁকি নেওয়ার কোনো মানে নেই।

নিজেকে যথাসম্ভব চাপমুক্ত রাখার চেষ্টা করুন

আমি বলব, আপনার প্রস্তুতি খারাপ বা অসম্পূর্ণ এই মুহূর্তে এটা মাথায় আনবেন না। নিজেকে যথাসম্ভব চাপমুক্ত রাখার চেষ্টা করুন এবং নিজের প্রতি নিজে আস্থা রাখুন যে ‘আমি পারব, আমাকে এই প্রিলি পাস করতেই হবে।’ জাস্ট এটুকু মাথায় রাখুন। সে জন্য প্রস্তুতি নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে এখন শুধু গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো বারবার রিভিশন দিন; বিশেষ করে যে টপিকগুলো পরীক্ষায় বারবার আসে কিন্তু ভুল বেশি হয়, এমন কমন টপিকগুলো। যেমন English Preparation, Phrases & Indioms, সাধারণ জ্ঞান ও বাংলায় বিভিন্ন সাল ও নাম ইত্যাদি। গুরুত্বপূর্ণ টিপকগুলো বারবার এ জন্য পড়বেন, কেননা এই টপিকগুলো থেকে প্রশ্ন থাকবে নিশ্চিত। কমনও পাবেন অনেক, কিন্তু পরীক্ষার হলে কনফিউজড হয়ে গেলে নেগেটিভ মার্কসই আপনার লালিত স্বপ্নকে ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট।

গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো পড়ুন

পরীক্ষার আগে গুরুত্বপূর্ণ সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞান ছাড়া নতুন কোনো কিছু পড়তে যাবেন না। কেবল আগের নোট করা কিংবা দাগানো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো পড়ুন। আবার সাম্প্রতিক সাধারণও সব পড়ার দরকার নেই। সাম্প্রতিক সব না পড়ে কেবল পরীক্ষায় আসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞান পড়ুন। যেমন ৪৪তম বিসিএসের জন্য সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞানের অংশে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট, বাংলাদেশের পদ্মা সেতু, মুজিববর্ষ, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, শতভাগ বিদ্যুতায়িত বাংলাদেশ, জাতীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা’, অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ। তাই সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞানের অপ্রয়োজনীয় তারিখ ও ঘটনা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। আপনি চাইলে সাম্প্রতিক সাধারণের প্রস্তুতির জন্য সাজেশন ভিত্তিক বই “Recent Analysis” বইটি দেখতে পারেন।

কত পান দেখুন

চাইলে যেকোনো ভালো একটি মডেল টেস্ট বই থেকে এখন নতুন করে দুটি মডেল টেস্ট ঘড়ি ধরে দিয়ে দেখতে পারেন, কত পান দেখুন। যে সাবজেক্টে কম পান সেই সাবজেক্টটি ভালো করে পড়ুন। ম্যাথ বা ইংলিশ অথবা দুটি বিষয় নিয়ে যাঁদের চিন্তা বেশি, সেই চিন্তা বাদ দিন। কারণ প্রিলিতে ম্যাথ ১৫ মাত্র, ইংলিশ ৩৫, মানে মোট ৫০। সেখান থেকে মাঝারি মানের পরীক্ষার্থীরা অনায়সে ২০-২৫ পেয়ে থাকেন সাধারণত। আর বিসিএস প্রিলিতে আলাদাভাবে পাস করতে হয় না। সব মিলিয়ে ১২০-এর মতো পেলেই আপনি ‘সেইফ জোনে’ থাকবেন, আশা করা যায়। সাধারণ জ্ঞানের একটি প্রশ্নের জন্য যেমন ১ নম্বর পাবেন, আবার বড় একটি ম্যাথের জন্যও ১ নম্বরই পাবেন। Vocabulary মনে না থাকলে, এখন শুধু বিগত সালে বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় আসা Vocabulary-গুলো MCQ আকারে পড়ুন, মনে থাকবে বেশি এবং কমনও পাবেন আশা করি।

