৭ ব্যাংকের উল্টোযাত্রা

0

ব্যাংকগুলো সাধারণত যে সুদে আমানত সংগ্রহ করে তার চেয়ে বেশি সুদে ঋণ বিতরণ করে থাকে। এতে করে যে মুনাফা হয় সেটা দিয়েই ব্যাংক পরিচালিত হয়। কিন্তু সাতটি ব্যাংক এর উল্টোপথে হাঁটছে। ব্যাংকগুলো যে সুদে আমানত সংগ্রহ করেছে তার চেয়ে কম সুদে ঋণ বিতরণ করেছে। এতে করে স্প্রেড হার (ঋণ ও আমানতের সুদ হারের ব্যবধান) ঋণাত্মক দাঁড়িয়েছে। এছাড়া স্প্রেড সীমা মানছে না ১১ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আমানতের সংগ্রহের চেয়ে কম সুদে ঋণ বিতরণ করছে রাষ্ট্রায়ত্ব বেসিক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লি. (বিডিবিএল), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক। বিদেশি মালিকানাধীন ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। বেসরকারি মালিকানাধীন ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামী ব্যাংক।

জুলাই মাসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বেসিক ব্যাংক লিমিটেড আমানত সংগ্রহ করছে ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ হারে এবং ঋণ বিতরণ করছে ৪ দশমিক ২৯ শতাংশ হারে। এতে করে ব্যাংকটির স্প্রেড হার দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১ দশমিক ৮৪। বিডিবিএল ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ সুদে আমানত সংগ্রহ করে ঋণ বিতরণ করছে ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ সুদে। অর্থাৎ ব্যাংকটির স্প্রেড হার ঋণাত্মক দশমিক ১ শতাংশ। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক আমানত সংগ্রহ করেছে ৭ দশমিক ৭০ শতাংশে এবং ঋণ বিতরণ করেছে ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশে। এতে করে ব্যাংকটির স্প্রেড হার ঋণাত্মক ৩২ শতাংশ। ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ২ দশমিক ৮৩ শতাংশ হারে আমানত সংগ্রহ করে বিতরণ করেছে দশমিক ৩১ শতাংশ হারে। ব্যাংকটির স্প্রেড হার ঋণাত্মক ২ দশমিক ৫২ শতাংশ। যে সুদে আমানত সংগ্রহ করেছে সে সুদে ঋণ দিয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটি আমানত সংগ্রহ করেছে ৭ শতাংশে আর ঋণ বিতরণ করেছে ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশে। ব্যাংকটির স্প্রেড মাত্র শূন্য ৫ শতাংশ। এতে করে ব্যাংকটির লোকসানের পাল্লা ভারি হবে।

বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক আমানত সংগ্রহ করেছে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ আর বিতরণ করেছে ৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশে। ব্যাংকটির স্প্রেড হার ঋণাত্মক ৩২ শতাংশ। আইসিবি ইসলামী ব্যাংক আমানত সংগ্রহ করেছে ২ দশমিক ৪২ শতাংশে আর ঋণ বিতরণ করেছে ১ দশমিক ৫১ শতাংশে। ব্যাংকটির স্প্রেড সীমা দশমিক ৯১ শতাংশ।

এদিকে ঋণ ও আমানতের সুদহার (স্প্রেড সীমা) ৪ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে না বিদেশি এবং বেসরকারি মালিকানাধীন ১১ ব্যাংক। ব্যাংক ও তাদের স্প্রেড সীমা হলো- স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড চাটার্ড ব্যাংকের স্প্রেড হার ৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ, সিটি ব্যাংক এন.এ ৭ দশমিক ১২ শতাংশ, কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন এর স্প্রেড হার ৪ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, উরি ব্যাংকের ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ, দ্য হংকং সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশনের ৪ দশমিক ৭১ শতাংশ, ব্যাংক আল-ফালাহ ৪ দশমিক ২২ শতাংশ, সীমান্ত ব্যাংক ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ, ডাচ বাংলা ব্যাংকের ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ, ব্র্যাক ব্যাংক ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং কম্যুনিটি ব্যাংকের স্প্রেড হার ৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ব্যাংকের স্প্রেড কোনভাবেই ঋণাত্মক হওয়ার কথা না। তবে যে ব্যাংকগুলো ঋণাত্মক তাদের খেলাপি ঋণ ৮০ শতাংশ থেকে শতভাগও রয়েছে। বেশি সুদে আমানত নিয়ে সে ঋণ খেলাপি হওয়ায় ঋণাত্মক হয়েছে। এ থেকে উত্তরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব ব্যাংকগুলো বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছে।

Leave a Reply