ব্যাংক লুটেরা কার জামাতা?

0

১৮০০ টাকার কৃষি ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ায় ব্যাংকের দেওয়া মামলায় মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় পুলিশ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় প্রায় সত্তরের প্রৌঢ় এক কৃষককে। আশির দশকের ঘটনা। আমি তখন ফরিদপুরের নিজ গ্রামের স্কুলে পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ি। নিজেদের বাড়ির ওপরে মসজিদ, সেই মসজিদের একজন মুসল্লিকে আমাদের চোখের সামনে পুলিশ যেভাবে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যায় সেটি কখনোই ভুলবার নয়। পরে মুরব্বিদের কাছে শুনেছি যে সামান্য টাকার কৃষি ঋণ খেলাপি মামলায় পুলিশ প্রৌঢ়ের কোমরে দড়ি দিয়ে ওই গ্রেপ্তার কাণ্ড ঘটায়।

দিন বড্ড বদলেছে। এখন এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা ঋণ খেলাপিকেও অনায়াসে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভুয়া কাগজে, অসম্পূর্ণ দলিলে কিংবা জাল জালিয়াতির মাধ্যমে হাজার, হাজার, শত শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে লোপাটকারী থাকেন বহাল তবিয়তে। কখনো সরকারি আনুকূল্যে রীতিমতো জামাই আদরে। আবার কখনো ব্যাংক কর্তৃপক্ষ, বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীকে ম্যানেজ করে খেলাপি নামধারী ব্যাংক লুটেরারা আইনের ফাঁক গলিয়ে বুক চিতিয়ে ঘুরে বেড়ান সর্বত্র।

বহুল প্রচারিত যুগান্তর পত্রিকার গত ১৩মে’র প্রধান শিরোনাম দেখে তো চক্ষু ছানাবড়া হওয়ার অবস্থা। বলে কি! ‘জালিয়াতি অর্থ পাচার প্রতারণার অভিযোগ, ফেঁসে যাচ্ছেন ব্যাংক মালিকদের বড় নেতা নজরুল ইসলাম মজুমদার’। প্রকাশিত ওই খবর অনুযায়ী বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সভাপতি ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার পদ পদবির ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে আমদানি রপ্তানির আড়ালে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন। ঋণ দেওয়া নেওয়াসহ নানাক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম করেছেন। এসবের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিবেদনে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা নাকি এখন ওইসব অনিয়মের তদন্ত করছেন। যদিও পত্রিকায় আলাদা বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএবি সভাপতি। তিনি দাবি করেছেন তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তিনি কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি করেননি।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবর সঠিক না-কি বিএবি সভাপতির বক্তব্যই যথার্থ এটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য নিশ্চিয়ই পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করা উচিত। কিন্তু অর্থপাচার, ব্যাংক ঋণ নিয়ে নানামুখী অনিয়মের অভিযোগ মাথায় নিয়ে সকল বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদে থাকা কতখানি নৈতিক এই প্রশ্ন সঙ্গত কারণেই আসে। যে সংগঠনের শীর্ষ পদে থাকলে জাতীয় দুর্যোগসহ বিভিন্ন ইস্যুতে দেশের শীর্ষ নির্বাহীসহ নীতিনির্ধারকদের সংস্পর্শে অহরহ আসা যায় সেই সংগঠনের সভাপতির বিরুদ্ধে অর্থপাচার, ঋণ দেওয়া নেওয়ার অনিয়মের অভিযোগের সুরাহা জরুরি। এমনকী বিষয়টি সুরাহার পর প্রকাশ্য করা উচিত। কারণ আমি মনে করি, এখানে মারাত্মকভাবে জনস্বার্থ জড়িত রয়েছে। বিষয়টি ঝুলে থাকলে নানামুখী গুজবের ডালপালা গজাবে। যা সরকারের নীতিনির্ধারকদের জন্যও বিব্রতের কারণ হতে পারে।

