ব‌্যাংকার: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরাও ঝুঁকিভাতা ও প্রণোদনা প্রার্থী

0

ফ্যাক্ট-০১: ঈদুল আযহা বা কোরবানীর ঈদ, ব‌্যবসায়ীদের দা‌বি উঠল পশু বি‌ক্রির অর্থ ব‌্যাং‌কে জমা রাখ‌তে হ‌বে। সার্কুলার হল চাঁদ রাত অব‌ধি ব‌্যাং‌কের বি‌শেষ বি‌শেষ শাখা খোলা থাক‌বে। ঝু‌ঁকি মাথায় নি‌য়ে ব‌্যাংকাররা অ‌ফিস কর‌ছে। নি‌জে‌দের কোরবানীর গরু কেনার সময় নেই অথচ গ্রাহক‌দের গরু কেনার অর্থ ও গরু বি‌ক্রির অর্থ জমা উ‌ত্তোলন নি‌য়ে ব‌্যস্ত। ডাকাত পড়‌লো, ব‌্যাংক লুট হ‌লো, আবারও দায়ী সেই ব‌্যাংকাররা। ঠিকভা‌বে দা‌য়িত্ব পালন না কর‌তে পারার অ‌ভি‌যোগ। চাকু‌রি গেল, সন্তান ও প‌রিবার নি‌য়ে অসহায় জীবনযাপন। অন‌্য ব‌্যাংক ও চাক‌রি দেয়‌নি, ইনকম‌পি‌টেন্ট অ‌ফিসার।

ফ্যাক্ট-০২: ৩০‌ জুন, ৩১ জুলাই, ৩০ ন‌ভেম্বর সরকারী ছু‌টির দিন সার্কুলার হ‌লো সরকারী রাজস্ব আহরণের স্বা‌র্থে ট‌্যাক্স প্রদা‌নের জন‌্য ব‌্যাংকসমূ‌হের বি‌শেষ বি‌শেষ শাখা খোলা থাক‌বে। আমরাও ব‌্যাংক খু‌লে রাখলাম। অন‌্য প্রফেশ‌নের লোকজন যখন বাসায় প‌রিবা‌রের সা‌থে ছু‌টি কাটা‌চ্ছে তখন ব‌্যাংক‌ারা অর্থনীতির চাকা সচল রাখ‌তে সরকারী রাজস্ব আহরণের স্বা‌র্থে কাজ ক‌রে চল‌ছে। প‌রিবার সমাজ হ‌তে আমরা বি‌চ্ছিন্ন হ‌য়ে যা‌চ্ছি।

ফ্যাক্ট-০৩: শুক্র ও শ‌নিবার মি‌লি‌য়ে ঈ‌দের টানা ৯ দিন ছু‌টি হ‌য়ে গে‌ছে। ব‌্যবসায়ীরা দা‌বি জানাল বৈ‌দে‌শিক বাণিজ্য বাধাগ্রস্থ হ‌বে। দা‌বির প্রেক্ষি‌তে সার্কুলার হ‌লো তিন‌ দি‌নের বে‌শি ছু‌টি নয়। যথাযথ নিরাপত্তা গ্রহনপূর্বক ব‌্যাং‌কের বি‌শে‌ষ শাখা খোলা থাক‌বে। আমরাও ঈ‌দের আনন্দ জলাঞ্জ‌লি দি‌য়ে খোলা রাখলাম। যা‌দের আগে ঢাকা ছাড়ার টি‌কিট কাটা ছিল বা‌তিল বা অর্থ গচ্চা গেল। সবাই বা‌ড়ি যাওয়ার তোড়‌জোড় আর আমা‌দের ব‌্যাং‌কের দুয়ার খু‌লে গ্রাহক‌দের ‌সেবাদান চল‌ছে। জাতীয় দা‌য়ি‌ত্বের বিপরীতে আমা‌দের প‌রিবার সন্তান‌দের আশা আকাঙ্খার ব‌লিদান দি‌য়ে দিলাম।

