সিসিটিভি ক্যামেরা কি? সিসিটিভি ক্যামেরা কেনার আগে যে বিষয়গুলো জানতে হবে?

0

“নিরাপত্তা” এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ যা আমাদের প্রতিদিন প্রতিটি মুহুর্তেই প্রয়োজন। বর্তমান যুগের সাথে পরিবর্তনের অঙ্গিকারে প্রযুক্তির উপহারে আরো উন্নত এবং নিখুত হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আর নিরাপত্তা বাবস্থাকে আরো এক ধাপ নিশ্চিত করে সিসিটিভি ক্যামেরা।

সিসিটিভি বা CCTV হল Closed Circuit Television এক সংক্ষিপ্ত নাম। সিসিটিভি ক্যামেরা হচ্ছে এমন একটা সিকিউরিটি ডিভাইস যেটা একাধিক পরিমাণে একটি মনিটরিং সিস্টেমে যুক্ত থাকে, যার মাধ্যমে ইউজার ক্যামেরা থেকে প্রাপ্ত ভিডিও চিত্র দেখতে পারবেন এবং রেকর্ড করে রাখতে পারবেন।

গত কয়েক বছরে সিসিটিভি ক্যামেরা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে দাম কমে সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আসার কারণে। বর্তমানে সিসিটিভি ক্যামেরার দাম, ফিচার এর ওপর নির্ভর এত মডেল বাজারে আছে যে ক্যাটালগ দেখে অথবা দোকানে গিয়ে যেকোনো একটি মডেল পছন্দ করা বেশ কঠিন হয়ে যেতে পারে।

কিন্তু আপনি যে কাজে ও যে পরিবেশে সিসিটিভি ক্যামেরা ইন্সটল করতে চান সেগুলোর জন্য সঠিক সিসিটিভি ক্যামেরাটি ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেহেতু এখানে নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িয়ে আছে।

সেরা সিসিটিভি ক্যামেরা কেনার আগে আপনাকে যে বিষয়গুলো জানতে হবে?

১। ভাল গুণগতমান সম্পন্ন ক্যামেরায় বিনিয়োগ করবেন।

কম দামের কারণে ভাল ব্র্যান্ডের বদলে সস্তা ব্র্যান্ডের ক্যামেরা কিনলে কয়েকদিন পরেই সেটি নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং শুধু দাম নয়, উক্ত জায়গার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তারচেয়েও বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে আপনার। “সস্তার তিন অবস্থা” প্রবাদটি সিসিটিভি ক্যামেরার বেলায় বেশ ভালভাবেই খাটে। তাই সর্বোত্তম গুণগত মান পাওয়ার জন্য ভাল ব্র্যান্ডের সিসিটিভি ক্যামেরা নিন।

২। ওয়ারেন্টি

যেহেতু সিসিটিভি ক্যামেরা বেশ সেনসিটিভ এবং নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তাই সবসময় সিসিটিভি ক্যামেরার ওয়ারেন্টি পিরিওড দেখে নিবেন। ভাল ব্র্যান্ড হলে সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত ওয়ারেন্টি পাওয়া যাবে।

৩। সিসিটিভি ক্যামেরার বেসিক ফিচারগুলো

সিসিটিভ ক্যামেরার লেন্স ও ডেটা স্টোরেজ চেক করে নেয়া খুব জরুরী। ওয়াইড এঙ্গেল লেন্স ডিগ্রি, ক্যামেরার ফিল্ড অফ ভিশন অর্থাৎ ক্যামেরা তার সামনে কতটুকু জায়গার দৃশ্য ধারণ করবে তা নির্ধারণ করে। সিসিটিভি ক্যামেরার মেমোরি সাধারণত ১ টেরাবাইটের মত থাকে যা এক্সটারনাল হার্ডডিস্ক দিয়ে বাড়ানো যায়।

৪। কী ধরণের ক্যামেরা চাচ্ছেন আগেই ঠিক করে নিন

বাজারে ৩ ধরণের ক্যামেরা পাওয়া যায়। এনালগ ক্যামেরাগুলো সবচেয়ে সস্তা এন্ট্রি লেভেল ক্যামেরা এবং IP (Internet Protocol) ক্যামেরা এবং HD ক্যামেরাগুলো আরও হাই এন্ডের ক্যমেরা। কী ধরণের ক্যামেরা আপনি চাচ্ছেন তা নির্ভর করে ক্যামেরা যেখানে বসাবেন সেখানকার পরিবেশ, ক্যামেরায় দৃশ্যটি কত স্পষ্টভাবে ধারণ করতে চান, ইন্টারনেটের মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে দেখতে চান কীনা এসবের ওপরে।

৫। বিভিন্ন ধরণের ক্যামেরার মধ্যে তুলনা

এনালগ ক্যামেরা লো রেজ্যলুশন (low resolution) বা লো কোয়ালিটিতে ভিডিওচিত্র ধারণ করে, যা দিয়ে আপনি ক্যামেরার সামনে মানুষের উপস্থিতি অথবা অন্য কোনও ঘটনা ঘটছে কীনা তা দেখতে পারবেন, তবে জুম করে মানুষের চেহারা বের করতে পারবেনা না অথবা অন্যকিছু ডিটেইলে দেখতে পারবেন না। একটি HD বা High Definition ক্যামেরা হাই রেজ্যলুশনে ভিডিও ধারণ করবে, যা ভিডিও থেকে মানুষকে শনাক্ত করার জন্য কাজে লাগতে পারে, যেহেতু হাই কোয়ালিটির ভিডিওতে জুম করলেও মানুষের চেহারা ফেটে যাবেনা।

৬। আপনার সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে কী রেকর্ড করতে চান ঠিক করুন