‘পাবলিক মানি’ কিভাবে লোপাট হয়ে যায় ব্যাংক থেকে? কিভাবে লুটেরারা রাষ্ট্রীয় আনুকূল্য পায় বছরের পর বছর এই যাদুমন্ত্র জানতে বড্ড ইচ্ছে করে। সরকারি মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকের পকেট ফাঁকা করে দিয়ে ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চু দিব্যি রেহাই পেয়ে যান! অপার বিস্ময়ে আমাদের দেখতে হয় শত শত কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারিতে জড়িত বাচ্চুর ‘সম্পৃক্ততা’ খুঁজে পায় না তদন্ত সংস্থা। এমনকী তার সম্পদের অনুসন্ধানও হয় না। দেশে-বিদেশে এই বাচ্চুরা প্রকা্শ্য আলিশান জীবন-যাপন করে আঙুল তুলে দেখিয়ে দেন ব্যাংক লুট করে জামাই আদর পাওয়াও সম্ভব।

খুবই বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানি, টঙ্গীতে ভাঙ্গারির ব্যবসা করতেন জনতা ব্যাংক থেকে ৫ হাজার কোটিরও বেশি টাকা ঋণ নেওয়া টেক্সটাইল খাতের ব্যবসায়ী এননটেক্স কর্ণধার ইউনুস বাদল। জনতা ব্যাংকের এক সময়ের চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ আবুল বারকাতের একচেটিয়া আশীর্বাদ পেয়ে, ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা পূরণ না করেও একের পর এক প্রতিষ্ঠানের নামে ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন। আ.হ.ম মোস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) দেশের অর্থমন্ত্রী হওয়ার পর সংসদে দেশের শীর্ষ ২০ জন ঋণ খেলাপির যে তালিকা প্রকাশ করেছিলেন তাতে সবার উপরে ছিল এননটেক্স গ্রুপের নাম। ইউনুস বাদলের মতো একজন ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীকে এইভাবে দু’হাতে তুলে আবুল বারকাতের মতো শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব সমর্থন জানিয়েছিলেন তা নিয়ে এক সময় হয়তো বিস্তর গবেষণা হবে। তবে এটুকু খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, ইউনুস বাদলের সঙ্গে অংশীদারিত্বে আবুল বারকাতের কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িয়ে আছেন। ইউনুস বাদলের এননটেক্স গ্রুপ জনতা ব্যাংকের একক সর্বোচ্চ ঋণধারী ব্যবসায়ী হওয়ার মতো কোনো প্রোফাইল না হওয়া সত্ত্বেও বারবার যেসব সুবিধা পেয়েছেন তার অন্তরালে আসলে কী ছিল এ নিয়ে কোনো তদন্ত হয়েছে? আমরা জানি না। এটা কীসের বার্তা?

চট্টগ্রামের ক্রিস্টাল গ্রুপ কর্ণধার মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিম ও তাঁর স্ত্রী মাহজাবিন মোর্শেদ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশে পালিয়া আছেন। বিভিন্ন সময় ঋণ খেলাপি হওয়ার পরেও মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিম একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের বাংলাদেশি চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হওয়ার ক্ষেত্রে কিভাবে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নিরাপত্তা ছাড়পত্র জোগাড় করেছিলেন আজও তা বিস্ময়। ব্যাংক ঋণের টাকায় প্রয়াত এইচ এম এরশাদকে খুশি করে মাহজাবিন মোর্শেদ দু’বার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে জাতীয় পার্টির টিকিট জোগাড় করেছিলেন না-কি তাঁর সত্যিকার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারই মূল কারণ ছিল তা নিয়ে নানা মুখরোচক আলোচনা সবসময়েই ছিল। স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা হয়ে রাজনীতিতে কতখানি দাগ কাটতে পেরেছেন সেটি কোটি টাকার প্রশ্ন। কিন্তু ব্যাংক ঋণ খেলাপি হয়ে দিব্যি আছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