পরীক্ষার আগের দিন

পরীক্ষার আগের দিন অন্তত আপনার মতো যে বিসিএস পরীক্ষার দেবেন, এমন একজনকে বেছে নিয়ে একজন আরেকজনকে শুধু পরীক্ষায় আসার মতো গুরুত্বপূর্ণ সাল তারিখ, নামগুলো জিজ্ঞেস করে আলোচনার মাধ্যমে পড়লে ভালো ফল পাবেন পরীক্ষার হলে। কারণ এভাবে মনে বেশি থাকে। আমি তা-ই করতাম আমার রুমমেটের সঙ্গে। পরীক্ষার আগের রাতে ভালো ঘুম হওয়া আবশ্যক। কোনোভাবে বাড়তি চাপ নেবেন না। নাহয় পরীক্ষার হলে মাথা কম কাজ করতে পারে। পরীক্ষার হলে চিন্তা করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই পরীক্ষার রাতে যথাসম্ভব আগে আগে ঘুমিয়ে পড়ুন। পরীক্ষার প্রবেশপত্র, প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র ও অন্তত দুটি চলতি কলম আগের রাতেই স্বচ্ছ কোনো ব্যাগে গুছিয়ে রেখে দিন। যেন পরীক্ষার দিন সকালে এসব খোঁজাখুঁজি করে বাড়তি চাপ নিতে না হয় বা বাড়তি সময় নষ্ট করতে না হয়।

দ্রুত কেন্দ্রে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন

পরীক্ষার কেন্দ্রে অন্তত ১ ঘণ্টা আগে পৌঁছার চেষ্টা করবেন। প্রয়োজনে সঙ্গে বই নিয়ে কেন্দ্রের সামনে পড়বেন। তবে অবশ্যই সঙ্গে এমন কোনো মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাবেন না, যা বাইরে রেখে পরীক্ষার হলে গেলে আপনার দুশ্চিন্তা করা লাগতে পারে।

পরীক্ষার শুরুতে যা করবেন

পরীক্ষার হলে প্রথমে ওএমআরের নির্দেশনা অনুযায়ী নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, আবেদন করার সময় ব্যবহৃত একই স্বাক্ষর, কেন্দ্রের নাম, প্রশ্নের সেট কোড নির্ভুলভাবে লিখবেন এবং প্রয়োজনীয় স্থানে বৃত্ত ভরাট করবেন। পুরো প্রশ্ন পড়ে তারপর বৃত্ত ভরাট করবেন। এমন যেন না হয়, প্রশ্নে চাওয়া স্থল ‘কোনটি নয়?’ কিন্তু আপনি উত্তর করে এলেন ‘কোনটি?’ তবে যে প্রশ্নে উত্তর করতে পারবেন না বলে প্রথমেই মনে হয়, সেই প্রশ্ন পুরোটুকু পড়ে সময় নষ্ট করবেন না। যেটা পারবেন, সেটার সবটুকু প্রশ্ন পড়ে তারপর উত্তর করবেন। তবে যেটা পারবেন, সেটা সঙ্গে সঙ্গে উত্তর করবেন। এমন যেন না হয়, আগে প্রশ্নে উত্তর দাগাবেন; পরে ওএমআরে দাগাবেন। এমন করতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে পরে আর সময় পাওয়া যায় না। উত্তরপত্রে উত্তরের ঘর ভরাট করার সময় প্রশ্নের সিরিয়াল এবং ওএমআরের সিরিয়াল নিশ্চিত হয়ে ভরাট করবেন। যেন ৩৯ নম্বর প্রশ্নের উত্তর ৪৯ ওএমআরের ঘরে ভরাট না হয়।

যে বিষয় দিয়ে শুরু করতে পারেন

পরীক্ষার হলে আমার মতে সাধারণ জ্ঞান বা বাংলা দিয়ে উত্তর শুরু করা উচিত; সাধারণ গণিত সবার পরে উত্তর করা উচিত। কারণ সাধারণ জ্ঞানে বেশি নম্বর ওঠাতে পারলে কনফিডেন্স বেড়ে যাবে। আর গণিত যত ভালো পারুন না কেন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে দুই-একটি বড় বা ঝামেলাপূর্ণ গণিত থাকেই। গণিত করতে গিয়ে সময় বেশি চলে গেলে পরে সময়ের চিন্তায় মাথা গরম হয়ে গেলে পরীক্ষা আর ভালো হবে না।

নেগেটিভ মার্কসের দিকে লক্ষ রাখুন

উত্তর করার সময় নেগেটিভ মার্কসের দিকে বিশেষভাবে লক্ষ রাখুন। না জেনে আন্দাজে দাগাবেন না। আপনার একটু ভুল উত্তরের জন্য প্রাপ্ত নম্বর থেকে ০.৫০ কাটা যাবে। মানে দুটি ভুল উত্তরের জন্য প্রাপ্ত নম্বর থেকে ১ নম্বর কাটা যাবে। তাই সবকিছু বাদ দিয়ে আপনার ‘সেইফ জোন’ ১২০-এ পৌঁছে গেলে বাড়তি ঝুঁকি নেওয়াটা হবে বোকামি! সবার জন্য শুভকামনা রইল।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button