রূপালী ব্যাংক কি লভ্যাংশ দিতে পারবে?

0
RUPALI BANK

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রমালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক শেয়ারধারীদের লভ্যাংশ দিতে পারবে কি না সে বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি ও নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে না পারার কারণে এই প্রশ্ন উঠেছে।

লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত বৈঠক করার আগে ব্যাংকটির শেয়ার দরে হঠাৎ উল্লম্ফনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

গত ছয় কার্যদিবসে ব্যাংকটির শেয়ারদর ২২ টাকা ১০ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৯ টাকা ৬০ পয়সা। শতকরা হিসেবে দাম বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ।

এর মধ্যে একদিন দাম কমেছে। আর পাঁচ দিন বেড়েছে।

ব্যাংকটির একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেছেন, তাদের লভ্যাংশ বিতরণে বাধা নেই। যদিও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে কিছু বলতে চাইছেন না। বলেন, এটি পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেবে।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত আর্থিক বছরের জন্য ব্যাংকটি ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু পরিচালনা পর্ষদের লভ্যাংশের সেই প্রস্তাবটি অনুমোদন করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

করোনা সংকটের মধ্যে ব্যাংকের তারল্য প্রবাহ ও মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী রাখতে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রভিশন সংরক্ষণসহ অন্যান্য খরচ বাদে বাংকগুলা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে, যার মধ্যে ১৫ শতাংশ হবে বোনাস, ১৫ শতাংশ হবে নগদ।

এভাবে কোনো ব্যাংককে সামর্থ্য অনুসারে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ, কোনো ব্যাংককে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ, কোনো ব্যাংককে ১২ শতাংশ, কোনো ব্যাংককে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ আর কোনো ব্যাংককে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণার সুযোগ দেয়া হয়।

পরে ১৬ মার্চ আরেক আদেশে লভ্যাংশের সীমা কিছুটা বাড়িয়ে সঞ্চিতি সংরক্ষণসহ অন্যান্য খরচ বাদে মূলধন সংরক্ষণ করতে পারার ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ লভ্যাংশের সীমা ৩৫ শতাংশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এতে বলা হয়, যেসব ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ন্যূনতম মূলধন ক্যাপিটাল কনজারভেশন বাফারসহ ১০ দশমিক ৬২৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৮৭৫ শতাংশ হবে, তারা সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে।

এই প্রজ্ঞাপন আসার পর তালিকাভুক্ত ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে এখন পর্যন্ত লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত পর্ষদ বৈঠক করেছে ২৭টি। এর মধ্যে কেবল আইসিবি ইসলামী ব্যাংক লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি।

আর সর্বনিম্ন পাঁচ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক। তবে তাদের আর্থিক সক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ন্যূনতম সীমার চেয়ে ভালো ছিল। কারণ তারা আড়াই শতাংশ স্টক লভ্যাংশের পাশাপাশি সমান সংখ্যক নগদ লভ্যাংশও দিয়েছে।

রূপালী ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ন্যূনতম মূলধন ক্যাপিটাল কনজারভেশন কত, সে বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আর পরিচালনা পর্ষদও এখন পর্যন্ত লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত সভা আহ্বান করেনি।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক লভ্যাংশের সীমা বেঁধে দিয়ে আদেশ জারির পর কয়েকটি অনলাইন দৈনিকে সংবাদ প্রকাশ হয় যে, এবারও রূপালী ব্যাংক কোনো লভ্যাংশ দিতে পারবে না। এরপর ব্যাংকটির শেয়ারদর কমে যেতে থাকে।

গত ১৭ জানুয়ারি ব্যাংকটির শেয়ারদর ছিল ৩১ টাকা ২০ পয়সা। এরপর ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে ৪ মে দাম দাঁড়ায় ২২ টাকা ১০ পয়সা। কিন্তু পরদিন থেকে দেখা দেয় উল্লম্ফন।

দুই দিনেই দাম বাড়ে ৪ টাকা ৭০ পয়সা। এরপর এক দিন ৫০ পয়সা দাম কমলেও পরের দুই দিন বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়ে যায় দাম।

পুঁজিবাজারে কোনো কোম্পানির শেয়ারদর একদিন বাড়তে পারবে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ। ১১ ও ১২ মে দুই দিন এই সর্বোচ্চ পরিমাণে দাম বাড়ার পর বিক্রেতাও ছিল না।

রূপালীর শেয়ার দাম ২৯ টাকা ৩০ পয়সা দাম নিয়ে শুরু হয় ঈদের ছুটি। তিন দিন পর রোববার এক পর্যায়ে দাম কিছুটা কমে ২৮ টাকা ৮০ পয়সা হয়ে যায়। কিন্তু শেষ বেলায় দাম আবার বেড়ে হয় ২৯ টাকা ৩০ পয়সা।

বোর্ড সভা ঘোষণার আগে আগে রূপালী ব্যাংকের দাম বৃদ্ধি লভ্যাংশ ঘোষণার সম্ভাবনার কারণে কি না- এমন প্রশ্নে ব্যাংকটির একজন উপমহাব্যবস্থাপক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ বছর বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেব। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মেনেই এ বছর লভ্যাংশ দেয়া যাবে।’

তার এই বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাংকটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা শওকত জাহান খান অবশ্য মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কোনো কথা বলব না। পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকের পর এ বিষয়ে জানা যাবে।’

২০২০ সালের ২৮ জুন লভ্যাংশ ঘোষণা সংক্রান্ত সভা করেছিল রূপালী ব্যাংক।

গত ২৮ অক্টোবর পরিচালনা পর্ষদের শেষ বৈঠক অনুযায়ী ২০২০ সালের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ব্যাংকটির শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৫০ পয়সা। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি। তখন শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৪০ পয়সা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে রূপালীর খেলাপি ঋণের হার ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। এসময়ে ব্যাংকটির প্রভিশন ঘাটতি ৮২১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। আর মূলধন ঘাটতি রয়েছে ৬৭১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

আরও দেখুনঃ
ব্যাংক-কোম্পানি আইনের খসড়া অনুমোদন, কি আছে সংশোধিত আইনে?
অফিসার নিয়োগ দেবে এনআরবি ব্যাংক
ঋণ খেলাপিদের জন্য তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক

Leave a Reply