হোমসাম্প্রতিককেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মানছে না সিটি ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মানছে না সিটি ব্যাংক

করোনা মহামারী অজুহাতে প্রায় এক হাজার ১০০ জন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করেছে বেসরকারিখাতের দ্য সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ, চাকরিচ্যুতদের ৯৫ শতাংশ কর্মীর বিরুদ্ধে কোনো ধরণের অভিযোগ না থাকলেও শুধুমাত্র এমডির অপছন্দের কারণে চাকরি থেকে অব্যহতি দিতে বাধ্য করা হয়েছে অধিকাংশ কর্মকর্তাদের।

চাকরি ছাড়তে বাধ্য হওয়া একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নানা অপকৌশলে সিটি ব্যাংকের সফল ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আরকে হুসেইনকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করে এমডির দায়িত্ব নেয় মাশরুর আরেফিন। ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি সিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ মাশরুরকে এমডি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালনা পরিচালকের দায়িত্ব নিয়েই প্রথমে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করেন সাবেক এমডি সোহেল আরকে হুসেইনের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) মনিরা সুলতানা পপিকে। চাকরি ছাতে রাজি না হওয়ায় তাকে এমডির দপ্তর থেকে শাখায় বদলি করা হলেও অফিস করেননি পপি। পরবর্তীতে মনিরা সুলতানা পপি মাশরুর আরেফিনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে মামলা করেন। পপির বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দেয় সিটি ব্যাংক।

আরও দেখুন:
> ৪৩তম বিসিএস প্রিলির জন্য যে নির্দেশনা দিল পিএসসি
> সমন্বিত ৩ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার সূচি প্রকাশ
> এ-চালান কি? ব‍্যাংকিং চ‍্যানেলে এ-চালানের ব‍্যবহার পদ্ধতি

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

পপির মামলার পর অন্য ব্যাংকারদের চাকরিচুত্য করার ব্যাপারে অনেকটা নিশ্চুপ ছিলেন মাশরুর আরেফিন। পছন্দের লোক নিয়োগ দিতে এবং অপছন্দের কর্মীদের বাদ দেওয়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে মহামারী করোনাভাইরাস।

করোনার অজুহাতে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাশরুর আরেফিন এক হাজার ৯৮ জন কর্মকর্তাকে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করেছেন। যদিও সিটি ব্যাংক বলছে সকল কর্মকর্তাই স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছেন। তবে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা কয়েকজন কর্মকর্তা জানান তাদের পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে সার্ভিস বেনিফিট দেওয়া হবে না বলে হুমকিও দিয়েছে।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের বক্তব্যের সত্যতা পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দলও। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন দল ছাটাই, অপসারণ ও বরখাস্ত করা কর্মকর্তাদের নথি যাচাই করে দেখেছেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি সিটি ব্যাংক। কারণ দর্শানো নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয় নাই।

চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর একটি সার্কুলার জারি করে ২০২০ সালের ১ এপ্রিল হতে চলতি বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোন অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও চাকরিচ্যুত হয়েছে কিংবা পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে তাদেরকে (আবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে) বিধি মোতাবেক চাকরিতে বহাল করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোন অভিযোগ না থাকলে কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না বলেও নির্দেশনা দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সার্কুলার জারির পরে চাকরিচ্যুত প্রায় অর্ধর্শত ব্যাংকার কাজে যোগদানের জন্য সিটি ব্যাংকে আবেদন করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে এখন পর্যন্ত তাদের কাজে ফেরানোর ব্যবস্থা করেনি সিটি ব্যাংক। চাকরিচ্যুত ব্যাংকাররা বলেছেন মাশরুর আরেফিন পরিচালনা পর্ষদকে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সহ্রসাধিক কর্মকর্তার চাকরি ছাড়তে বাধ্য করে তার পছন্দের লোক নিয়োগ দিয়েছেন।

চাকরিচ্যুতদের কাজে ফেরানোর বিষয়ে ব্যাংকগুলোর অবস্থানের কথা জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজসমূহের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের নিমিত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেছে। সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত কোন অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও কোভিডকালীন শুধুমাত্র লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না করা বা অদক্ষতার অজুহাতে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের ফেরানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সূত্রঃ বার্তা২৪, ১৫ অক্টোবর, ২০২১।
মূল খবর দেখুন এখানে

এ সম্পর্কিত আরও দেখুন

Leave a Reply

এ সপ্তাহের জনপ্রিয় পোস্ট

সর্বশেষ পোস্ট