লকডাউনে সীমাহীন ভোগান্তিতে ব্যাংকের কর্মকর্তারা

0
Banker in Lockdawon

কঠোর লকডাউন চলাকালে রাজধানীর চাকরিজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তাদের কেউ কেউ মাইলের পর মাইল হেঁটে অফিসে পৌঁছেছেন। কেউবা রিকশায় চড়ে স্বাভাবিকের চেয়ে পাঁচ ছয় গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে অফিসে এসেছেন। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধান কার্যালয়ের গুটিকয়েক কর্মকর্তা গাড়ি সুবিধা পেলেও শাখা পর্যায়ের কোনও কর্মকর্তা-কর্মচারীকেই যাওয়া-আসার জন্য গাড়ি বা যানবাহন দেওয়া হয়নি। কিন্তু সকাল ১০টার আগেই সবাইকে অফিসে হাজির হতে হয়েছে।

বিশেষ করে, মতিঝিল এলাকার যেসব কর্মকর্তা মিরপুর, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া, নারায়ণগঞ্জ এলাকায় থাকেন তারা পড়েছেন বিপাকে। অনেকেই অফিস করার জন্য ভোরে হেঁটে রওনা দিয়েছেন। অথবা রিকশায় চড়ে ভেঙে ভেঙে অফিসে এসেছেন। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৩ এপ্রিল মঙ্গলবার জারি করা সার্কুলারে উল্লেখ করেছে, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ব স্ব অফিসে আনা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কেরানীগঞ্জ থেকে আসা বেসরকারি ডাচবাংলা ব্যাংকের কর্মী ফতেহউল্লাহ বলেন, কেরানীগঞ্জে নিজের বাসা থেকে সকাল ৭টার দিকে রওনা দেই। ভোগান্তি মাথায় নিয়ে রিকশা ও হেঁটে হেঁটে সকাল সাড়ে ৯টায় অফিসে এসে পৌঁছেছি।

এ প্রসঙ্গে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের মতিঝিল শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, তিনি যাত্রাবাড়ী থেকে হেঁটে অফিসে এসে পৌঁছেছেন। তার সহকর্মীরাও কেউ হেঁটে অথবা কেউ চার পাঁচ গুণ রিকশাভাড়া দিয়ে অফিসে এসেছেন। বাসা থেকে অফিস অথবা অফিস থেকে বাসায় যাওয়া আসার জন্য কোনও গাড়ি বরাদ্দ করা হয়নি বলেও জানান তিনি।

ধানমন্ডি শাখার বেসিক ব্যাংকের অফিসার সেলিম উদ্দিন বলেন, তিনি মিরপুরের বাসা থেকে বাইসাইকেল নিয়ে আজ অফিসে এসছেন। তবে তার সহকর্মীরা অফিসে আসতে চরম ভোগান্তির পোহাতে হয়েছে।

ব্যাংকগুলোর শাখা অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, রোস্টারিং করে কিছু কর্মকর্তা অফিসে ও কিছু কর্মকর্তাকে বাসায় বা হোম অফিস করার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ আছে। কিন্তু বাস্তবে এই নির্দেশনা কোনও কাজে লাগছে না। অর্থাৎ হেড অফিসের কিছু কিছু কর্মকর্তা হোম অফিস সুবিধা পেলেও শাখা পর্যায়ে সব কর্মকর্তাকে অফিস করতে হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় গতকাল ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত চলাচলে সর্বাত্মক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। সরকারের এই নির্দেশনাকে সায় দিতে গিয়ে প্রথমে ব্যাংক বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও পরে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিধিনিষেধ চলাকালেও সীমিত পরিসরে খোলা থাকার কথা বলা হয়। শুধু তাই নয়, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্ব স্ব অফিসে আনা -নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বেসরকারি একটি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের শাখা পর্যায়ে শত শত কর্মকর্তা পাবলিক পরিবহনে চড়ে এতদিন অফিস করতেন, তারা বিপাকে পড়েছেন। হঠাৎ করে তাদের জন্য এতো যানবাহনের ব্যবস্থা করা অতটা সহজ নয়। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংক খোলা রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ভোগান্তি মাথায় নিয়েই অফিসে আসতে হচ্ছে। তবে যেসব কর্মকর্তার গাড়ি আছে, তারা মুভমেন্ট পাস নিয়ে অফিসে এসেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করে সবকিছু পরিষ্কার করে দিয়েছে। ব্যাংকগুলো রোস্টারিং করে অফিস পরিচালনা করবে। আর যাদের অফিসে আসতেই হবে অবশ্যই স্ব-স্ব ব্যাংক তাদের তাদের কর্মকর্তাদের যাওয়া আসার ব্যবস্থা করবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, খোলা রাখা শাখার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করে রোস্টারিং এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ও সীমিত লোকবলের দ্বারা ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে হবে। আর ১৪ এপ্রিল হতে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া দৈনিক ব্যাংকিং সময়সূচি হলো সকাল ১০ টা হতে দুপুর একটা পর্যন্ত। তবে আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা ও প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ প্রয়োজনে ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত খোলা রাখতে পারবে।

আরও পড়ুনঃ
লকডাউনে যে নিয়মে চলবে ব্যাংক
ব্যাংক খোলা নিয়ে তোঘলকি, করোনাজয়ী ব্যাংকাররাই!!!
পরিবহনের ব্যবস্থা না রেখেই ব্যাংক ও কারখানা খোলা!

Leave a Reply