করোনা সংকটে ব্যাংকগুলোর নতুন আয়োজন

0

বিশ্ব অর্থনীতি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় থমকে গেছে ব্যাংকিং খাত। তাই করোনার আর্থিক ক্ষতি মোকাবেলায় নুতন করে ভাবছে ব্যাংকগুলো। সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংককে একেবারে নতুন খাতে ঋণ বিতরণের উদ্যোগ নিতে দেখা গেছে। ঋণের পাশাপাশি প্রন্তিক মানুষের পাশেও দাড়াচ্ছে ব্যাংকগুলো। এসব উদ্যোগের মধ্যে ঘি তৈরিতে দুগ্ধ চাষীদের মধ্যে ঋণ বিতরণ অন্যতম। এছাড়াও চিকিৎসকদের মধ্যে করোনা নিরাপত্তা সামগ্রী বিতরণ, দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ও বিনামূল্যে ধান কাটার যন্ত্র দিয়ে সাহায্য করে যাচ্ছে ব্যাংক।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, দুগ্ধ খামারিদের মাঝে দুধ থেকে ঘি বানানোর জন্য ঋণ বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রূপালী ব্যাংক। সহজ শর্তের ও স্বল্প সুদের এই ঋণ গ্রহণ করে দুগ্ধ খামারিরা উৎপাদিত দুধ থেকে ঘি বানিয়ে সংরক্ষণ করতে পারবে। যার ফলে তাদেরকে আর দুধ ফেলে দিতে হবে না।

ব্যাংক জানায়, বাংলাদেশে বর্তমানে ১২ লাখ দুগ্ধ খামারের সঙ্গে ১ কোটি মানুষ জড়িত। বছরে এসব খামারে প্রায় ১ কোটি মেট্রিক টন দুধ উৎপাদিত হয়। দুধের একটা বড় অংশ যায় প্রক্রিয়াজাতকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোতে। বাকি অংশ যায় মিষ্টির দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয়।

কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে সারাদেশ লকডাউন থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন দুগ্ধ খামারিরা। সারাদেশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দুধের চাহিদা একেবারেই নেই। তাই অধিকাংশ খামারিই তাদের উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে পারছেন না। ফেলে দিতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকার দুধ। সেই সঙ্গে গো-খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারিদের। এই অবস্থায় দুগ্ধ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে খামারিদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ।

ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ জানান, দুগ্ধ চাষীরা ছাড়াও আম, লিচু, সরিষা, আদা ও হলুদ চাষে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণ করব আমরা। অঞ্চলভেদে এই ঋণগুলো বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আম চাষে রাজশাহী, নওগা ও রংপুর এবং হলুদ চাষের জন্য খাগড়াছড়িতে ঋণ বিতরণ করবে রূপালী ব্যাংক। পাশাপাশি বান্দরবানের আদা চাষীরাও রূপালীর এই ঋণ পাবেন। সরিষা চাষে সারাদেশেই ঋণ বিতরণ করবে ব্যাংকটি।

অন্যদিকে, বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতিতে শ্রমিক সংকট কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধান কাটা মেশিন বিতরণ করলো ব্যাংক এশিয়া। কর্মকর্তাদের আর্থিক অনুদানে গঠিত তহবিল থেকে গত ৩০ এপ্রিল রাজশাহীর মন্ডুমালায় রাজশাহী ও নওগাঁ জেলার কৃষকদের মাঝে ৬টি ধান কাটার মেশিন বিতরণ করা হয়। একেকটি মেশিন প্রতি ঘন্টায় তিন বিঘা জমির ধান কাটতে সক্ষম।

গরিব দুঃখিদের পাশে দাড়াতে ১ দিনের বেতন প্রদান করেছে দি সিটি ব্যাংকের প্রতিটি কর্মী। পাশাপাশি সেখানে মোটা অংকের সাহায্য করেছে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। সারাদেশের আটটি সেন্টারে ২০ হাজার পরিবারের কাছে পাঠানো হয়েছে ত্রাণের ব্যাগ। প্রতিটি ব্যাগে রয়েছে ১০ কেজি চালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, যাতে ৫ জনের একটি পরিবারের মিলবে ৭ দিনের খাদ্য।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে মোটা অংকের অনুদান দিয়েছে প্রায় প্রতিটি ব্যাংক। খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকও সোখানে প্রতিটি কর্মীর একদিনের বেতন অনুদান হিসেবে পাঠিয়েছে।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ২৩ হাসপাতালে পিপিই, সার্জিক্যাল মাস্ক, কেএন-৯৫ মাস্ক ও হেডশিল্ড সরবরাহ করেছে এনআরবিসি ব্যাংক লিমিটেড। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও পুলিশদের মাঝেও নিরাপত্তা সামগ্রী বিতরণ করেছে ব্যাংকটি। এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার পিপিই, ৫ হাজার সার্জিক্যাল মাস্ক, ১ হাজার কেএন-৯৫ মাস্ক, ৮শ বিশেষ চশমা ও ১ হাজার ৫শ হেডশিল্ড সরবরাহ করেছে এনআরবিসি ব্যাংক।

-অর্থসূচক

Leave a Reply