ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করতে হবে সঠিক সময়েই

0

ক্যারিয়ার সামনে রেখে গ্র্যাজুয়েশনের সময় মেজর কোর্স নির্ধারণ করতে হবে। সবাই আজকাল এমবিএ করতে ইচ্ছুক বলে আপনাকেও করতে হবে, বিষয়টা তা নয়। নিজের পছন্দ ও আগ্রহকে বিচার করে এগিয়ে যেতে হবে। সৃজনশীল অনেক বিষয়ই আছে, যেগুলোর ওপর আপনার দক্ষতা রয়েছে, আবার বাজারে এসব চাকরির মূল্যও বেশ। সেগুলোর দিকে নজর দিতে হবে, যাতে চাকরি না পেলেও নিজের উদ্যোগে কিছু করা যায়।

বর্তমান সময় অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ছাত্রজীবন শেষ করে শিক্ষার্থীরা যখন তাদের ডিগ্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত পেশায় নিয়োজিত হন, তখন নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে অসন্তোষ থাকেন। অনেকে হতাশায় ডুবে যান। ভাবেন হয়তো এর চেয়ে ভালো কিছু তারা করতে পারতেন। এর নেপথ্যে যে বিষয়টি কাজ করে, তা হলো উপযুক্ত ক্যারিয়ার পরিকল্পনার অভাব। ছাত্রজীবনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সময়ই ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করে ফেলতে হবে।

বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের পর ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতে বসেন। এটাই সবচেয়ে বড় ভুল। এর শুরুটা হওয়া উচিত আরো আগে। যখন মাধ্যমিকে বিভাগ বেছে নেয়ার সময় আসে, তখনই প্রথম ধাপে ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতে হবে। এর পরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিজ্ঞান, মানবিক না ব্যবসায় বিভাগ বেছে নেবেন। কারণ এ সময় থেকেই ধাপে ধাপে ক্যারিয়ারের পথে আমরা এগিয়ে যাই। এরপর গ্র্যাজুয়েশনের সময়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্যারিয়ার নিয়ে একটা ছক কেটে ফেলার। এজন্য শিক্ষক, পরামর্শদাতার সাহায্য নেয়ার পাশাপাশি নিজেকেও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।

ক্যারিয়ার সামনে রেখে গ্র্যাজুয়েশনের সময় মেজর কোর্স নির্ধারণ করতে হবে। প্রথমেই চাকরির বাজার সম্পর্কে একটা ধারণা দাঁড় করাতে হবে। আবার খেয়াল রাখতে হবে কোন কোন ক্ষেত্রগুলো অদূর ভবিষ্যতে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। যেমন একটা সময় ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে না পড়েই ডিজাইনার পদে কাজ করা যেত। কিন্তু এখন এ বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে ভীষণ গুরুত্ব দেয়া হয়। তাছাড়া এ বিষয়ে কাজের ক্ষেত্রও অনেক বেড়েছে।

চাকরির বাজারে কোন ধরনের পেশা বেশি প্রভাব বিস্তার করছে, সেটা দেখার পর নিজের দিকে তাকাতে হবে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, বন্ধুরা যা পড়ছে, সেই বিষয়ই অনেকে বেছে নিচ্ছেন। এটা একটা বড় সমস্যা। কারণ মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাকাউন্টিং, কম্পিউটার সায়েন্স—যেটাই বলুন না কেন, নিজের আগ্রহ অনুযায়ী বিষয় বেছে নিতে হবে। নয়তো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সবাই আজকাল এমবিএ করতে ইচ্ছুক বলে আপনাকেও করতে হবে, বিষয়টা তা নয়। নিজের পছন্দ ও আগ্রহকে বিচার করে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলে সাফল্য আসবে ও সঠিক পেশা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেয়াটাও সহজ হবে। আবার খেয়াল রাখতে হবে যেকোনো বিষয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কেমন। যেমন বর্তমানে আমাদের দেশে এমবিএ করছে, এমন শিক্ষার্থীর অভাব নেই। গুরুত্ব পাচ্ছে অ্যাকাউন্টিং, মানবসম্পদ, ফিন্যান্স—এসব বিষয়। কিন্তু এত এত শিক্ষার্থীর জন্য কাজের ক্ষেত্র কিন্তু সীমিত। তাই খেয়াল করলে দেখা যাবে, বিবিএ-এমবিএ করা অনেক শিক্ষার্থীকেই ব্যাকগ্রাউন্ডবহির্ভূত ভিন্ন কোনো পেশায় নিয়োজিত হতে হচ্ছে। আবার অনেকে হয়তো চরম প্রতিযোগিতার কারণে চাকরিই পাচ্ছেন না। সেক্ষেত্রে ভালো রেজাল্ট থাকা সত্ত্বেও হতাশায় ডুবে যেতে হচ্ছে। তাই একটু ব্যতিক্রম চিন্তা করতে হবে। সৃজনশীল অনেক বিষয়ই রয়েছে, যেগুলোর জন্য আপনার দক্ষতা রয়েছে আবার বাজারে এসব চাকরির মূল্যও রয়েছে। সেগুলোর দিকে নজর দিতে হবে, যাতে চাকরি না পেলেও নিজের উদ্যোগে কিছু করা যায়।

বর্তমানে আমাদের দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি সুনামও কুড়িয়েছে। তাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স না পেলে অনেকেই নামকরা এসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য উঠেপড়ে লাগেন। এর পেছনে একটা কারণ হচ্ছে, বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে দেন নামকরা কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। সেক্ষেত্রে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই কেবল সেসব স্থানে আবেদন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে রেজাল্টটাও শেষ পর্যন্ত ভালো রাখতে হবে। অন্যদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের সম্মানজনক নামটা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সে বিশ্ববিদ্যালয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে না পড়ে ভবিষ্যতে যেকোনো স্থানে কাজে লাগানো যায়, এমন বিষয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়ুন। এটা ক্যারিয়ারের জন্য ভালো হবে।

ক্যারিয়ার গঠনে শুধু ভালো বিশ্ববিদ্যালয়, ভালো রেজাল্টই গুরুত্বপূর্ণ—এ কথা ভাবলে ভুল হবে। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি ভালো ইংরেজি বলা ও লেখা, কম্পিউটার জ্ঞান, নেতৃত্বদানের যোগ্যতা, সুন্দরভাবে কথা বলা, যোগাযোগ বাড়ানোর দক্ষতাগুলোও ভালোভাবে অর্জন করতে হবে। এছাড়া পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়তি কোনো কোর্স করা যেতে পারে। সেটা নির্ভর করে আপনার লক্ষ্যের ওপর। কোন বিষয়ে নিজের দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন, সেটার ওপর। সুতরাং ভালো চাকরির জন্যই নয়, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত স্থানে দেখার জন্যই প্রয়োজন সঠিক সময়ে ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করা।
সূত্রঃ বনিক বার্তা।

Leave a Reply