সিগারেট না পেয়ে করোনা আক্রান্ত ব্যাংক কর্মকর্তা বাজারে

0

যশোরের চৌগাছায় করোনা আক্রান্ত এক ব্যাংক কর্মকর্তা লকডাউন উপেক্ষা করে সিগারেট খেতে ও বাজার করতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন শহরজুড়ে। এতে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে গিয়ে নমুনা দেন ‘ওয়ান ব্যাংকে’র চৌগাছা শাখার কর্মকর্তা ওয়াহিদুজ্জামান শিপন। শনিবার যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনোম সেন্টারে পরীক্ষায় তার করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে।

রোববার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোছা. লুৎফুন্নাহার লাকি, হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ও করোনা বিষয়ক ফোকাল পয়েন্ট ডাক্তার মাসুম বিল্লাহ রোববার বেলা ১১ টার দিকে তার চৌগাছা শহরের আম্রকানপাড়ার ‘পূর্বাশা’ নামের ভাড়া বাড়ি লকডাউন করেন।

বাড়ির মালিকের অনুরোধে শুধুমাত্র তিনতলার ওয়াহিদুজ্জামান শিপনের ফ্ল্যাটটি লকডাউন করা হয় এবং ওয়াহিদুজ্জামানকে তার বাসায় অবস্থান করতে নির্দেশনা দেয়া হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সতর্কতার পরও ওয়াহিদুজ্জামান নিয়মিত সিগারেট খেতে বাসা থেকে নেমে শহরে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকেও তিনি বাসা থেকে নেমে সিগারেট খেতে এবং আনুসাঙ্গিক দ্রব্যাদি কিনতে মহল্লার পাশেই চৌগাছা শহরের বিভিন্ন দোকানে যান।

জানাতে চাইলে ওয়াহিদুজ্জামান জবাব দেন, ‘বাইরে বের না হয়ে কি না খেয়ে মরব?’

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. মোছা. লুৎফুন্নাহার বলেন, রোববার তার বাড়ি লকডাউনের সময় বারবার সতর্ক করেছি। বয়স্ক ও অসুস্থ বাড়ির মালিকের অনুরোধে পুরো বাড়িটি লকডাউন করা হয়নি। এ বিষয়ে প্রশাসনের আরেকটু কড়া হওয়া দরকার।

মঙ্গলবার সকালে মোবাইল ফোনে ওয়াহিদুজ্জামান শিপনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার থেকে অসুস্থ বোধ করছি। এরপর বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দেই। রোববার আমার পজেটিভ রিপোর্ট আসে। তবে বর্তমানে সুস্থ আছি। জরুরি প্রয়োজনে ডিমসহ কিছু দ্রব্য কিনতে বাইরে বের হয়েছিলাম। তবে মাস্ক পরে বের হয়েছি। হ্যান্ড স্যানিটাইজারও ব্যবহার করছি।

এগুলোতে সংক্রমণ প্রতিরোধ হবে? আপনার সংস্পর্শে এসে অন্য কেউ পজিটিভ হলে দায়িত্ব কে নেবে? এর উত্তরে বাইরে বের হওয়া ভুল হয়েছে বলে তিনি শিকার করেন।

Leave a Reply