ছুটিতেও খোলা ব্যাংক, কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ

0
712

করােনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যেও সীমিত আকারে ব্যাংক সেবা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এ সিদ্ধান্ত ২৯ মার্চ থেকে কার্যকর হবে। নতুন সময়সীমা অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগদ টাকা জমা ও উত্তোলন করা যাবে। আর লেনদেন-পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করার জন্য ব্যাংক খােলা থাকবে বেলা দেড়টা পর্যন্ত। গতকাল মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শুধু নগদ জমা ও উত্তোলনের জন্য অনলাইন সুবিধা থাকা ব্যাংকগুলাে গ্রাহকের লেনদেনের সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করে শাখাগুলাের মধ্যে দূরত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়ােজনীয় সংখ্যক শাখা খােলা রাখবে। অনলাইন সুবিধা ছাড়া ব্যাংকের শাখাগুলাে শুধু নগদ জমা ও উত্তোলনের জন্য খােলা রাখা যাবে। আর জরুরি বৈদেশিক লেনদেনের জন্য এডি শাখাগুলাে খােলা রাখা যাবে। এটিএম ও কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন চালু রাখার সুবিধার্থে এটিএম বুথগুলােয় পর্যাপ্ত নােট সরবরাহ রাখতে হবে এবং সার্বক্ষণিক চালু রাখার প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ব্যাংকের কর্মকর্তারা তারা বলছেন, করােনার প্রভাব ঠেকাতে সবকিছু লকডাউন করা হচ্ছে অথচ খােলা রাখা হচ্ছে ব্যাংক। এতে ব্যাংকাররা স্বাস্থ্যঝুঁকির আতঙ্কে ভুগছেন। বেশ কয়েকজন ব্যাংকার অভিযােগ করেন, ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামও এখনাে দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় নিজেদের নিয়ে তারা যেমন আতঙ্কিত, তেমনি তাদের পরিবারও উদ্বিগ্ন।

একাধিক ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাজের জন্য সপ্তাহ ভিত্তিতে রেশনিংয়ের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিলেও অনেক ব্যাংক এখনাে সেটি করেনি। এ নিয়েও কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে। প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা না পাওয়ায় ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় এ রেশনিং কার্যক্রম শুরু করা হয়নি বলে জানা গেছে।

যােগাযােগ করা হলে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্যাংকগুলাে চাহিদা অনুযায়ী শাখা খােলা রাখবে। তবে প্রশ্ন হলাে, লকডাউনের মধ্যে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কীভাবে চলাচল করবে। সবার বাসা তাে আর শাখার পাশে নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, অনেক ব্যাংকের শুধু মতিঝিল এলাকাতেই একাধিক শাখা আছে। এর মধ্যে একটি খােলা রাখলেই চলবে। এভাবে সারা দেশের কোন শাখা খােলা রাখা যাবে, ব্যাংকগুলাে নিজেরাই তা নির্ধারণ করতে পারবে।