ব্যাংক ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ, ঋণখেলাপি অবশেষে বলির পাঁঠা!

0

মাথা ব্যাথা দুর করতে কি মাথাই কাটতে হবে? ব্যাংকে তারল্য প্রবাহ এবং ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং ব্যাংকের কস্ট অব ফান্ড বাড়ার অন্যতম কারণ এই খেলাপি ঋণ। ব্যাংকের ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা লাগতোনা যদি এই খেলাপি ঋণের পরিমান আকাশ ছোঁয়া না হতো। তাছাড়া এই ৯ শতাংশও করা হয়েছে একটা বিশেষ মহলের চাপে। আসলে তারাই বেশি লাভবান।

কারণ এই ‘নয়’ এর উদ্দেশ্য ছিল যারা ঋণ নিবেন তাদের ব্যবসার আর্থিক খরচ কমবে, ব্যবসার প্রসার হবে, লাভ বাড়বে, সরকার ট্যাক্স বেশি পাবে, নিয়োগ বাড়বে, নতুন ব্যবসার সম্প্রসারণ হবে; সবই খুব ভালো, মন্দের কিছু নেই। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। এখানে শুধুমাত্র ব্যবসায়িক সফলতার জন্য বা ঋণপ্রাক্তির যোগ্যতা থাকলেই ঋণ পাওয়া যায় না। ঋণ পেতে অন্যান্য যোগ্যতা, ওপর মহলের সঙ্গে যোগাযোগ ও বাড়তি টাকার সাহায্য লাগে। ফলে এই ‘নয়’ এর সুবিধা নিয়ে গায়েব হয়ে যায় কোটি কোটি টাকা। তাছাড়া Money siphon যে কত হয় সেটার কথা নাই বললাম। আর সেই দায়ভার এখন ব্যাংক কর্মীদেরই নিতে হলো।

কিন্তু এই কুড়ালটা মারার আগে অন্য অনেক উপায় ছিল ব্যায় কমানোর জন্য। আমার মনে হয় সেগুলো করলে অনেক ভালো ফল পাওয়া যেত। যেমনঃ

১. বিদ্যুৎ খরচের দুই-তৃতীয়াংশ খরচই হয় এসি চালানোর জন্য। তাই এসির ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি এর অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার রোধ করতে হবে। যেমন গরমের দিনেও স্যুট-ব্ল্যাজার পরে অফিসে এসে এসি ছেড়ে রাখার বিলাসিতা বর্জন করতে হবে।

২. ব্যাংকের স্টেশনারি খরচের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই খরচ হয় হিসাব খোলার ফরম, ঋণপ্রস্তাব, বিভিন্ন রিটার্ন ও বিবরণী ও অন্যান্য ডকুমেন্টস প্রিন্ট করতে। তাই পুরোপুরি ডিজিটাল হিসাব খোলার ফরম যেখানে গ্রাহকরা নিজেরাই নিজেদের তথ্যগুলো পূরণ করতে পারবে, ঋণপ্রস্তাব ও রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থা চালু করা গেলে প্রিন্টিং ও স্টেশনারি খরচ এক তৃতীয়াংশে নেমে আসবে।আর বাংলাদেশ ব্যাংকের ই-কেওয়াইসি বাস্তবায়নে ইস্টার্ন ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের মত ই-হিসাব চালু করা গেলে এ খরচ অনেক কমে যাবে।

৩.একের পর এক সার্কুলার প্রিন্ট করে নথিভুক্ত না করলে অডিট আপত্তি উত্থাপিত হয়। ফলে কেও না পড়লেও সার্কুলারটি প্রিন্ট দিয়ে নথিতে রাখতে হয়। এতেও অনেক কাগজ খরচ হয়। এ ধারণা থেকে বেরিয়ে সকল সার্কুলার ব্যাংকের ওয়েবসাইট বা অভ্যন্তরীণ লিংকে আপলোড করে দিয়ে সবার জন্য এ্যাক্সেসিবল রাখতে হবে। বড় বা একাধিক পেজের কোনো ডকুমেন্ট প্রিন্ট দিলে উভয় পেজে প্রিন্ট দিতে হবে।

৪. তাছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারের কাছে সহযোগিতা চাইতে পারে। যেমন, ঋণের প্রভিশনে ছাড় চাইতে পারে, করপোরেট ট্যাক্সে ছাড় এবং পরিশোধে সময় চাইতে পারে।

৫. বছরান্তে এজিএমকে লক্ষ করে স্টেকহোল্ডারদের দেওয়ার জন্য উন্নত মুদ্রণে ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনের কয়েক হাজার কপি প্রিন্ট করা হয়। এ প্রতিবেদনের পাতা উল্টে যাওয়া ছাড়া সব পাতা পড়ে দেখে খুব কম সংখ্যক ব্যক্তিই। তাই এসব আর্থিক প্রতিবেদন মোটা বই আকারে প্রিন্ট না করে এবং পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ না করে ডিজিটাল কন্টেন্ট আকারে ব্যাংকের ওয়েবসাইটে আপলোড করার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে স্টেকহোল্ডারদের ইমেইলে পাঠিয়ে দিলে এখানেও কোটি টাকা সাশ্রয় হবে ব্যাংকের। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্দেশিত হতে পারে।

৬. এজিএমগুলোকে কোন বিলাসবহুল হোটেলে না করা। এইগুলোও virtually করতে হবে।

৭. Calender এবং Diary ছাপানোর খরচ কমানো যেতে পারে। আর Diary তে এখন কয়জনই বা লিখে।

৮. বিদেশী ট্যুর ও ট্রেনিং বাতিল করা। টিএ-ডিএ’র একটি বড় অংশ খরচ হয় ট্রেনিং ও ট্যুর বাবদ। তাই বিদেশি ট্যুর ও ট্রেনিং বাতিল করে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে স্থানীয় ট্রেনিং করার উপর জোর দেওয়া যেতে পারে। তাছাড়া ম্যানেজার বা অফিস প্রধানদের মাধ্যমেই তাদের অধীনস্ত কর্মীদের ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

৯. আপ্যায়ন খরচ আগামী দিনগুলোতে যতটা সম্ভব কৃচ্ছসাধন করতে হবে।

১০. পরিচালনা পর্ষদ/বোর্ড সভাগুলোর খরচ কমাতে হবে। প্রয়োজনে virtually করতে হবে।

১১. Corporate Social Responsibility এর নামে ৮-১০ কোটি টাকা দেয়ার practice বন্ধ করতে হবে।

১২. Paperless Banking এ এগিয়ে যেতে হবে।

১৩. গ্রাহকদের পুরোপুরি Internet Banking এর আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

এছাড়াও সব ধরনের স্থায়ী সম্পদ ও আইটি পণ্য ক্রয় বন্ধ রাখা , সব ধরনের অনুদান বন্ধ রাখা, পত্রিকা ও টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন প্রদান বন্ধ রাখা।

কার্টেসি: Mas IBBL

Leave a Reply