করোনা ঝুঁকিতে ব্যাংকারদের জরুরি স্বাস্থ্য সরঞ্জাম সরবরাহ দরকার

0
406

সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। এতে আক্রান্ত হয়েছে বিশ্বের ১৬৫ দেশের মানুষ। ৮ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। বিশ্ব এখন অভাবনীয় অর্থনৈতিক মন্দামুখী।

আর্থিক খাতে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি সামাল দিতে বুক চিতিয়ে লড়ে যাওয়া মানুষদের মধ্যে ব্যাংকাররা অগ্রগণ্য। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি মাথায় নিয়ে দিব্যি লোকসমাগমে অফিস করে যাচ্ছেন ব্যাংকাররা। অথচ জোরেশোরে জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হলেও ব্যাংক বন্ধ রাখা যাচ্ছে না।

তাই অদ্ভুত এক বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে ব্যাংকের সাধারণ ব্যাংকিং সেবা দেওয়া কর্মকর্তারা। কিন্তু তাঁদের ঝুঁকি হ্রাসের পরিকল্পনা কি আছে?

টাকা নামক আজব কাগজে কার না স্পর্শ আছে? গভর্নর থেকে ক্যাশিয়ার, ধনী-গরিব-সচিব-মজুর সব মানুষের নোনা ঘাম মিলেমিশে হাতে হাতে প্রতিনিয়ত হাতবদল হওয়া আরাধ্য নোটগুলো চাইলেই স্পর্শ এড়াতে পারে না। কতজনের বুকপকেট আর লুঙ্গির কোঁচার টাকার নিরাপদ আশ্রয় হচ্ছে ব্যাংক। কত মানুষের থুতু ছিটানো নোটগুলো এহাত–ওহাত হয়ে দিন শেষে জমা পরে ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টারে।

সম্মানিত গ্রাহকদের সেবা দিতে তাই প্রত্যক্ষভাবে ব্যাংকের ক্যাশ অফিসাররা ছেঁড়া, ফাটা, নোংরা বা নতুন চকচকে নোটে হাতের পরশ বোলান। অথচ কে জানে কোনো নোটে লেগে আছে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির ভাইরাস জীবাণু? তাই ব্যাংকের ক্যাশ অফিসারদের প্রয়োজন বিশেষ স্বাস্থ্য সরঞ্জাম। হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্ক ছাড়া প্রতিনিয়ত সেবা দিয়ে যাওয়া এসব ব্যাংকাররা নিজের এবং পরিবারের সবার জন্য ভয়ংকর স্বাস্থ্যঝুঁকি বহন করছেন। কিছু কিছু বেসরকারি ব্যাংক এ ক্ষেত্রে সুনজর দিয়েছে।

বর্তমান সংকটে প্রতিটি ব্যক্তির নিজে ভালো থাকা মানেই প্রিয় দেশটাকে ভালো রাখার পথে বড় অবদান। তাই অতি সত্বর ব্যাংকারদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

*লেখক: বেলাল হোসেন, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের আইন কর্মকর্তা।