স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা পাননি করোনাক্রান্ত ব্যাংক কর্মীরা

0

কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ১৫ এপ্রিল ২০২০ তারিখ বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নং-১৮ এর মাধ্যমে দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকগণের উদ্দেশ্যে ব্যাংক কর্মীদের স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা এবং বিশেষ অনুদান প্রদানে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়। এতে সাধারণ ছুটিকালীন সময় কর্মস্থলে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালনকারী কোন কর্মী করোনাক্রান্ত হলে পদমর্যাদা ভেদে সর্বনিম্ন ৫ লক্ষ এবং সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা স্বাস্থ্য বীমা হিসেবে প্রদানের নির্দেশনা দেয়া হয়।

এছাড়া কোন কর্মীর করোনায় মৃত্যু হলে স্বাস্থ্যবীমা অংকের ৫ গুন বিশেষ অনুদান পরিবারকে দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। নির্দেশনা মোতাবেক অদ্যাবধি করোনাক্রান্ত কোন ব্যাংক কর্মীই স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা পাননি। বিশেষ অনুদানও পাননি করোনায় মারা যাওয়া ব্যাংক কর্মীদের পরিবার। এর ফলে বরাবরের মতই সুবিধাবঞ্চিত রয়ে গেল করোনাসংকটে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে ভূমিকা পালনকারী ব্যাংক কর্মী ও তাঁদের পরিবার।

উল্লেখ্য যে, দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে বেশ কয়েকদফা মেয়াদ বাড়িয়ে ৩১ মে পর্যন্ত প্রায় দুই মাসের বেশি সময়ের জন্য দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। দেশের সরকারি-বেসরকারি সব অফিস, আদালত উক্ত সময়ে বন্ধ রাখা হলেও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জরুরী সেবা প্রতিষ্ঠানের সাথে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে যোগদানসহ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে হয় ব্যাংক কর্মীদের। সাধারণ ছুটিকালীন দুই মাসেই আক্রান্ত হন প্রায় ৬ শতাধিক ব্যাংক কর্মী, আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৯ জন।

করোনা পরিস্থিতিতে কর্মীদের ঝুঁকি বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মীদের স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা ও করোনায় মৃত্যুর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বিশেষ অনুদান প্রদানের নির্দেশনা দিলেও তা বাস্তবায়নে আন্তরিক নয় ব্যাংকগুলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বিষয়টিকে সার্কুলার জারির মাধ্যমে কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ রেখে দেয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা দেশের সীমানায় থাকা ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করেছে কিনা সেই বিষয়ে খোঁজ রাখার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হলেও ক্ষেত্র বিশেষে নিরব ভূমিকা পালনের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ নজরদারি না থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনেক প্রশংসনীয় উদ্যোগ এখনো সার্কুলার সর্বস্ব রয়ে গেছে বলে জানা যায়।

স্বাস্থ্য বীমা ও বিশেষ অনুদান সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপরোক্ত নির্দেশনায় সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়, ন্যূনতম যৌক্তিক সময়ের মধ্যে(আক্রান্ত হওয়ার সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে) স্বাস্থ্য বীমার অর্থ প্রদান করতে হবে এবং আক্রান্ত কর্মীর সার্বিক চিকিতসার প্রকৃত ব্যয় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক বহন করতে হবে। এতে আরো উল্লেখ করা হয়, সাধারণ ছুটির সময় দায়িত্ব পালনের কারণে করোনাক্রান্ত হয়ে দুর্ভাগ্যবশত কোন ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনাকাঙ্খিত মৃত্যু হলে বিশেষ স্বাস্থ্য বীমার জন্য নির্ধারিত অংকের ৫(পাঁচ) গুন বিশেষ অনুদান সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক তাঁর পরিবারকে প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে নিহত কর্মীর অন্য কোন দায়-দেনার সাথে এ বিশেষ অনুদান সমন্বয় করা যাবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগটি সেই সময় ব্যাপক প্রশংসিত হলেও প্রকৃতপক্ষে অদ্যাবধি তা আলোর মুখ দেখেনি। বিশেষ তদারকিও করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। করোনা পরিস্থিতিতে নানামুখী সংকটের কারণে সামগ্রিক অর্থনীতি যখন প্রায় ভঙ্গুর, তখন অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সরকার ঘোষিত নানামুখী পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যাংক কর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরী। এ লক্ষ্যে কর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা থাকলেও বিভিন্নভাবে সুবিধাবঞ্চিত করার ফলে নিরুতসাহিত বোধ করতে পারেন ব্যাংকাররা।

সম্প্রতি ব্যয় সংকোচন ও ব্যবসায়িক ক্ষতি পোষাণোর ছুঁতোয় বেশকিছু ব্যাংকে কর্মী ছাঁটাই, কর্মীদের বেতন কমানো, বেতন-ভাতা প্রদান স্থগিত, পদোন্নতি ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট না দেয়ার ফলে ব্যাংক কর্মীদের মাঝে মারাত্মক হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এমনসব অযাচিত সিদ্ধান্ত রুখতে সুস্পষ্ট কোন ভুমিকাও রাখছেনা কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এভাবে চলতে থাকলে ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যত মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখিন হতে পারে বলে আশঙ্খা করেছেন এই খাতের সংশ্লিষ্টরা ।দি ব্যাংকার বাংলাদেশ।

Leave a Reply