ফ্যাক্ট-০৪: প্রতি‌দিন ভো‌রে সন্তানরা জে‌গে ওঠার আগেই আমরা বের হই। আর জাতীয় অর্থনী‌তির চাকা সচল রাখ‌তে অ‌লি‌খিত ৩-৪ ঘন্টা ওভারটাইম ক‌রে ক্লান্ত দে‌হে যখন বাসায় ফি‌রে ক‌লিং বে‌লে চাপ দিলাম তখন স্ত্রী দরজা খু‌লে অ‌ভিমানী চো‌খের ইশ‌ার‌া বেল না দি‌য়ে পারনা, বাবু ঘুম‌াচ্ছে। সন্তান আর এ ব‌্যাংকার প্রাণীদের মা‌ঝে বিস্তর দুরত্ব। অ‌নেক ব‌্যাংকার‌কে না‌কি সন্তানরা বাবা ডাক‌তেই ভু‌লে গে‌ছে।

ফ্যাক্ট-০৫: আস‌লো করোনা আতঙ্ক, আবা‌রো ডাক্টার, পু‌লিশ, হস‌পিটাল, মি‌ডিয়া ও আমরা দা‌য়িত্ব পালন কর‌ছি। আমরা টাকা গুন‌ছি, প্রতি‌দিন শত শত গ্রাহকের সংস্প‌র্শে আস‌ছি, চীন, ইতা‌লি, স্পেন, যুক্তরাজ‌্য, যুক্তরাষ্ট্র হ‌তে আসা আমদানীর ডকু‌মেন্ট স্পর্শ কর‌ছি প্রতি‌নিয়ত। হয়ত হ‌্যান্ড গ্লাভস, ম‌াস্ক ও হ‌্যান্ড স‌্যা‌নিটাইজার ব‌্যবহার কর‌ছি। তবে কোভিড-১৯ যতটা ছোঁয়াচে তা‌তে পি‌পি‌ই ছাড়া কতটুকু সুর‌ক্ষিত আমরা?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমা‌দের অ‌নেক ব‌্যাংকা‌রেরই ইন্সুরেন্স সু‌বিধা নেই, ঝুঁকি ভাতা নেই, পেনশন নেই। আমা‌দের অনে‌কের সন্তানরা এখনও একলা চল‌তে শেখার বয়স হয়‌নি।

সবাই যখন এই ভয়াল দুঃসম‌য়ে ঘ‌রে তখন আমরা অর্থনী‌তির স্বা‌র্থে বাই‌রে, অ‌ফিস কর‌ছি হাজা‌রো মানু‌ষের ভি‌ড়ে। প্রতি‌দিন বের হই আর ফেরার সম‌য়ে ভা‌বি এই‌ কি কোভিড-১৯ এর বাহক হ‌য়ে সন্তান বা স্ত্রীর কা‌ছে বাসায় ফির‌ছি?

হয়ত বি‌জিএমএ, বিকেএমএ, বি‌টিএমএ এর মত শ‌ক্তিশালী ফোরাম আমা‌দের নেই, ত‌বে আমরাও দে‌শের অর্থনী‌তির ভিত ঠিক রাখ‌তে এই দুঃসম‌য়ে লড়াই ক‌রে যা‌চ্ছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা চ‌লে গে‌লে আমা‌দের অ‌নে‌কের সন্তান ও প‌রিবার অসহায় হ‌য়ে পড়‌বে। তাই আমা‌দের জন‌্য কিছু করুন, আপনার তহ‌বিল হ‌তে ব‌্যাংকার‌দের জন‌্য একটি ঝু‌ঁকি তহ‌বিল গঠন করুন, আমা‌দের প‌রিবার ও সন্তান‌দের আর্থিক নিশ্চয়তা দিন।

লেখক: আতিকুর রহমান, ব্যাংকার।