ব্যাংকগুলো এলসি সেটেলমেন্টে ডলার বিক্রি করছে ১০২ টাকায়

ডলারের দাম বাড়ছেই। প্রায় প্রতিদিনই ডলারের দাম একটু একটু করে বাড়ছে। ব্যাংকগুলো জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডলারের দাম প্রায় ২ টাকা বেড়ে গেছে। গত বুধবার ব্যাংকগুলো ১০১.৬০-১০২ টাকা রেটে আমদানি এলসি সেটেলমেন্ট করেছে। আগের দিন মঙ্গলবারও এমন রেটেই এলসি সেটেলমেন্ট করেছিল ব্যাংকগুলো। আগের বুধবার (১৩ জুলাই) ডলারের এই রেট ছিল ১০০ টাকার মতো।

রপ্তানি মূল্য নগদায়নের ক্ষেত্রে বড় এক্সপোর্টারদের ৯৮-৯৯ টাকা রেট দিতে হয়েছে। সেইসঙ্গে এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো থেকে রেমিট্যান্সের ডলার সংগ্রহ করতে ব্যাংকগুলোকে ১০১ টাকা রেট দিতে হচ্ছে। তবু পর্যাপ্ত ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। এসব কারণে অনেক ব্যাংকই আমদানি এলসি সেটেলমেন্ট করতে হিমশিম খাচ্ছে।

বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে এখন ডলারের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। সে অনুযায়ী ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চেয়েও পর্যাপ্ত ডলার পাওয়া যাচ্ছে না। এসব কারণে রেমিট্যান্স ডলার সংগ্রহ করতে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর ওপর ভরসা করতে হচ্ছে। তারাও চড়া দামেই ডলার বিক্রি করছে। গতকাল বুধবার এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোকে ১০০.৫০ টাকা রেট দিয়েও অনেক ব্যাংক ডলার সংগ্রহ করতে পারেনি।

টেকনো ইনফো বিডি‘র প্রিয় পাঠক: প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও চাকরির গুরুত্বপূর্ণ খবরের আপডেট পেতে আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ টেকনো ইনফো বিডি তে লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন।

তারা আরও বলেন, ঈদের আগে অনেক রপ্তানিকারকই রপ্তানিমূল্য নগদায়ন করেছেন। এসব কারণে নতুন করে নগদায়নের জন্য তারা কম আসছেন। রেমিট্যান্স যতটুকু আসছে, তা দিয়ে অভাব পূরণ করা যাচ্ছে না। খুব দ্রুত এই সংকট কাটার সম্ভাবনা দেখছেন না ব্যাংকাররা।

একটি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান টিবিএসকে বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন প্রচুর বড় বড় এলসি খোলার অর্ডার আসছে। ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, জাহাজ ও সারের মতো খাতগুলো এখন এলসি খুলতে চাইছে। এমাউন্ট অনেক বেশি হওয়ার কারণে এসব এলসি সেটেলমেন্ট করতে আমাদের বেগ পেতে হয়। তবে আমরা কিছু ক্ষেত্রে তাদের নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করছি।’

ছোট এমাউন্টের এলসি সেটেলমেন্ট রেট কম নেওয়া হয় জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘বড় এমাউন্টের এলসি সেটেলমেন্টে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়। কারণ, এতো ডলার আমাদের কাছে থাকে না। এক্সচেঞ্জ হাউজগুলো থেকে ১০১ টাকা দামে ডলার কিনতে হওয়ায় সেটেলমেন্টের ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি দাম নিতে হচ্ছে।’

এদিকে, সংকট কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে প্রতিনিয়ত ডলার বিক্রি করছে। গতকাল বুধবারও ৯৩.৯৫ টাকা রেটে ১৫ মিলিয়ন ডলার বিক্রি করছে। চলতি অর্থবছরের জুলাইতে এ পর্যন্ত ৭০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করা হয়েছে রিজার্ভ থেকে।

ডলার-সংকট নিরসনে গত বৃহস্পতিবার একসঙ্গে চারটি সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সেগুলো হলো ব্যাংকের ডলার ধারণের সীমা (এনওপি) হ্রাস, রপ্তানিকারকের প্রত্যাবাসন কোটায় (ইআরকিউ) ধারণকৃত ডলারের ৫০ শতাংশ নগদায়ন, ইআরকিউ হিসাবে জমা রাখার সীমা কমিয়ে অর্ধেকে নামিয়ে আনা এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল অভ্যন্তরীণ ব্যাংকিং ইউনিটে স্থানান্তর।

এছাড়া ৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের বেসরকারি যেকোনো আমদানি এলসি খোলার ২৪ ঘণ্টা আগে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর ফলে সংকট কিছুটা কমার আশা করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক গত মঙ্গলবার পাঁচ প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ডলারের আমদানি এলসি খোলা স্থগিত করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অনিয়মের তথ্য পাওয়ায় ঋণপত্রগুলো স্থগিত করা হয়েছে। ব্যাংক যথাযথ নথিপত্র দিতে পারলে ছেড়ে দেওয়া হবে।

কার্ব মার্কেটে ডলার ১০২.৫০ টাকা

বুধবার খোলাবাজার থেকে ডলার কিনতে গ্রাহকদের খরচ করতে হয়েছে ১০২.৩০-১০২.৫০ টাকা। এছাড়া মানি চেঞ্জারগুলো ১০২ টাকা রেটে ডলার সংগ্রহ করেছে। আগের দিন মঙ্গলবারও এই দামে ডলার কেনাবেচা হয়েছে কার্ব মার্কেটে। রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও বায়তুল মোকররম এলাকার মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

মতিঝিলের জামান মানি চেঞ্জারের কর্মকর্তা রাসেল আহমেদ টিবিএসকে বলেন, ‘ডলার কিনতে ক্রেতা আসলেও আমরা নিজেরা সংগ্রহ করার মতো ডলার পাচ্ছি না।’

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ডলার কিনতে ২০ জন গ্রাহক আসলেও বিক্রি করার জন্য আসছেন ১০ জন। এসব কারণে ডলারের বাজারে একটা সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে দামও বাড়ছে।’

খবর নিয়ে জানা গেছে, শুধু ডলারই নয়, দাম বেড়েছে প্রায় সব ধরণের বৈদেশিক মুদ্রার। বুধবার মানি চেঞ্জারগুলো ২৬.৫০ টাকায় সৌদি রিয়াল কিনে বিক্রি করছেন ২৬.৮০ টাকায়। কয়দিন আগেও ২৫ টাকা রেটে রিয়াল কেনা যেতো। ভারতীয় রুপি বিক্রি হচ্ছে ১.৩০ টাকায়, কেনা হচ্ছে ১.২৬ টাকায়। গত সপ্তাহে ১.২৫ টাকায় রুপি বিক্রি করেছে মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া পাউন্ড, ইউরো, কানাডিয়ান ডলারসহ বাকি বৈদেশিক মুদ্রাগুলোরও দাম বেড়েছে কার্ব মার্কেটে।

আরও দেখুন:
ডলার সাশ্রয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৩ নির্দেশনা

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button