উদ্যোক্তা পরিচালকদের একাংশের সীমাহীন লোভ, ঋণ বিতরণে একচেটিয়ে প্রভাব বিস্তার আর অনিয়মের কারণে একটি ব্যাংক যে কিভাবে ডুবে যেতে পারে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ সাবেক ফারমার্স ব্যাংক। উদ্যোক্তা নামধারী একাংশের লুটেরা চরিত্রের কারণে শুরুতেই হোঁচট খাওয়া ফারমার্স ব্যাংক নাম পরিবর্তন করে পদ্মা ব্যাংক হয়েছে ঠিকই কিন্তু গ্রাহকের, জনসাধারণের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে কি? ফারমার্স ব্যাংকের শত শত কোটি টাকা ভুয়া গ্রাহক, ভুয়া কাগজের মাধ্যমে যারা লুট করলেন তাদের নেপথ্যে আসলে কারা? কী তাদের প্রকৃত পরিচয়? ব্যাংকটি পরিচালনায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ, ব্যাংকের উদ্যোক্তা, প্রথম চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী, সচিব ও বর্তমান সাংসদ মহিউদ্দিন খান আলমগীর কেন তদন্তের আওতায় আসলেন না ব্যাংক পাড়ায় এটি এখনো অনেক বড় প্রশ্ন?

রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সোনালী , জনতা, অগ্রণী, রুপালী ব্যাংক ফারমার্স ব্যাংকের নতুন নামাঙ্কৃত পদ্মা ব্যাংকে যে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করলো এই টাকা কার? ‘পাবলিক মানি’ নিয়ে এভাবে নয়ছয় করে অপরাধী চক্র পার পায় কী করে? এই প্রশ্নের উত্তর কি মিলবেনা ?

হাজার কোটি ব্যাংক ঋণ নিয়ে বিদেশে পাচার করা ক্রিসেন্ট গ্রুপ কর্ণধারদের খুঁটির জোর আসলে কী ? অর্থপাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা ক্রিসেন্ট গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার আবদুল কাদের জেল হাজতে ঠিকই কিন্তু আরেক কর্ণধার আবদুল আজিজ সিনেমা প্রযোজনার অজুহাতে সমাজের প্রতিষ্ঠিত, প্রভাবশালীদের সাথে যেভাবে বিভিন্ন সময় ওঠাবসা করেন, করেছেন তা আসলে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানোরই সমান।

জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে নিয়েছে যেসব তথাকথিত শিল্প ও ব্যবসায়ী গ্রুপ তারাই ব্যাংকে টাকা ফেরত না দিয়ে দেশের বাইরে পাচার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের ২৩ জুন জাতীয় সংসদে দেশের শীর্ষ যে ৩০০ ঋণ খেলাপিদের তালিকা প্রকাশিত হয় তার অধিকাংশই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ছলেবলে কৌশলে ব্যাংক থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সোনালী ব্যাংকের বহুল আলোচিত হলমার্ক গ্রুপ যেমন এই তালিকায় আছে। তেমনি আছে বিসমিল্লাহ গ্রুপ, রানকা সোহেল গ্রুপ, এমারেল্ড অয়েল, ডেল্টা সিস্টেমস, মাহিন এন্টারপ্রাইজ, ওয়েল টেক্স, এ আর এস এস এন্টারপ্রাইজ, আরকে ফুড, টেকনো ডিজাইন অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট প্রমুখ।

বছরের পর বছর আমরা অবাক হয়ে লক্ষ্য করি এক শ্রেণির অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তার যোগসাজসে অনেক কাগুজে প্রতিষ্ঠান ঋণের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকের সুদহার, ঋণ-আমানত (এডিআর) অনুপাত সব কিছুর ওপর প্রভাব পড়ছে। এসব ঋণখেলাপি এবং ক্ষেত্রবিশেষে ব্যাংক লুটেরাদের ক্ষেত্রে সরকারের যে পরিমাণ কঠোর, কঠিন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সেখানে ধীরে চলো নীতি দেখতে পাই আমরা। অনেক ধরনের জল্পনা, কল্পনার ডালপালা জন্ম নেয় এ কারণে। আরও কয়েকটি উদাহরণ দেই। ভুয়া আমানত দিয়ে সক্ষমতার কয়েকগুণ ঋণ হাতিয়ে নেয় চট্টগ্রামের এস এ গ্রুপ। বিভিন্ন ব্যাংকে এই গ্রুপের দেনা প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। হ্যাঁ, ঋণখেলাপির মামলায় পুলিশ এস এ গ্রুপের কর্ণধার শাহাবুদ্দিন আলমকে গ্রেপ্তার করেছে। ওই পর্যন্তই। টাকা উদ্ধারে আর কোনো কার্যকর ব্যবস্থা কি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিতে পেরেছে? পারেনি। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সুবিধায় এস এ গ্রুপ ৯২৮ কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠন করলেও তার এক টাকাও পরিশোধ করেনি।

