বিকাশ বনাম ব্যাংক

0

দেশে সব শ্রেণির মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মোবাইল ব্যাংকিং। ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১১ সালের ৩১ শে মার্চ ডাচ্ ব্যাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং চালুর মাধ্যমে দেশে প্রথম মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সূচনা হয়। এর পরপরই ব্রাকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিকাশের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ১৭ টি ব্যাংক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করেছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৭ কোটি ৮৫ লাখ।

মোবাইল ব্যাংকিং এ জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে বিকাশ। মোবাইল ব্যাংকিং সেবার ৮৩% মার্কেট শেয়ারই বিকাশের এবং ১৩% মার্কেট শেয়ার ডাচ্ বাংলার রকেটের দখলে আছে।

মোবাইল ব্যাংকিং এত জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পিছনের গল্পের দিকে তাকালে দেখা যাবে সব শ্রেণির মানুষের কাছে সহজ লেনদেনের কারণেই মূলত প্রতিনিয়ত বাড়ছে গ্রাহক সংখ্যা।

প্রয়োজনীয়তাই পণ্যের/সেবার উদ্ভাবকঃ

আমাদের দৈনন্দিন টাকা লেনদেনের প্রয়োজনীয়তা থেকেই বিকাশ/রকেটের যাত্রা শুরু। যে কাউকে মূহুর্তেই টাকা পাঠানোর মাধ্যম হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সে ক্ষেত্রে টাকা অন্য জনকে প্রেরণের ক্ষেত্রে ১.৮৫% টাকা সার্ভিস চার্জ হিসেবে দিতে হয়।

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের যাত্রা শুরুর পর থেকে ব্যাংকিং সেক্টরে প্রতিনিয়তই পরিবর্তন আসছে যা জীবনযাত্রাকে করছে আরও সহজতর। এক সময় এক ব্যাংক একাউন্ট হতে অন্য ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠাতে গুণতে হতো প্রতীক্ষার প্রহর। চেকের মাধ্যমে নিকাশঘর/ক্লিয়ারিং হাউজ হয়ে টাকা আসতে সময়ের প্রয়োজন হতো। বর্তমানে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে এক ব্যাংক একাউন্ট হতে অন্য ব্যাংক একাউন্টে টাকা নিতে BACH II ব্যবহৃত হচ্ছে ক্লিয়ারিং হাউজে। যেখানে এক ব্যাংক একাউন্ট থেকে অন্য ব্যাংকের একাউন্টে চেকের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে ৪৯,৯৯৯ টাকা পর্যন্ত কোন চার্জ দিতে হয় না, ৫ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ১০ টাকা এবং ৫ লাখ+ চেক হলে ২৫ টাকা এবং হাই ভ্যালু চেক (৫ লাখ+) হলে ৬০ টাকা BACH Charge নেওয়া হয়।

প্রতিটি চেকের পাতা ব্যাংক ভেদে ৫.৫০ টাকা থেকে ১৩ টাকা হয়ে থাকে। তার মানে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা এক ব্যাংকের একাউন্ট হতে অন্য ব্যাংকের একাউন্টে টাকা পাঠাতে খরচ হচ্ছে ৫.৫০ টাকা থেকে ১৩ টাকা যেখানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা পাঠাতে খরচ হচ্ছে ৯২৫ টাকা থেকে ১০০০ টাকা(!)

ডিজিটাল ব্যাংকিং এর অগ্রগতির ফলাফল হিসেবে চেক ছাড়াও এক একাউন্ট থেকে অন্য একাউন্টে সহজেই টাকা পাঠানো যায়।
-RTGS এর মাধ্যমে
-ইন্টারনেট ব্যাংকিং এ EFTN এর মাধ্যমে
-ইন্টারনেট ব্যাংকিং এ NPSB এর মাধ্যমে

EFTN (Electric Fund Transfer Network) এর মাধ্যমে টাকা এক ব্যাংকের একাউন্ট হতে অন্য ব্যাংকের একাউন্টে পাঠাতে হলে দিনের ১০ টার মধ্যে টাকা পাঠালে সেই দিনেই টাকা একাউন্টে ক্রেডিট হয়ে যায়। এটি মূলতঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকাশ হাউজের মাধ্যমে স্যাটেল হয়ে থাকে। EFTN এ কোন সার্ভিস চার্জ নেই!

NPSB (National Payment Switch Bangladesh) এর মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত টাকা এক ব্যাংক একাউন্ট থেকে অন্য ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠানো যায় মুহূর্তেই। সে কোন সময়েই টাকা পাঠানো যায় অন্য ব্যাংকের একাউন্টেই। এ ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ বাবদ কোন টাকা নেওয়া হয় না।

NPSB/EFTN এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হচ্ছে এগুলোর মাধ্যমে টাকা পাঠাতে আপনাকে ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই! এ্যাপস এর মাধ্যমেই ঘরে বসেই আপনি টাকা ট্রান্সফার করতে পারছেন। সার্ভিস ওরিয়েন্টেড প্রাইভেট ব্যাংকগুলা সাধারণত তাদের এ্যাপস এই এ সকল সার্ভিস প্রদানে সক্ষম! আশা করা যাচ্ছে খুব শ্রীঘ্রই সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক এসকল সার্ভিস প্রদাণে সক্ষম হয়ে উঠবে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে মোবাইল ব্যাংকিং জনপ্রিয় হলেও অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ নিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছে!

বাংলাদেশ ব্যাংক যেখানে ইন্টারেস্ট রেট সিংগেল ডিজিটে এনেছে সেখানে শুধুমাত্র টাকা ক্যাশ আউটের সার্ভিস চার্জ ১.৮৫% হওয়া অবশ্যই অযৌক্তিক।

আমরা আশা করবো প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এসকল বিষয়ে নজরদারি আরও জোড়ালো করবে এবং এসকল অযৌক্তিক সার্ভিস চার্জ পরিবর্তনে অতিশীঘ্রই ভূমিকা রাখবে।

লেখক: ত্রিফান আহমেদ।

Leave a Reply