এরকম অনেক জায়গা আছে যেখানে আপনি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাতে চাইতে পারেন, সেটা বাসা অথবা অফিসের ভেতরেও হতে পারে আবার বাইরেও হতে পারে। কোন জায়গায় লাগাবেন সেটার ওপর নির্ভর করে আপনার ক্যামেরা নেয়া উচিত। নিজেকে নিচের কয়েকটি প্রশ্ন করুন, তাহলে নিজেই বুঝে যাবেন কোন ক্যামেরাটি আপনার জন্য ভাল হবে –

  •  আমি কী শুধুমাত্র স্ক্রিনে দেখতে চাই আমার বাসায় কেউ ঢুকছে অথবা বের হচ্ছে কীনা?
  •  আমি কী আমার বাসার বাসার সামনে মানুষের চলাফেরা পরবর্তীতে দেখার জন্য রেকর্ড করে রাখতে চাই?
  • আমার বাসা কী Wired  system (সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো তার দিয়ে সংযুক্ত থাকবে) এর বেশি উপযোগী না Wireless system (সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো তারহীন হবে)  এর বেশি উপযোগী?
  • আমার কী বাসার ভেতরে ও বাইরে, ২ জায়গাতেই সিসিটিভি ক্যামেরা দরকার?

প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় নিজের বাজেটও বিবেচনায় রাখা উচিত।

৭। ক্যামেরার ইমেজ সেন্সর

সিসিটিভি ক্যামেরার ইমেজ সেন্সর, ফুটেজ (ধারণকৃত ভিডিও) এর গুণগত মান বা রেজুল্যশন নিয়ন্ত্রণ করে। ইমেজ সেন্সর হিসেবে সাধারণত CMOS Chip অথবা CCD Chip ব্যবহার করা হয়। খারাপ কোয়ালিটির সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো CMOS Chip ব্যবহার করে এবং সেগুলোর ধারণকৃত ফুটেজের রেজ্যুলুশন ও আলো, দুটোই খারাপ আসে।

৮। সাদা কালো ক্যামেরা নিবেন না রঙিন ক্যামেরা?

কম আলো আছে এরকম জায়গায় সাদা কালো সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়েই কাজ চলে যায়। রঙিন সিসিটিভি ক্যামেরা সাধারণত ঘরের ভেতরে ব্যবহার করা হয় যেখানে আলো অনেক বেশি থাকে।

৯। রাতের বেলায় রেকর্ড করা

আপনি যদি সিসিটিভি ক্যামেরা ঘরের বাইরে বসাতে চান তাহলে আপনার ইনফ্রারেড (Infrared) LED  সংযুক্ত আছে এরকম ক্যামেরা নিতে হবে। রাতেরবেলা এই ইনফ্রারেড এলইডি সিসিটিভি ক্যামেরার সামনের জায়গা আলোকিত করে, এবং এই আলো মানুষের চোখে অদৃশ্য বলে অন্ধকারে দেখে বোঝাও যায় না। তবে এগুলোর দাম ভালই বেশি। আপনি ইচ্ছে করলে ইনফ্রারেড লাইটছাড়া ক্যামেরা নিয়ে আলাদা করে ক্যামেরার পাশে লাইট লাগিয়ে নিতে পারেন, তাহলে খরচ অনেক কম পড়বে।

১০। তারসহ ক্যামেরা না তারহীন ক্যামেরা?

তারহীন ক্যামেরা দেখতে বেশি সুন্দর লাগে, তাই অফিসে এটিই সাধারণত ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তবে, এগুলোর একটি সমস্যা হচ্ছে, যেহেতু এগুলো যোগাযোগ করে রেডিও সিগন্যালের মাধ্যমে, তাই আশেপাশে অন্য কোনও Wireless ডিভাইস (কর্ডলেস ফোন, ওয়াই-ফাই রাউটার) থাকলে সেটার সিগন্যালের সাথে ইন্টারফেয়ারেন্স হতে পারে। ওয়্যারলেস ক্যামেরার একটি পাওয়ার কেবল, রেডিও ট্রান্সমিটার ও রিসিভার লাগে, সেজন্য দামও তুলনামূলকভাবে বেশি। সাধারণত বাইরে ক্যামেরা স্থাপন করার সময় Wired ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়, এবং ঘরের ভেতরে ওয়্যারলেস ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়।

১১। স্থাপনের খরচ বিবেচনায় রাখুন

সিসিটিভি ক্যামেরার খরচ এবং সেটি স্থাপন করার খরচের পাশাপাশি অন্যান্য ব্যয়ও আছে, যেমন কেবল, কানেক্টর, পাওয়ার সাপ্লাই। এগুলোও বাজেটে রাখতে ভুলবেন না।

১২। সিকিউরিটি প্রফেশনালদের কাছ থেকে পরামর্শ নিন

সিসিটিভি ক্যামেরা কেনার আগে একজন প্রফেশনালকে জিজ্ঞেস করলে তারা আপনার চাহিদাটা বুঝতে পারবে এবং সে অনুযায়ী পরামর্শ দিতে পারবে। পাশাপাশি, আপনি তাদের কাছে বিভিন্ন মডেলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও দেখতে পারবেন এবং নিজেই ফুটেজের কোয়ালিটি বুঝতে পারবেন।

সিসিটিভি ক্যামেরা প্রযুক্তি পুরোটি বুঝতে বেশ সময় লাগতে পারে এবং এই প্রযুক্তি  সময়ের সাথে সাথে আরও উন্নত হচ্ছে। তবে ইন্টারনেটে খোঁজ খবর নিয়ে এবং যেখানে সাহায্য দরকার সেখানে অভিজ্ঞদের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন কোন সিসিটিভি ক্যামেরাটি আপনার প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র–TECHGYD

Leave a Reply