অন্যদিকে ভুয়া রপ্তানিসহ নানা উপায় জনতা ব্যাংক থেকে বিতর্কিত ক্রিসেন্ট গ্রুপের পাঁচ প্রতিষ্ঠান ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। বিস্ময়করভাবে ক্রিসেন্ট গ্রুপের অন্যতম কর্নধার আবদুল আজিজকে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগও করে দেওয়া হয়। এ বি ব্যাংকের আলোচিত গ্রাহক মাহিন এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী আশিকুর রহমান লস্কর ভুয়া জামানত দিয়ে ৮২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। পানামা ও লাইবেরিয়ায় অর্থপাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এমন ভুরি ভুরি উদাহরণ দেওয়া যাবে।

প্রশ্ন হলো, এসব ভুয়া ব্যাংক লুটেরাদের হাত থেকে টাকা উদ্ধারে সরকারের পদক্ষেপ কতখানি কার্যকর ফল দিয়েছে। আমরা তো দেখি, এই ব্যাংক লুটেরারা বুক ফুলিয়ে দেশে অথবা বিদেশে ঘুরে বেড়ায়। প্রকৃত ঋণ পাওয়ার উপযোগী ব্যাংক গ্রাহক, ব্যবসায়ী যখন দ্বারে দ্বারে ঘুরেও পুঁজি সংগ্রহে ব্যর্থ হয় তখন ব্যাংক লুটেরাদের কাছে কার্যত নতি স্বীকার করে কী প্রমাণ করে রাষ্ট্রযন্ত্র?

সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক খুবই যুক্তিসঙ্গত একটি দাবি তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ব্যাংকিং খাতে লুটপাট করে যারা সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, করোনায় বিপন্ন মানুষের পাশে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সময় এসেছে লুটেরাদের সম্পদ জব্দ করে করোনা ভাইরাসের কারণে বিপদে পড়া মানুষের কল্যাণে ব্যয় করার। আর লুটেরাদের সম্পদ জব্দে আইনেও কোনো বাধা নেই। আমি মনে করি, এটি খুব ভালো একটি প্রস্তাব। এতে অন্তত দেশের মানুষের উপকার হবে।

গত সাত বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সোনালী ব্যাংকের এক টাকাও ফেরত দেয়নি বহুল বিতর্কিত হলমার্ক গ্রুপ। হলমার্ক গ্রুপের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার কারণে দেশের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী ব্যাংক রীতিমতো ধুকছেও। প্রতি মাসে ১০০ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধের শর্তে সোনালী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে জামিন পেয়েছিলেন হলমার্কের জেসমিন ইসলাম। কিন্তু ব্যাংকে কোনো টাকাই জমা দেননি। কী ব্যবস্থা নিতে পেরেছে সরকার বা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ?

বড় অংকের ঋণে যে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি দুর্বল তা একেরপর এক কেলেঙ্কারিতে প্রমাণিত। ব্যাংক লুটেরাদের বিরুদ্ধে কার্যকর, উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলে এভাবে একের পর এক কেলেঙ্কারি ঘটতো না। কিন্তু সেরকম শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয় না, কেন? ব্যাংক লুটেরারা কার জামাতা? ‘পাবলিক মানি’ লুটকারীদের বিচারে প্রয়োজনে পৃথক আইন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল চাই।

লেখক: আরিফুর রহমান দোলন, সম্পাদক, দৈনিক ঢাকা টাইমস, ঢাকা টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম এবং সাপ্তাহিক এই সময়।

Leave a Reply